যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম আগামী সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে প্রথমবারের মতো সরাসরি বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন। নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সময় দুই নেতার এই বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। বৈঠকের খবর প্রথমে দ্য টাইমস প্রকাশ করে; রয়টার্সও বিষয়টি উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, তাদের পক্ষে ওই সময় পর্যন্ত বৈঠকের তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
দুই নেতার মধ্যে এর আগে টেলিফোনে যোগাযোগ হয়েছে। ৭ সেপ্টেম্বরের সরকারি ব্রিটিশ বিবরণ অনুযায়ী, বার্নহ্যাম ও ট্রাম্প ইউক্রেনের যুদ্ধ, যুদ্ধবিরতির প্রচেষ্টা এবং মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন। বার্নহ্যাম ইউক্রেনের প্রতি ব্রিটেনের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন এবং মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও নিরাপত্তা, দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর গুরুত্ব তুলে ধরেন।
আগামী বৈঠকে ইউক্রেন পরিস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠতে পারে। দ্য টাইমস-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউক্রেনের মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের সুযোগসহ বিভিন্ন নিরাপত্তা ইস্যু আলোচনায় আসতে পারে। ইউক্রেনের জন্য সামরিক সহায়তা নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে ইউরোপীয় নেতাদের আলোচনাও জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের প্রাক্কালে গুরুত্ব পেয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যও সম্ভাব্য আলোচনার অন্যতম বিষয়। ৭ সেপ্টেম্বরের ফোনালাপে বার্নহ্যাম মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি ইরান যাতে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না পারে, সে বিষয়ে ব্রিটেনের অবস্থান তুলে ধরেন। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেন।
জ্বালানি পরিস্থিতিও দুই নেতার আলোচনায় থাকতে পারে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে চাপ অব্যাহত রয়েছে। ১৫ সেপ্টেম্বর রয়টার্স জানিয়েছে, রাশিয়া ও ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা বন্ধের বিষয়ে ট্রাম্পের উদ্যোগের পরও উভয় পক্ষের হামলা অব্যাহত ছিল এবং জ্বালানি বাজারে এর প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।
দুই দেশের সম্পর্কের আরও কয়েকটি স্পর্শকাতর বিষয়ও আলোচনায় আসতে পারে। দ্য টাইমস জানিয়েছে, দক্ষিণ আমেরিকায় যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা, ভেনেজুয়েলা, ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ এবং আয়ারল্যান্ডের ভবিষ্যৎ সাংবিধানিক অবস্থানসহ বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে আলোচনা হতে পারে। তবে এগুলো বৈঠকের নিশ্চিত আলোচ্যসূচি হিসেবে দুই সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেনি।
আয়ারল্যান্ড ইস্যুতে সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের অবস্থানের পার্থক্যও সামনে এসেছে। ট্রাম্প আয়ারল্যান্ডের ঐক্যের পক্ষে মন্তব্য করার পর ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জানিয়েছে, উত্তর আয়ারল্যান্ডের বিষয়ে ব্রিটিশ সরকারের অবস্থানে কোনো পরিবর্তন হয়নি। বার্নহ্যামের কার্যালয় বলেছে, সীমান্ত গণভোটের বিষয়টি নির্ধারিত হবে সংশ্লিষ্ট আইন ও জনসমর্থনের ভিত্তিতে।
ইসরায়েল ও পশ্চিম তীরের বসতি নিয়েও ব্রিটেনের অবস্থান সম্প্রতি আরও স্পষ্ট হয়েছে। বার্নহ্যাম সরকার পশ্চিম তীরের ইসরায়েলি বসতি থেকে আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। রয়টার্স জানিয়েছে, এই পদক্ষেপের পর ইসরায়েল ব্রিটিশ কনস্যুলেট বন্ধ এবং কয়েকজন ব্রিটিশ নাগরিকের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।
এদিকে ব্রিটেন ও ফ্রান্সও ইউক্রেন, মধ্যপ্রাচ্য এবং ইউরোপের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে সমন্বয় বাড়াচ্ছে। ৩ সেপ্টেম্বর বার্নহ্যাম ও ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁর বৈঠকে ইউক্রেনে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের স্থানীয় উৎপাদন, মধ্যপ্রাচ্য এবং হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়।
নিউইয়র্কে বার্নহ্যাম-ট্রাম্প বৈঠক অনুষ্ঠিত হলে এটি হবে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার পর দুই নেতার প্রথম মুখোমুখি বৈঠক। তবে বৈঠকের সুনির্দিষ্ট সময়, পূর্ণাঙ্গ আলোচ্যসূচি এবং সম্ভাব্য সিদ্ধান্ত এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।
সূত্রঃ রয়টার্স, দ্য টাইমস, ডেইলি মিরর
এম.কে

