10.3 C
London
February 11, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

ভুক্তভোগীদের আটক রেখে ফ্রান্সে ফেরতঃ প্রশ্নের মুখে যুক্তরাজ্যের ‘ওয়ান ইন, ওয়ান আউট’ নীতি

যুক্তরাজ্য সরকারের বহুল আলোচিত ‘ওয়ান ইন, ওয়ান আউট’ অভিবাসন পরিকল্পনা নির্যাতন ও মানবপাচারের শিকার ব্যক্তিদের সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে দাতব্য সংস্থা মেডিক্যাল জাস্টিস। সংস্থাটির নতুন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই পরিকল্পনার আওতায় আটক ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে স্বরাষ্ট্র দপ্তরের ক্লিনিক্যাল সুরক্ষা ব্যবস্থা কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়েছে।

 

মেডিক্যাল জাস্টিস ইমিগ্রেশন আটক কেন্দ্রগুলোতে স্বতন্ত্র চিকিৎসকদের মাধ্যমে ফ্রান্সে ফেরত পাঠানোর অপেক্ষায় থাকা ৩৩ জন ব্যক্তির ওপর জরিপ চালায়। এই জরিপই প্রথম যেখানে ‘ওয়ান ইন, ওয়ান আউট’ পরিকল্পনার আওতায় আটক ব্যক্তিদের শারীরিক ও মানসিক অবস্থার পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়ন করা হয়েছে।

জরিপে অংশ নেওয়া ৩৩ জনের মধ্যে ১৮ জনের শরীরে ও মানসিক অবস্থায় নির্যাতন ও মানবপাচারের স্পষ্ট ক্লিনিক্যাল প্রমাণ পাওয়া গেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব দুর্বলতা শনাক্ত হওয়া সত্ত্বেও আটক কেন্দ্রে সুরক্ষার কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, আটক অবস্থায় ক্লিনিক্যাল সুরক্ষা ব্যবস্থার ব্যর্থতার কারণে পুরো সিস্টেমটি ব্যর্থ হয়েছে। অনেক আটক ব্যক্তি চিকিৎসা সহায়তা ও মানসিক সুরক্ষা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।

মেডিক্যাল জাস্টিস জানায়, বহু ব্যক্তি বলেছেন যে তাদের জীবনে আশাহীনতার সবচেয়ে ভয়াবহ মুহূর্ত ছিল যুক্তরাজ্যে আটক হওয়ার সময়—অতীতের নির্যাতন নয়। চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিকোণ থেকে এই মানসিক ভেঙে পড়া অত্যন্ত বিপজ্জনক বলে প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়েছে।

আটক ব্যক্তিরা জানান, তারা পাচারকারী চক্র, মানবপাচারকারী, সীমান্ত বাহিনী, পুলিশ এবং সংঘবদ্ধ অপরাধী গোষ্ঠীর কাছ থেকে সহিংসতা, ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকির মুখে পড়েছেন। অনেককে ভিডিও বা ছবি ধারণ করে হুমকি দেওয়া হয়েছে—ফ্রান্সে ফেরত গেলে এসব ব্যবহার করে তাদের খুঁজে বের করে হত্যা করা হবে।

প্রতিবেদনে এক ব্যক্তির বর্ণনা তুলে ধরা হয়েছে, যার ক্ষেত্রে পূর্বে নির্যাতনের ক্লিনিক্যাল প্রমাণ ছিল। ফ্রান্সে ফেরত পাঠানোর এক প্রচেষ্টার সময় তাকে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ ও সহিংসতার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা হয়। পরে তার শারীরিক আঘাত ও মানসিক ক্ষতির প্রমাণ চিকিৎসকরা নথিভুক্ত করেন।

মেডিক্যাল জাস্টিসের এক মুখপাত্র বলেন, এই পরিকল্পনার আওতায় আটক ব্যক্তিদের মধ্যে মানবপাচার ও নির্যাতনের শিকারদের অনুপাত অস্বাভাবিকভাবে বেশি। পাশাপাশি আত্মহানির ঝুঁকি উদ্বেগজনক এবং প্রায় সবাই ক্লিনিক্যাল সুরক্ষা ব্যবস্থার ব্যর্থতার শিকার হয়েছে। সংস্থাটির আশঙ্কা, সরকার যেকোনো মূল্যে এই ব্যক্তিদের যুক্তরাজ্য থেকে সরিয়ে দিতে চায়।

প্রতিবেদনে ‘ওয়ান ইন, ওয়ান আউট’ পরিকল্পনা বাতিলের আহ্বান জানানো হয়েছে এবং ছোট নৌকায় আগতদের আশ্রয় আবেদন যুক্তরাজ্যেই প্রক্রিয়াকরণের সুপারিশ করা হয়েছে। আগস্ট ২০২৫ থেকে এ পর্যন্ত ২০০ জনের বেশি মানুষকে ছোট নৌকায় আসার পর জোরপূর্বক ফ্রান্সে ফেরত পাঠানো হয়েছে, একই সময়ে প্রায় সমান সংখ্যক মানুষকে ফ্রান্স থেকে আইনগতভাবে যুক্তরাজ্যে আনা হয়েছে।

অন্যদিকে স্বরাষ্ট্র দপ্তরের এক মুখপাত্র দাবি করেন, যুক্তরাজ্যের সীমান্ত সুরক্ষা সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ‘ওয়ান ইন, ওয়ান আউট’ পরিকল্পনার মাধ্যমে ছোট নৌকায় আগতদের ফ্রান্সে ফেরত পাঠানো হচ্ছে, যা একটি নিরাপদ দেশ এবং সেখানে সুরক্ষা দাবি যথাযথভাবে বিবেচনা করা হয়। আটক ও প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া মর্যাদার সঙ্গে সম্পন্ন করার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।

সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান

এম.কে

আরো পড়ুন

রোডম্যাপ অনুযায়ী কবে খুলছে ব্রিটেনের সব ধরনের ব্যবসা

নিউজ ডেস্ক

অভিভাবকদের ঘরে বসে কাজ করার ফলে স্কুলে উপস্থিতি কমছেঃ অফস্টেড প্রধান

যুক্তরাজ্যে খাবার ডেলিভারির আড়ালে যৌন অপরাধঃ কারাদণ্ড পেলেন ডেলিভারি ড্রাইভার