13.2 C
London
September 16, 2026
TV3 BANGLA
আন্তর্জাতিক

তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের আশঙ্কাঃ রাশিয়ায় শিশুদের গ্যাস মাস্ক কেনার অনুমতি

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যুদ্ধ ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে রাশিয়ায় সাধারণ মানুষের জন্য গ্যাস মাস্ক কেনার ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের বিধিনিষেধ তুলে নেওয়া হচ্ছে। ২০২৭ সালের ১ মার্চ থেকে সার্টিফায়েড বেসামরিক গ্যাস মাস্ক, শিশুদের জন্য তৈরি মডেল এবং শিশুদের সুরক্ষা চেম্বার খুচরা বাজারে অবাধে বিক্রি করা যাবে।

রাশিয়ার জরুরি পরিস্থিতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় বা এমারকম জানিয়েছে, বেসামরিক জনগণের জন্য ব্যক্তিগত শ্বাসযন্ত্র সুরক্ষা সরঞ্জাম এখন থেকে নির্ধারিত মান পূরণ করে সার্টিফিকেশনের মাধ্যমে বাজারজাত করা যাবে।

রুশ সংবাদমাধ্যম মেডুজার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৯৯২ সাল থেকে গ্যাস মাস্ক রাশিয়ার এমন পণ্যের তালিকায় ছিল, যেগুলোর অবাধ বিক্রি নিয়ন্ত্রিত ছিল। তবে ২০২৬ সালের আগস্টের শুরুতে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের জারি করা ডিক্রির মাধ্যমে গ্যাস মাস্ককে ওই তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়। ডিক্রিটি ২০২৭ সালের মার্চে কার্যকর হবে।

রুশ জরুরি পরিস্থিতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, নতুন ব্যবস্থার আওতায় প্রত্যেক নাগরিক নিজের নিরাপত্তার জন্য সার্টিফায়েড বেসামরিক ফিল্টারিং গ্যাস মাস্ক কিনতে পারবেন। শিশুদের জন্য তৈরি গ্যাস মাস্ক এবং শিশুদের সুরক্ষা চেম্বারও এর অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

মন্ত্রণালয় বলছে, এতদিন ব্যক্তিগত শ্বাসযন্ত্র সুরক্ষা সরঞ্জামের জন্য পর্যাপ্ত অনুমোদিত মানদণ্ড ছিল না। ফলে বাজারে নিম্নমানের ও নকল পণ্য পাওয়া যেত এবং এর কিছু বিদেশ থেকেও আসত। নতুন ব্যবস্থায় পণ্যের গুণগত মান নিয়ন্ত্রণ করা হবে।

রাশিয়ার সরকারি ব্যাখ্যায় এই পরিবর্তনের মূল উদ্দেশ্য হিসেবে বেসামরিক সুরক্ষা সরঞ্জামের মান নির্ধারণ, পরীক্ষা ও সার্টিফিকেশন নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে রুশ সরকার জনগণের সিভিল ডিফেন্স বা বেসামরিক প্রতিরক্ষার জন্য ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জামের নকশা, উৎপাদন, সংরক্ষণ, পরিবহন ও বিক্রির ক্ষেত্রে সামঞ্জস্য যাচাইয়ের নতুন নিয়মও অনুমোদন করেছে।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধসহ ইউরোপের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি ঘিরে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উদ্বেগ অব্যাহত রয়েছে।

রাশিয়ার সরকারি ব্যাখ্যায় রাসায়নিক, তেজস্ক্রিয় বা অন্যান্য বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে বেসামরিক জনগণের সুরক্ষার জন্য ব্যক্তিগত শ্বাসযন্ত্র সুরক্ষা সরঞ্জামের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। রুশ জরুরি পরিস্থিতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নাগরিক সুরক্ষা নির্দেশনায় রাসায়নিক বিপদের সংকেতের ক্ষেত্রে গ্যাস মাস্ক ব্যবহারের পদ্ধতিও উল্লেখ করা হয়েছে।

২০২৬ সালের মে মাসে রাশিয়ার জরুরি পরিস্থিতি বিষয়ক মন্ত্রী আলেকজান্ডার কুরেনকভ জানিয়েছিলেন, দেশটির বেসামরিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় নতুন পরিবর্তন আনা হয়েছে। এর মধ্যে জনগণকে সরিয়ে নেওয়া বা এভাকুয়েশনকে স্বতন্ত্র দায়িত্ব হিসেবে নির্ধারণ এবং বেসামরিক প্রতিরক্ষা পরিকল্পনার বিষয়ে আঞ্চলিক কর্তৃপক্ষের ক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়ও রয়েছে।

তবে গ্যাস মাস্কের অবাধ বিক্রির ক্ষেত্রে রুশ সরকারের আনুষ্ঠানিক বক্তব্যের কেন্দ্রবিন্দু হলো সার্টিফায়েড ও মানসম্মত সুরক্ষা সরঞ্জাম সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া এবং নিম্নমানের বা নকল পণ্য ঠেকানো।

ফলে ২০২৭ সালের ১ মার্চ থেকে রাশিয়ার সাধারণ নাগরিকরা দীর্ঘ তিন দশকের বেশি সময় পর প্রথমবারের মতো কোনো বিশেষ বিক্রয়-নিষেধাজ্ঞা ছাড়াই অনুমোদিত বেসামরিক গ্যাস মাস্ক কিনতে পারবেন। শিশুদের সুরক্ষা সরঞ্জামও থাকবে এই ব্যবস্থার আওতায়।

সূত্রঃ মেডুজা\ মিরর

এম.কে

আরো পড়ুন

ইরানি হামলা ঠেকাতে ঠেকাতে শেষের দিকে ইসরায়েলের এন্টি-ব্যালিস্টিক মিসাইল

ভারতে ধর্মীয় স্বাধীনতা পরিস্থিতি ধসে পড়েছেঃ মার্কিন প্রতিবেদন

অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশু অভিবাসীদের জন্য অভিভাবক খুঁজছে ইটালি