TV3 BANGLA
বাংলাদেশ

মানবপাচারের ফাঁদে বাংলাদেশিরাঃ চাকরির প্রলোভনে রাশিয়ার সেনাবাহিনীতে বিক্রি

উচ্চ বেতনের চাকরি ও ভালো সুযোগ-সুবিধার প্রলোভন দেখিয়ে বাংলাদেশিদের রাশিয়ায় নিয়ে সেনাবাহিনীতে যোগদানের চুক্তিতে স্বাক্ষর করানোর অভিযোগ উঠেছে মানবপাচার চক্রের বিরুদ্ধে। অভিযোগ অনুযায়ী, অনেকেই কাজের আশায় রাশিয়ায় গিয়ে দেশটির ভাষায় লেখা চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর করছেন। ভাষা না বোঝার কারণে চুক্তির প্রকৃত বিষয় সম্পর্কে ধারণা না নিয়েই তারা সামরিক নিয়োগপ্রক্রিয়ায় জড়িয়ে পড়ছেন বলে দাবি করা হয়েছে।

এ বিষয়ে রাশিয়ার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে এক ব্যক্তি দাবি করেছেন, বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন দেশের নাগরিক একই ধরনের পরিস্থিতির শিকার হচ্ছেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, রাশিয়ায় স্বেচ্ছায় সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার জন্য একাধিক নিয়োগ শাখা রয়েছে, যেখানে বিদেশি নাগরিকেরাও চুক্তিভিত্তিক সেনাসদস্য হিসেবে যোগ দিতে পারেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, মানবপাচার চক্রের সদস্যরা রাশিয়ার বিভিন্ন কোম্পানি অথবা ট্রাভেল এজেন্সির মাধ্যমে ভিসার ব্যবস্থা করে বাংলাদেশিদের দেশটিতে পাঠান। এ ক্ষেত্রে উচ্চ বেতন, আকর্ষণীয় চাকরি ও উন্নত সুযোগ-সুবিধার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। কিন্তু রাশিয়ায় পৌঁছানোর পর তাদের সামনে সেনাবাহিনীতে যোগদানের চুক্তিপত্র তুলে ধরা হয় বলে দাবি করা হয়েছে।

একজন বাংলাদেশিকে রাশিয়ায় নিয়ে যেতে পাচারকারী চক্রের দেড় থেকে দুই লাখ টাকা পর্যন্ত খরচ হয় বলে দাবি করেছেন ওই ব্যক্তি। অথচ বাংলাদেশ থেকে জনপ্রতি আট থেকে দশ লাখ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তার দাবি, রাশিয়ায় পৌঁছে সেনাবাহিনীতে যোগদানের চুক্তি সম্পন্ন হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির জন্য নির্ধারিত এককালীন অর্থও পাচারকারীরা আত্মসাৎ করে।

ওই ব্যক্তির বক্তব্য অনুযায়ী, স্বেচ্ছায় রুশ সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়া ব্যক্তিদের এককালীন অর্থ দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে, যার পরিমাণ বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৫০ লাখ টাকা হতে পারে।

রাশিয়ায় পৌঁছানোর পর রুশ ভাষায় লেখা চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর করানোই এই প্রতারণার অন্যতম কৌশল বলে অভিযোগ করা হয়েছে। ভাষা না জানায় অনেক বাংলাদেশি চুক্তির শর্ত, দায়িত্ব ও সেনাবাহিনীতে যোগদানের প্রকৃত উদ্দেশ্য বুঝতে পারেন না। চাকরির আশায় দালালদের কথায় বিশ্বাস করে তারা চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন বলে দাবি করা হয়েছে।

ওই ব্যক্তির বর্ণনা অনুযায়ী, চুক্তিতে স্বাক্ষরের পর নিয়োগকেন্দ্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের একাধিকবার জিজ্ঞাসা করা হয়, তারা স্বেচ্ছায় সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে চান কি না। ভাষাগত সীমাবদ্ধতা ও পরিস্থিতি সম্পর্কে অজ্ঞতার কারণে কেউ কেউ মাথা নেড়ে সম্মতি জানান। ফলে নিয়োগপ্রক্রিয়ায় থাকা কর্মকর্তারা তাদের সম্মতিকে স্বেচ্ছায় যোগদানের ইচ্ছা হিসেবে বিবেচনা করতে পারেন বলে তার দাবি।

প্রশিক্ষণকেন্দ্রে পৌঁছানোর পর কেউ কেউ বুঝতে পারেন, যে চাকরির আশ্বাসে তারা রাশিয়ায় গিয়েছিলেন, বাস্তবে তার সঙ্গে সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার বিষয়টির মিল নেই। এভাবে চাকরির প্রলোভনে বিদেশে নিয়ে গিয়ে সামরিক চুক্তিতে যুক্ত করার অভিযোগ মানবপাচার ও প্রতারণার গুরুতর ঝুঁকি তুলে ধরেছে।

এ ঘটনায় বাংলাদেশে বিদেশগামী কর্মীদের যাচাই এবং রাশিয়ায় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন ওই ব্যক্তি। তার মতে, রাশিয়াগামী যাত্রীদের ভ্রমণের উদ্দেশ্য, চাকরির প্রস্তাব ও ভিসার ধরন যাচাইয়ে আরও সতর্কতা প্রয়োজন। একই সঙ্গে বাংলাদেশি ও রুশ নাগরিকদের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা বলে দাবি করা মানবপাচার চক্রের সদস্যদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

বিদেশে চাকরির প্রস্তাব গ্রহণের আগে নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠানের পরিচয়, ভিসার ধরন, চাকরির চুক্তি এবং কাজের প্রকৃতি যাচাই করা জরুরি। বিশেষ করে বিদেশি ভাষায় লেখা কোনো চুক্তিপত্রের অর্থ না বুঝে স্বাক্ষর করলে গুরুতর আইনি ও ব্যক্তিগত ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। রাশিয়ায় চাকরির প্রলোভনে বাংলাদেশিদের সেনাবাহিনীতে যোগদানের চুক্তিতে যুক্ত করার অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, সম্ভাব্য ভুক্তভোগীদের শনাক্তকরণ এবং প্রয়োজনীয় কনস্যুলার সহায়তা নিশ্চিত করা এখন গুরুত্বপূর্ণ।

সূত্রঃ আরটিভি অনলাইন

এমকে

আরো পড়ুন

গোলাম মাওলা রনির মুখোশ খুললেন ফারজানা

ভারতের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বাণিজ্য বহুমুখীকরণের পথে বাংলাদেশ

বাংলাদেশ নিয়ে উচ্ছ্বসিত ট্রাম্পঃ করলেন স্যোশাল মিডিয়াতে পোস্ট