14.2 C
London
October 7, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

ব্রিটেনে ৫০ বছরের কম বয়সীদের মধ্যে বাড়ছে ক্যানসারঃ গবেষণা প্রতিবেদন

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ৫০ বছরের কম বয়সীদের মধ্যে কয়েক ধরনের ক্যানসার শনাক্তের হার দ্রুত বাড়ছে। ইংল্যান্ডে তরুণদের মধ্যে প্রোস্টেট ক্যানসার শনাক্তের হার ২০০১ সালের তুলনায় চার গুণ হয়েছে। একই সময়ে অন্ত্র, কিডনি ও জরায়ুর ক্যানসার শনাক্তের হার দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে। যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও নেদারল্যান্ডসের ক্যানসারের তথ্য বিশ্লেষণ করে আন্তর্জাতিক গবেষণায় এ উদ্বেগজনক প্রবণতা উঠে এসেছে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, বিশ্ব ক্যানসার গবেষণা তহবিলের (ডব্লিউসিআরএফ) বিশ্লেষণে ইংল্যান্ডে সাত ধরনের, যুক্তরাষ্ট্রে পাঁচ ধরনের এবং নেদারল্যান্ডসে চার ধরনের ক্যানসারের ক্ষেত্রে ৫০ বছরের কম বয়সীদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি পাওয়া গেছে।

গবেষণায় দেখা গেছে, ইংল্যান্ডে ৫০ বছরের কম বয়সী প্রতি এক লাখ মানুষের মধ্যে প্রোস্টেট ক্যানসার শনাক্তের হার ২০০১ সালে ছিল ১ জন। ২০২৩ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ দশমিক ৬ জনে। একই সময়ে এই বয়সীদের মধ্যে অন্ত্রের ক্যানসার শনাক্তের হার প্রতি এক লাখে ৩ দশমিক ৯ থেকে বেড়ে ৮ দশমিক ৪ হয়েছে।

এ ছাড়া ইংল্যান্ডে ৫০ বছরের কম বয়সীদের মধ্যে জরায়ু ও কিডনির ক্যানসার শনাক্তের হারও দ্বিগুণ হয়েছে। ২০২৩ সালে প্রতি এক লাখ মানুষের মধ্যে জরায়ুর ক্যানসার শনাক্তের হার দাঁড়ায় ৩ দশমিক ৯ জনে এবং কিডনির ক্যানসার ৩ জনে। একই বয়সীদের মধ্যে স্তন ক্যানসার শনাক্তের হারও বেড়েছে। ২০০১ সালে প্রতি এক লাখে এ হার ছিল ৪২ জন, যা ২০২৩ সালে বেড়ে ৪৭ দশমিক ৫ জন হয়েছে। অগ্ন্যাশয় ও যকৃতের ক্যানসার শনাক্তের হারও বেড়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রেও একই ধরনের প্রবণতা দেখা গেছে। ২০০০ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে ৫০ বছরের কম বয়সীদের মধ্যে কিডনির ক্যানসার শনাক্তের হার প্রতি এক লাখে ২ দশমিক ৫ থেকে বেড়ে ৫ দশমিক ৩ হয়েছে। এ সময়ে অন্ত্র, জরায়ু ও অগ্ন্যাশয়ের ক্যানসার শনাক্তের হার ৫০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। স্তন ক্যানসারের হার বেড়েছে প্রায় ২০ শতাংশ।

নেদারল্যান্ডসেও ৫০ বছরের কম বয়সীদের মধ্যে অন্ত্র, কিডনি, যকৃত ও জরায়ুমুখের ক্যানসার শনাক্তের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তবে তিনটি দেশেই তরুণদের মধ্যে ফুসফুসের ক্যানসার শনাক্তের হার কমেছে। গবেষকদের মতে, ধূমপানের প্রবণতা কমে আসা এর অন্যতম কারণ হতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তরুণদের মধ্যে ক্যানসার বৃদ্ধির পেছনে স্থূলতা, অতিরিক্ত ওজন, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, শারীরিক পরিশ্রমের অভাব, মদ্যপান, ধূমপান এবং পরিবেশদূষণের মতো বিষয় ভূমিকা রাখতে পারে। প্লাস্টিক, রাসায়নিক পদার্থ এবং পানি ও বায়ুদূষণের সংস্পর্শও সম্ভাব্য ঝুঁকির কারণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিশ্ব ক্যানসার গবেষণা তহবিলের তথ্য অনুযায়ী, ক্যানসারের প্রায় ৪০ শতাংশের সঙ্গে পরিবর্তনযোগ্য বিভিন্ন ঝুঁকির সম্পর্ক রয়েছে।

তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, এসব কারণই তরুণদের মধ্যে ক্যানসার বৃদ্ধির একমাত্র ব্যাখ্যা নয়। রোগ সম্পর্কে মানুষের সচেতনতা বাড়া এবং আগের তুলনায় দ্রুত পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে ক্যানসার শনাক্ত হওয়ার বিষয়টিও এ প্রবণতায় ভূমিকা রাখতে পারে। কিন্তু আগেভাগে রোগ শনাক্ত হওয়ার কারণে পুরো বৃদ্ধির ব্যাখ্যা দেওয়া যায় না। এ বিষয়ে আরও গবেষণা প্রয়োজন।

কুইন্স ইউনিভার্সিটি বেলফাস্টের ডিজিটাল স্বাস্থ্যবিষয়ক অধ্যাপক মার্ক ললার এ প্রবণতাকে একটি ‘বিস্ফোরণের অপেক্ষায় থাকা সময়বোমা’র সঙ্গে তুলনা করেছেন। তিনি বলেন, পরিস্থিতি দ্রুত মোকাবিলা করা প্রয়োজন, অন্যথায় আক্রান্তের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। তার মতে, জীবনযাপন-সম্পর্কিত ঝুঁকির কারণে প্রতিবছর হাজারো মানুষের মৃত্যুর প্রেক্ষাপটে এই প্রবণতা বিশেষভাবে উদ্বেগজনক।

বিশ্ব ক্যানসার গবেষণা তহবিলের গবেষণা ও নীতিবিষয়ক নির্বাহী পরিচালক গিওটা মিত্রো বলেন, তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ক্যানসারের পরিবর্তিত ধরনকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে। ক্যানসার প্রতিরোধ ও এর কারণ অনুসন্ধানকে গবেষণার অগ্রাধিকার দিতে হবে।

এদিকে, তরুণদের মধ্যে অন্ত্রের ক্যানসার বৃদ্ধির কারণ অনুসন্ধানে কিংস কলেজ লন্ডন ক্যানসার রিসার্চ ইউকের অর্থায়নে আড়াই লাখ মানুষের অংশগ্রহণে একটি নতুন গবেষণা কার্যক্রম ঘোষণা করেছে। এতে জীবনযাপনের ঝুঁকি বৃদ্ধি এবং উন্নত রোগ শনাক্তকরণ ব্যবস্থার মধ্যে কোনটির প্রভাব কতটা, তা বোঝার চেষ্টা করা হবে।

ব্রিটেনের স্বাস্থ্য ও সমাজসেবা বিভাগের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, ক্যানসার দ্রুত শনাক্ত করা সরকারের জাতীয় ক্যানসার পরিকল্পনার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। এ জন্য দ্রুত রোগ নির্ণয়ের প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ, জিনগত পরীক্ষা সম্প্রসারণ এবং ক্যানসারের কারণ ও ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে গবেষণায় সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। সরকারের লক্ষ্য, ২০৩৫ সালের মধ্যে ক্যানসারে আক্রান্ত প্রতি চারজনের মধ্যে তিনজনকে ক্যানসারমুক্ত করা অথবা রোগ নিয়েই ভালোভাবে বেঁচে থাকার সুযোগ নিশ্চিত করা। এর মাধ্যমে ৩ লাখ ২০ হাজার মানুষের জীবন বাঁচানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান

এমকে

আরো পড়ুন

উপনির্বাচনে বড় জয় অ্যান্ডি বার্নহ্যামেরঃ স্টারমারের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ

যুক্তরাজ্যে রোগীর শরীরে কাঁচি-গজ রেখে সেলাই, ভুল অঙ্গ কেটে ফেলার ঘটনা ঘিরে তীব্র সমালোচনা

প্রথমবারের মতো যুক্তরাজ্যের শিশুদের খাওয়াবে ইউনিসেফ

নিউজ ডেস্ক