বিশ্বখ্যাত পপ সংগীতশিল্পীকে নিয়ে নির্মিত নতুন জীবনীভিত্তিক চলচ্চিত্রটি মুক্তির পরপরই তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে। বিভিন্ন চলচ্চিত্র সমালোচক ছবিটিকে “হোয়াইট ওয়াস” আখ্যা দিয়ে অভিযোগ করেছেন, এতে শিল্পীর জীবন ও ক্যারিয়ারের একটি বাস্তবতা-বিবর্জিত, পরিশোধিত সংস্করণ তুলে ধরা হয়েছে।
চলচ্চিত্রটিতে কিংবদন্তি শিল্পীর চরিত্রে অভিনয় করেছেন তারই ভাতিজা, যিনি অভিনয়ের জন্য প্রশংসা পেলেও ছবির সামগ্রিক উপস্থাপনাকে দুর্বল বলে মনে করছেন অধিকাংশ সমালোচক। ছবিতে জ্যাকসন ফাইভ ব্যান্ডের মাধ্যমে তার উত্থান থেকে শুরু করে একক শিল্পী হিসেবে বিশ্বজোড়া সাফল্যের গল্প তুলে ধরা হয়েছে।
তবে সবচেয়ে বড় বিতর্কের বিষয় হলো—শিল্পীর বিরুদ্ধে আনা যৌন নির্যাতনের অভিযোগগুলো পুরোপুরি উপেক্ষা করা হয়েছে। একটি পুরনো গোপন আইনি চুক্তির কারণে এসব বিষয় নিয়ে ধারণ করা দৃশ্যগুলো চলচ্চিত্র থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। এমনকি ছবির শেষাংশও পরিবর্তন করে এমনভাবে সাজানো হয়েছে, যাতে এসব অভিযোগের সময়কালই না আসে।
সমালোচকদের মতে, এই গুরুত্বপূর্ণ বিতর্ক এড়িয়ে যাওয়াই চলচ্চিত্রটির সবচেয়ে বড় দুর্বলতা। অনেকেই বলছেন, একজন বিতর্কিত ব্যক্তিত্বকে নিয়ে চলচ্চিত্র নির্মাণ করতে হলে তার জীবনের আলো-অন্ধকার উভয় দিকই তুলে ধরা উচিত ছিল।
একাধিক সমালোচক ছবিটিকে একেবারেই প্রাণহীন বলে আখ্যা দিয়েছেন। তাদের মতে, এটি যেন পূর্ণাঙ্গ চলচ্চিত্র নয়, বরং দীর্ঘ একটি প্রচারণামূলক দৃশ্যসংকলন। কেউ কেউ আবার একে “অর্থ উপার্জনের উদ্দেশ্যে নির্মিত আত্মাহীন প্রয়াস” বলেও মন্তব্য করেছেন।
তবে ছবির সংগীত অংশ বেশ প্রশংসা পেয়েছে। মূল শিল্পীর কণ্ঠ ব্যবহার এবং বিখ্যাত মঞ্চ পরিবেশনার পুনর্নির্মাণ দর্শকদের জন্য আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। কিছু সমালোচক মনে করেন, দীর্ঘদিনের ভক্তদের জন্য ছবিটি এক ধরনের নস্টালজিয়ার অনুভূতি তৈরি করে।
পরিচালকের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, অভিযোগগুলোর সত্যতা সম্পর্কে তিনি নিশ্চিত নন। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, অনেক সময় অর্থের লোভে মানুষ বিভিন্ন অভিযোগ তুলে থাকে—যা নিয়েও বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।
চলচ্চিত্রটি এমন এক সময়ে মুক্তি পেল, যখন জীবনীভিত্তিক সংগীত চলচ্চিত্রগুলো বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয়তা পাচ্ছে এবং বাণিজ্যিকভাবে সফল হচ্ছে। তবে এই ছবিটি সেই ধারার মধ্যে থেকেও সমালোচকদের কাছে ব্যতিক্রমীভাবে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া অর্জন করেছে।
সার্বিকভাবে দেখা যাচ্ছে, প্রধান চরিত্রে অভিনয় প্রশংসিত হলেও গুরুত্বপূর্ণ বিতর্ক এড়িয়ে যাওয়া, বাস্তবতা উপেক্ষা এবং গভীরতার অভাবের কারণে চলচ্চিত্রটি সমালোচকদের বড় অংশের কাছে গ্রহণযোগ্যতা পায়নি।
সূত্রঃ বিবিসি
এম.কে

