21 C
London
September 30, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

ব্রিটেন-ন্যাটোর বিরুদ্ধে রাশিয়ার পারমাণবিক হুঁশিয়ারিঃ কালিনিনগ্রাদ ঘিরে বাড়ছে উত্তেজনা

কালিনিনগ্রাদে ব্রিটেন বা ন্যাটোর সামরিক পদক্ষেপ হলে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের হুঁশিয়ারি দিয়েছে রাশিয়া। ২৯ সেপ্টেম্বর লন্ডনে অবস্থিত রুশ দূতাবাসের এক বিবৃতিতে বলা হয়, রাশিয়ার ভূখণ্ডের বিরুদ্ধে ব্রিটিশ বা ন্যাটোর যেকোনো সামরিক পদক্ষেপের জবাব মস্কো তার হাতে থাকা সব উপায়ে দেবে—যার মধ্যে পারমাণবিক অস্ত্রও রয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আনাদোলু এজেন্সি ও ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি মিরর এ তথ্য জানিয়েছে।

রুশ দূতাবাসের এই সতর্কবার্তা এসেছে কালিনিনগ্রাদকে সম্ভাব্য ন্যাটো অবরোধ বা সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত আলোচনা এবং স্কাই নিউজের সাম্প্রতিক ‘দ্য ওয়ারগেম’ নামের মিনি-সিরিজকে কেন্দ্র করে।

রুশ দূতাবাসের বিবৃতিতে বলা হয়, কালিনিনগ্রাদ অবরোধ বা সেখানে হামলার পরিকল্পনা নিয়ে যারা আলোচনা করছেন, তাদের এমন পদক্ষেপের পরিণতি সম্পর্কে কোনো বিভ্রান্তি থাকা উচিত নয়। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, রাশিয়ার ভূখণ্ডের বিরুদ্ধে ব্রিটেন বা ন্যাটোর সামরিক পদক্ষেপ হলে মস্কো তার হাতে থাকা ‘সব উপায়’ ব্যবহার করে জবাব দেবে।

তবে রাশিয়ার বিবৃতিটি কোনো বাস্তব সামরিক হামলার ঘোষণা নয়। বরং কালিনিনগ্রাদকে ঘিরে সম্ভাব্য সামরিক পরিস্থিতি নিয়ে প্রকাশিত আলোচনা ও একটি কাল্পনিক টেলিভিশন অনুষ্ঠানের প্রেক্ষাপটে দেওয়া সতর্কবার্তা।

বাল্টিক সাগরের তীরে অবস্থিত কালিনিনগ্রাদ রাশিয়ার মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন একটি রুশ অঞ্চল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর অঞ্চলটি সোভিয়েত ইউনিয়নের নিয়ন্ত্রণে আসে। বর্তমানে এটি রাশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ সামরিক অবস্থানগুলোর একটি এবং সেখানে রুশ বাল্টিক নৌবহরের ঘাঁটি রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

কালিনিনগ্রাদকে ঘিরে সম্ভাব্য সংঘাতের আলোচনায় পোল্যান্ড ও লিথুয়ানিয়ার মধ্যবর্তী সুওয়ালকি গ্যাপ বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। এই সীমান্ত এলাকা কালিনিনগ্রাদকে বেলারুশের সঙ্গে সংযোগকারী গুরুত্বপূর্ণ ভূখণ্ড হিসেবে বিবেচিত হয়।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম আই পেপারের একটি প্রতিবেদনে কালিনিনগ্রাদকে রাশিয়ার একটি কৌশলগত দুর্বলতা হিসেবে তুলে ধরে সেখানে সম্ভাব্য ন্যাটো অবরোধ বা সামরিক পদক্ষেপের বিষয়টি আলোচনা করা হয়েছিল। রুশ দূতাবাসের বিবৃতিতে ওই প্রতিবেদনটিরও উল্লেখ করা হয়।

রুশ দূতাবাসের বিবৃতিতে স্কাই নিউজের সাম্প্রতিক মিনি-সিরিজ ‘দ্য ওয়ারগেম’-এর কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। অনুষ্ঠানটিতে রাশিয়ার পক্ষ থেকে যুক্তরাজ্যের ভূখণ্ডে হামলা হলে ব্রিটেনের রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্ব কীভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে পারে—এমন একটি কাল্পনিক যুদ্ধ পরিস্থিতি তুলে ধরা হয়েছে।

স্কাই নিউজ অনুষ্ঠানটিকে দেশের নেতৃত্ব, প্রতিষ্ঠান এবং সামগ্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার সক্ষমতা যাচাইয়ের একটি ‘স্ট্রেস টেস্ট’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। রুশ দূতাবাস অবশ্য ওই অনুষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট সংবাদ প্রতিবেদনে কালিনিনগ্রাদ নিয়ে সামরিক পদক্ষেপের আলোচনা নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে।

এদিকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এর আগে অভিযোগ করেছেন, রাশিয়া ইরানকে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক স্থাপনা শনাক্ত ও লক্ষ্যবস্তু করতে স্যাটেলাইট গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ করছে।

জেলেনস্কি জানিয়েছিলেন, জুলাইয়ের শুরু থেকে রাশিয়া উপসাগরীয় দেশগুলো এবং সেখানে থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোর ওপর সক্রিয় স্যাটেলাইট নজরদারি চালাচ্ছে। তার দাবি, এসব ছবি পরে ইরানের কাছে পৌঁছেছে এবং রুশ স্যাটেলাইটের নজরদারির সময়ের সঙ্গে ইরানের হামলার সময়ের মধ্যে সম্পর্ক দেখা গেছে।

জেলেনস্কির অভিযোগ অনুযায়ী, হামলার আগে লক্ষ্য নির্ধারণ ও প্রস্তুতির জন্য এবং হামলার পর ক্ষয়ক্ষতি মূল্যায়নের জন্যও এই স্যাটেলাইট ছবি ব্যবহার করা হয়ে থাকতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সিবিএস নিউজ জানিয়েছে, রাশিয়া ইরানকে মার্কিন অবস্থানসংক্রান্ত গোয়েন্দা তথ্য দিচ্ছে—এমন অভিযোগ এর আগেও উঠেছিল এবং এক মার্কিন কর্মকর্তার বরাতেও এ ধরনের তথ্য প্রকাশ করা হয়েছিল।

ইনস্টিটিউট ফর দ্য স্টাডি অব ওয়ারের বিশ্লেষণেও জেলেনস্কির এই বক্তব্য এবং রাশিয়ার সম্ভাব্য গোয়েন্দা সহায়তার বিষয়ে আগের মার্কিন গোয়েন্দা-সংক্রান্ত প্রতিবেদনের উল্লেখ রয়েছে। তবে এসব তথ্যের বড় অংশই ইউক্রেনীয় দাবি ও গোয়েন্দা মূল্যায়নের ওপর নির্ভরশীল।

এদিকে ব্রিটিশ সরকার ২৩ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত এক নথিতে জানিয়েছে, যুক্তরাজ্যের রেডিওলজিক্যাল ও নিউক্লিয়ার হুমকি মোকাবিলায় দেশটির শনাক্তকরণ, প্রতিরোধ ও জরুরি সাড়া দেওয়ার সক্ষমতা রয়েছে। সরকার বলেছে, পারমাণবিক বা রেডিওলজিক্যাল হামলার সম্ভাবনা প্রচলিত হামলার তুলনায় কম হলেও এর সম্ভাব্য পরিণতি অত্যন্ত গুরুতর হওয়ায় প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

সাম্প্রতিক সময়ে ইউরোপে রাশিয়া-ন্যাটো উত্তেজনা এবং ইউক্রেন যুদ্ধকে ঘিরে নিরাপত্তা উদ্বেগ অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাজ্যও রাশিয়ার হুমকি ইউক্রেনের বাইরে ইউরোপের নিরাপত্তার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে সতর্ক করেছে।

সূত্রঃ দ্য মিরর

এমকে

আরো পড়ুন

ট্র‍্যাম্পের ভ্রান্ত তথ্যের অভিযোগেও তদন্ত নয় কেনঃ ব্রিটিশ গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রক ওফকম চাপের মুখে

নিউজ ডেস্ক

লন্ডনে পুলিশের ছদ্মবেশে চুরি করতেন এই সিরিয়াল চোর

অনলাইন ডেস্ক

যুক্তরাজ্যে ঝড়ের কারণে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা ফান্ডের ঘোষণা দিয়েছে সরকার