3.2 C
London
January 9, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

মাদুরো গ্রেপ্তার নিয়ে নীরব লন্ডনঃ আন্তর্জাতিক আইন প্রশ্নে অবস্থান স্পষ্ট নয়

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে নিন্দা প্রস্তাব উঠলে যুক্তরাজ্য তাতে ভোটদানে বিরত থাকতে পারে—এমন ইঙ্গিত দিয়েছে ডাউনিং স্ট্রিট। প্রধানমন্ত্রীর মুখপাত্র টাইমসের একটি প্রতিবেদনের বিরোধিতা না করে কার্যত বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

 

ডাউনিং স্ট্রিটের লবি ব্রিফিংয়ে মুখপাত্র জানান, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়েভেট কুপার মঙ্গলবার সংসদ সদস্যদের কাছে ভেনেজুয়েলা পরিস্থিতি নিয়ে বিবৃতি দেবেন। ধারণা করা হচ্ছে, জাতিসংঘে যুক্তরাজ্যের অবস্থান এবং যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক পদক্ষেপ নিয়ে ওই বিবৃতিতে বিস্তারিত তুলে ধরা হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপ চীন বা রাশিয়াকে তাদের অপছন্দের নেতাদের উৎখাতে উৎসাহিত করতে পারে—এমন আশঙ্কাকে “কাল্পনিক” বলে আখ্যা দেন প্রধানমন্ত্রীর মুখপাত্র। তিনি বলেন, কাল্পনিক পরিস্থিতি নিয়ে তুলনামূলক আলোচনা সহায়ক নয় এবং যুক্তরাজ্য আন্তর্জাতিক আইনকে সম্মান করে ও অন্য দেশগুলোর কাছ থেকেও একই প্রত্যাশা করে।

কিউবা ও কলম্বিয়ায় সরকার উৎখাত নিয়ে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মন্তব্য প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে মুখপাত্র মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান। তিনি বলেন, যুক্তরাজ্যের অবস্থান স্পষ্ট—আন্তর্জাতিক আইন মানা যে কোনো সার্বভৌম রাষ্ট্রকে তার সিদ্ধান্ত ও পদক্ষেপের আইনি ভিত্তি ব্যাখ্যা করতে হয়, যা যুক্তরাষ্ট্রের বলার বিষয়।

মুখপাত্র জানান, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে সাম্প্রতিক ফোনালাপে ইয়েভেট কুপার আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি যুক্তরাজ্যের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তবে যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করেছে কি না—এই প্রশ্নে সরকার কোনো সরাসরি অবস্থান নেয়নি।

এই বিষয়ে মুখপাত্র বলেন, যুক্তরাজ্যে একটি দীর্ঘদিনের নীতি হলো—সরকার তাদের অভ্যন্তরীণ আইনি পরামর্শ প্রকাশ করে না। অন্য দেশের রাষ্ট্রপ্রধানকে গ্রেপ্তার বা অপহরণ কখন আইনসম্মত হতে পারে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যুক্তরাজ্য দীর্ঘদিন ধরেই মাদুরোর কাছ থেকে ক্ষমতার হস্তান্তর সমর্থন করে আসছে এবং তাকে “অবৈধ প্রেসিডেন্ট” হিসেবে বিবেচনা করে।

গ্রিনল্যান্ড প্রসঙ্গে মুখপাত্র পুনরায় বলেন, এর ভবিষ্যৎ নির্ধারণ গ্রিনল্যান্ড ও ডেনমার্কের বিষয়, যুক্তরাষ্ট্রের নয়। তবে তিনি স্বীকার করেন, ন্যাটোভুক্ত দেশগুলো একমত যে আর্কটিক অঞ্চলে রাশিয়ার পক্ষ থেকে হুমকি রয়েছে এবং ন্যাটো সে অনুযায়ী প্রস্তুতি জোরদার করছে।

যুক্তরাষ্ট্র আরও “সাহসী” হলে তা বৈশ্বিক স্থিতিশীলতার জন্য ভালো কি না—এই প্রশ্ন এড়িয়ে গিয়ে মুখপাত্র শুধু বলেন, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। একইভাবে, আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের আশঙ্কা থাকলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে গোয়েন্দা তথ্য আদান–প্রদান বন্ধ করা হবে কি না—এ প্রশ্নেও মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান তিনি।
এদিকে, প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার এখনো।

নিকোলাস মাদুরোর গ্রেপ্তার ইস্যুতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলেননি। তবে জানা গেছে, চলতি সপ্তাহের শেষ দিকে তাদের মধ্যে ফোনালাপ হতে পারে, যেখানে ইউক্রেন পরিস্থিতি আলোচনার মূল বিষয় হবে।

সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান

এম.কে

আরো পড়ুন

দক্ষ অভিবাসীরা ব্রিটিশ কর্মীদের প্রশিক্ষণ দেবেঃ ব্লানকেটের নতুন পরিকল্পনায় সমর্থন

যুক্তরাজ্যে কাউন্সিলগুলো আশ্রয়প্রার্থীদের হোটেল থেকে স্থানান্তরে কাজ কর‍তে আগ্রহী

ইসরায়েল-ইরান সংঘর্ষে উদ্বেগ, ব্রিটিশ নাগরিকদের অবস্থান জানাতে বলল যুক্তরাজ্য সরকার