11.9 C
London
March 27, 2026
TV3 BANGLA
আন্তর্জাতিক

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে বড় ধাক্কাঃ জ্বালানির দাম ও মূল্যস্ফীতির চাপে যুক্তরাজ্য বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের প্রভাবে যুক্তরাজ্যের অর্থনীতি অন্য যেকোনো শিল্পোন্নত দেশের তুলনায় বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে সতর্ক করেছে অর্গানাইজেশন ফর ইকোনমিক কো-অপারেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট। সংস্থাটির সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, চলতি বছরে যুক্তরাজ্যের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কমে মাত্র ০.৭ শতাংশে দাঁড়াতে পারে।

 

গত ডিসেম্বরে ২০২৬ সালের জন্য যেখানে ১.২ শতাংশ প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল, সেখানে নতুন করে তা কমিয়ে আনা হয়েছে। এই নিম্নমুখী সংশোধনের প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে জ্বালানি মূল্যের ঊর্ধ্বগতি, মূল্যস্ফীতির চাপ এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ওপর যুক্তরাজ্যের উচ্চ নির্ভরতা।

প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে হামলার পর তেল ও গ্যাসের দাম দ্রুত বেড়ে যাওয়ায় বৈশ্বিক বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। জানুয়ারিতে যেখানে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৬০ ডলার ছিল, তা বর্তমানে বেড়ে প্রায় ১০০ ডলারে পৌঁছেছে। ইরানের হরমুজ প্রণালী আংশিকভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে, কারণ এই পথ দিয়েই বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল পরিবাহিত হয়।

এই প্রেক্ষাপটে যুক্তরাজ্যের অর্থনীতি বাড়তি চাপে পড়েছে। সংস্থাটি বলছে, ২০২৫ সালের শেষ দিকে শ্রমবাজার দুর্বল হয়ে পড়া এবং ব্যবসায়িক বিনিয়োগ কমে যাওয়ার প্রভাব ২০২৬ সালেও টানতে পারে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে জ্বালানির উচ্চমূল্যজনিত নতুন ধাক্কা।

একই সময়ে ফ্রান্স, জার্মানি ও ইতালির মতো দেশগুলো তুলনামূলকভাবে কম ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এসব দেশের প্রবৃদ্ধি মাত্র ০.২ শতাংশ পয়েন্ট হ্রাস পেতে পারে, কারণ তারা জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব থেকে তুলনামূলকভাবে সুরক্ষিত।

বৈশ্বিক অর্থনীতির চিত্র তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল থাকলেও অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। ওইসিডি জানিয়েছে, ২০২৬ সালে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি ২.৯ শতাংশে স্থির থাকতে পারে। তবে ২০২৭ সালের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস ৩.১ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৩ শতাংশে নামানো হয়েছে।

সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে জ্বালানির দাম আরও বাড়তে পারে, যা ব্যবসায়িক ব্যয় বৃদ্ধি এবং ভোক্তা পর্যায়ে মূল্যস্ফীতি বাড়িয়ে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে বাধাগ্রস্ত করবে। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্য থেকে রপ্তানি বিঘ্নিত হলে গুরুত্বপূর্ণ পণ্যের ঘাটতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি তুলনামূলকভাবে শক্ত অবস্থানে রয়েছে। দেশটি তেল ও গ্যাসের নিট রপ্তানিকারক হওয়ায় এবং শুল্ক হ্রাসের সিদ্ধান্তের ফলে ২০২৬ সালে তাদের প্রবৃদ্ধি ২ শতাংশে পৌঁছাতে পারে, যা আগের পূর্বাভাসের চেয়ে বেশি।
তবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে বিনিয়োগ কমে গেলে আগামী বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক গতি কমে যেতে পারে বলেও সতর্ক করেছে সংস্থাটি।

এদিকে যুক্তরাজ্যের অর্থমন্ত্রী র‍্যাচেল রিভস বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ সরাসরি যুক্তরাজ্যের তৈরি নয়, তবুও এর প্রভাব দেশটির অর্থনীতিতে পড়বে। তিনি জানান, পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার আঞ্চলিক প্রশাসনকে আরও ক্ষমতা দেওয়া, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও উদ্ভাবনে বিনিয়োগ বাড়ানো এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক জোরদারের পরিকল্পনা করছে।

সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত বছর যুক্তরাজ্যের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ছিল ১.৩ শতাংশ, যেখানে ফ্রান্সে ছিল ০.৯ শতাংশ এবং জার্মানিতে ০.৪ শতাংশ। বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে সামনে আরও কঠিন অর্থনৈতিক বাস্তবতার মুখোমুখি হতে পারে

সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান

এম.কে

আরো পড়ুন

টিকে থাকতে সোনা-রুপায় বিনিয়োগ করুন: কিওসাকি

নিউজ ডেস্ক

মোদির দক্ষিণ এশিয়ার ষড়যন্ত্র ফাঁস করেছে আল জাজিরা

যুক্তরাষ্ট্রে জনপ্রিয় হচ্ছে রোবট ম্যাসাজ, খরচ কম আর ঝামেলাহীন