সাফোকের বার্নহ্যাম গ্রাম আশপাশে ১ হাজার ২৫০ আশ্রয়প্রার্থী রাখার পরিকল্পনার প্রতিবাদে যুক্তরাজ্য থেকে আলাদা হওয়ার বিষয়ে গণভোট আয়োজনের কথা বিবেচনা করছে। আগামী ২৪ অক্টোবর গ্রামবাসীদের কাছে এ বিষয়ে মতামত চাওয়ার পরিকল্পনা করেছে বার্নহ্যাম প্যারিশ কাউন্সিল।
এর আগে অক্সফোর্ডশায়ারের পিডিংটন গ্রাম একই ধরনের উদ্যোগ নেয়। গত মাসে সেখানে ২৮৫ জন ভোটার যুক্তরাজ্য থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে নিজেদের ভাগ্য নিজেরাই নির্ধারণের পক্ষে ভোট দেন। বিপক্ষে ভোট দেন ২৬ জন। পিডিংটনের সাবেক প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি ঘাঁটির কাছে সর্বোচ্চ ১ হাজার ২৫৬ আশ্রয়প্রার্থী রাখার পরিকল্পনার প্রতিবাদেই ওই ভোট অনুষ্ঠিত হয়।
বার্নহ্যামের বাসিন্দাদের আপত্তির কেন্দ্রেও রয়েছে সাবেক রয়্যাল এয়ার ফোর্স ঘাঁটিকে আশ্রয়প্রার্থী শিবিরে রূপান্তরের পরিকল্পনা। প্রস্তাবিত স্থানটি ব্রেকল্যান্ড স্পেশাল প্রোটেকশন এরিয়ার মধ্যে অবস্থিত। এটি আন্তর্জাতিকভাবে সংরক্ষিত একটি বন্যপ্রাণী এলাকা।
ওই এলাকায় ২০০টির বেশি স্টোন-কার্লিউ পাখির প্রজনন জোড়া রয়েছে। পাখিটি বিপন্ন হওয়ায় পরিবেশগত বিধি অনুযায়ী তাদের বাসা বাঁধার স্থান থেকে ০.৯ মাইলের মধ্যে উন্নয়ন কার্যক্রমের ওপর বিধিনিষেধ রয়েছে।
ওয়েস্ট সাফোক জেলা কাউন্সিলও পরিকল্পিত স্থানে আশ্রয়প্রার্থী শিবির নির্মাণের বিরোধিতা করছে। তাদের দাবি, পরিবেশগত কারণে ওই স্থানে এমন শিবির নির্মাণ আইনসঙ্গত ও উপযুক্ত হবে না।
তবে বার্নহ্যাম প্যারিশ কাউন্সিলের চেয়ারম্যান জন বাওয়ার জানিয়েছেন, কিছু কাউন্সিলর গণভোট আয়োজনের বিষয়ে উৎসাহী নন। তাদের আশঙ্কা, গণভোটের বিষয়টি বন্যপ্রাণী রক্ষার যুক্তিতে পরিচালিত মূল প্রচারণাকে দুর্বল করে দিতে পারে।
জন বাওয়ার বলেন, গণভোট হলে গ্রামের মানুষের মতামতের শক্তি স্পষ্টভাবে তুলে ধরা সম্ভব হবে এবং সরকার বিষয়টি উপেক্ষা করতে কঠিন অবস্থায় পড়বে। তিনি আরও বলেন, শুধু স্টোন-কার্লিউ পাখি রক্ষার যুক্তির ওপর নির্ভর না করে পরিকল্পনা ঠেকাতে একাধিক পদ্ধতি ব্যবহার করা উচিত।
যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, প্রস্তাবিত উন্নয়নটি পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব এড়ানোর বিষয়টি বিবেচনায় রেখে তৈরি করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট পরিবেশগত মূল্যায়ন ও পরিকল্পনা প্রক্রিয়া এখনও চলছে।
সূত্রঃ দ্য টেলিগ্রাফ
এমকে

