TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

অ্যাঙ্গেলা রেইনার ও ওয়েস স্ট্রিটিংয়ের বিদ্রোহেও অটল যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী

ব্রিটিশ রাজনীতির মঞ্চে গত সপ্তাহান্তে লেবার পার্টির ভেতরকার টানাপড়েন এক অস্বস্তিকর যুদ্ধবিরতিতে গিয়ে ঠেকেছে। দলের নেতৃত্ব নিয়ে তীব্র অভ্যন্তরীণ কোন্দল প্রকট আকার ধারণ করলেও, প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমারের পদত্যাগ দাবি করা তিন শীর্ষ নেতার ‘হামলা’ কার্যত গুলিবর্ষণহীন অবস্থায় থেমে গেছে। এক মন্ত্রী এই পরিস্থিতিকে ঠাট্টা করে ‘মেক্সিকান স্ট্যান্ড-অফ’ (যেখানে কেউ গুলি ছোঁড়ে না) হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।

বৃহস্পতিব ভোর থেকে শুরু হয় নাটক। সাবেক উপ-প্রধানমন্ত্রী অ্যাঙ্গেলা রেইনার প্রথম আঘাত হানেন। তিনি সংবাদমাধ্যমে জানান, তার ট্যাক্স জটিলতা থেকে খালাস পাওয়ার পর তিনি স্যার কিয়ার স্টারমারকে ‘পদত্যাগের বিষয়ে পুনর্বিবেচনা’ করার আহ্বান জানিয়েছেন। একইসঙ্গে সংরক্ষিত মন্ত্রী ও সাবেক মেরিন কমান্ডার অ্যাল কার্নস যেকোনো নেতৃত্ব প্রতিযোগিতায় দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দেন।

তবে দিনের প্রধান চমকটি আসে স্বাস্থ্য সচিব ওয়েস স্ট্রিটিংয়ের কাছ থেকে। তিনি এক কঠোর পদত্যাগপত্রে স্পষ্ট বলেন, “আপনার (স্যার কিয়ার) নেতৃত্বের প্রতি আমার আস্থা শেষ। এটা পরিষ্কার যে আপনি লেবার পার্টিকে আগামী সাধারণ নির্বাচনে নেতৃত্ব দেবেন না।” স্ট্রিটিং নেতৃত্বের ‘স্থবিরতা’, দূরদর্শিতার অভাব ও কয়েকটি বিপর্যয়কর নীতির তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি ‘ব্যাপক পরিসরে’ নেতৃত্ব প্রতিযোগিতার দাবি জানান, যাতে অংশ নিতে পারেন গ্রেটার ম্যানচেস্টারের মেয়র অ্যান্ডি বার্নহ্যাম।

অভ্যন্তরীণ সূত্র জানায়, স্ট্রিটিং নেতৃত্ব চ্যালেঞ্জের জন্য প্রয়োজনীয় ৮১ সাংসদের সমর্থন জোগাড় করতে পারেননি। তাঁর শিবিরের সদস্যরা অবশ্য দাবি করেন, তিনি প্রতিযোগিতা শুরু করতে চাননি বরং দলের বৃহত্তর ঐক্যের পথ খোলার চেষ্টা করেছেন। অন্যদিকে স্যার কিয়ারের ঘনিষ্ঠ মহল জানিয়েছে, প্রতিপক্ষের সর্বোচ্চ সমর্থন ছিল মাত্র ৪৪ জন সাংসদ।

এই পরিস্থিতিতে অনিবার্যকে মেনে নিয়ে স্যার কিয়ার স্টারমার জানান, জাতীয় নির্বাহী কমিটি (এনইসি) অ্যান্ডি বার্নহ্যামকে ম্যানচেস্টারের মেকারফিল্ড আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে বাধা দেবে না। ঘটনার সূত্রপাত ঘটে যখন স্যার কিয়ারপন্থী তরুণ সাংসদ জোশ সাইমনস হঠাৎ ওই আসন ছাড়ার ঘোষণা দেন। তার জায়গায় বার্নহ্যাম দাঁড়ানোর আগ্রহ প্রকাশ করলে স্যার কিয়ার পথ ছেড়ে দেন।

মাত্র দুই মাস আগে এনইসি বার্নহ্যামকে গর্টন অ্যান্ড ডেন্টন উপ-নির্বাচনে দাঁড়াতে বাধা দিয়েছিল, যে আসনটি পরে গ্রিন পার্টির কাছে হারায় লেবার পার্টি। বার্নহ্যামের পুনরায় ওয়েস্টমিনস্টারে ফেরার সম্ভাবনা এখন স্পষ্টতই স্যার কিয়ার ও তার বিরোধীদের মধ্যে সম্মিলিত সিদ্ধান্তের ফল।

এদিকে, ‘স্টকিং হর্স’ হিসেবে পরিচিত সাবেক মন্ত্রী ক্যাথরিন ওয়েস্ট এই অভ্যুত্থানের সূচনা করলেও এখন ইঙ্গিত দিয়েছেন, তিনিও স্যার কিয়ারকে সমর্থন দিতে পারেন যদি তিনি নেতৃত্ব প্রতিযোগিতায় দাঁড়ান।

ডাউনিং স্ট্রিট সূত্র বলছে, স্যার কিয়ার স্টারমার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ যে তিনি যেকোনো প্রতিযোগিতায় লড়বেন এবং পদ ছাড়বেন না। এক জ্যেষ্ঠ মন্ত্রীর ভাষ্য, “কেবিনেট প্রধানমন্ত্রীর পেছনে আছে” — যদিও স্ট্রিটিং ও রেইনারের মতো জ্যেষ্ঠ নেতাদের প্রকাশ্য বিদ্রোহ তার বিপরীত ইঙ্গিত দেয়।

সব মিলিয়ে, লেবার পার্টির ভেতরের এই গৃহযুদ্ধ আপাতত ‘ঠান্ডা যুদ্ধে’ পরিণত হয়েছে। তবে স্পষ্ট বার্তা, স্যার কিয়ার স্টারমারের ওপর চাপ অব্যাহত থাকলেও এখনই তার পতন ঘটছে না — এবং আগামী জুলাইয়ের ‘বিয়ার সামিট’ বা আগামী সাধারণ নির্বাচনের আগে এই অস্থিরতা আরও নাটকীয় মোড় নিতে পারে।

সূত্রঃ দ্য টেলিগ্রাফ

এম.কে

আরো পড়ুন

যুক্তরাজ্যে ম্যাকডোনাল্ডে বিগ ম্যাককে পেছনে ফেলে এল ‘বিগ আর্চ’ বার্গার

যুক্তরাজ্য জুড়ে অভিবাসন বিতর্ক আসলে ‘সৃষ্ট আতঙ্ক’, বলছে দাতব্য সংস্থা ও মানবাধিকারকর্মীরা

হোমওয়্যার চেইন স্টোর উইলকো বন্ধের পথে