17.8 C
London
October 15, 2026
TV3 BANGLA
ফিচারমুক্তমত

মানব শরীরের অজানা তথ্য —গরমে‑ঠান্ডায়, দিন‑রাতে মানবদেহের আকার পরিবর্তন

নাশীত রহমান || লন্ডন || ১৫ অক্টোবর ২০২৬

 

শীতের সকালে ঘুম থেকে উঠে শরীরকে যেন একটু বেশি সংকুচিত মনে হয়। হাত-পা ঠান্ডায় জমে আসে, ত্বক শুষ্ক হয়, পেশিতে টান ধরে। আবার গরমের দিনে হাত-পা ফুলে যেতে পারে, ত্বক উষ্ণ হয়, শরীর ভারী ও অস্বস্তিকর মনে হয়। এমন অভিজ্ঞতা থেকে অনেকের মনে প্রশ্ন জাগে—শীতকালে কি সত্যিই মানুষের শরীর ছোট হয়ে যায়? আর গ্রীষ্মে কি শরীরের আকার বেড়ে যায়?

প্রশ্নটি শুনতে সাধারণ মনে হলেও এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে মানবদেহের রক্তসঞ্চালন, তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ, মেরুদণ্ডের গঠন, শরীরের জলীয় ভারসাম্য এবং দৈনন্দিন শারীরবৃত্তীয় পরিবর্তনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বিজ্ঞানের উত্তর হলো, শীতকালে মানুষের পুরো শরীর স্থায়ীভাবে ছোট হয়ে যায় না, কিংবা গ্রীষ্মে স্থায়ীভাবে বড়ও হয়ে যায় না। তবে তাপমাত্রা, শরীরের তরলের বণ্টন এবং দিনের বিভিন্ন সময়ের কারণে শরীরের কিছু বৈশিষ্ট্য ও পরিমাপে সাময়িক পরিবর্তন ঘটতে পারে।

১. শীতকালে শরীরের কী পরিবর্তন হয়? মানবদেহ একটি অত্যন্ত দক্ষ তাপমাত্রা-নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা। বাইরের পরিবেশ ঠান্ডা হলে শরীর নিজের ভেতরের তাপমাত্রা স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করে। এ সময় ত্বকের কাছাকাছি থাকা অনেক রক্তনালি সংকুচিত হয়। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এই প্রক্রিয়াকে বলা হয় Vasoconstriction বা রক্তনালির সংকোচন।

এর ফলে ত্বকের উপরিভাগে রক্তপ্রবাহ কমে এবং শরীরের ভেতরের তাপ সংরক্ষণে সাহায্য হয়। তাই শীতে হাত-পা ঠান্ডা হয়ে যাওয়া, আঙুলের ত্বক ফ্যাকাশে দেখানো কিংবা শরীরের বাইরের অংশে রক্তসঞ্চালনের অনুভূতি বদলে যাওয়া স্বাভাবিক। ঠান্ডায় পেশিও অনিচ্ছাকৃতভাবে কেঁপে উঠতে পারে। একে Shivering বলে। এই কম্পনের মাধ্যমে পেশি তাপ উৎপন্ন করে। পাশাপাশি মানুষ অনেক সময় অজান্তেই কাঁধ গুটিয়ে ফেলে, ঘাড় নিচু করে এবং শরীরকে সংকুচিত ভঙ্গিতে রাখে। তবে মনে রাখতে হবে, রক্তনালি সংকুচিত হওয়া বা শরীর গুটিয়ে রাখার অর্থ হাড়ের দৈর্ঘ্য কমে যাওয়া নয়। এগুলো মূলত শরীরের তাপ সংরক্ষণ ও ভঙ্গির পরিবর্তন।

২. গ্রীষ্মে শরীর কেন ফুলে যেতে পারে? গ্রীষ্মে পরিস্থিতি অনেকটাই উল্টো। শরীর অতিরিক্ত তাপ বের করে দিতে চায়। তাই ত্বকের কাছাকাছি রক্তনালি প্রসারিত হয়। এই প্রক্রিয়াকে বলা হয় Vasodilation। রক্তনালি প্রসারিত হলে ত্বকের দিকে রক্তপ্রবাহ বাড়তে পারে। ফলে ত্বক লালচে বা উষ্ণ দেখায় এবং ঘামের মাধ্যমে শরীর তাপ হারাতে পারে। অন্যদিকে, গরম আবহাওয়ায় কিছু মানুষের হাত, পা বা গোড়ালি সাময়িকভাবে ফুলে যেতে পারে। দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকা, বসে থাকা, তাপের প্রভাবে রক্তনালির পরিবর্তন এবং শরীরের তরলের বণ্টন এর পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে। এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে: শরীরের কোনো অংশ ফুলে যাওয়া আর শরীরের প্রকৃত বৃদ্ধি এক বিষয় নয়। ফোলা মানে অনেক ক্ষেত্রে টিস্যুতে অতিরিক্ত তরল জমা হওয়া। এতে ওই অংশের পরিধি বাড়তে পারে, কিন্তু হাড়ের দৈর্ঘ্য বেড়ে যায় না। গরমে পা ফুলে যাওয়া খুব বেশি হলে, হঠাৎ শুরু হলে, ব্যথা বা লালভাব থাকলে কিংবা শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

৩. দিনের মধ্যে মানুষের উচ্চতা কি সত্যিই কমে? এখানেই রয়েছে সবচেয়ে আকর্ষণীয় বৈজ্ঞানিক তথ্য। ঋতুর পরিবর্তনের তুলনায় দিনের বিভিন্ন সময়ে মানুষের উচ্চতার পরিবর্তন অনেক বেশি সুপ্রতিষ্ঠিত।

মানুষের মেরুদণ্ডে একাধিক কশেরুকার মাঝখানে থাকে বিশেষ ধরনের নমনীয় ডিস্ক বা আন্তঃকশেরুকা চাকতি (Intervertebral discs)। এগুলো শরীরের ভার বহন করতে, নড়াচড়ায় সাহায্য করতে এবং ধাক্কা শোষণ করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

এই ডিস্কগুলোর ভেতরে পানি-সমৃদ্ধ নরম অংশ রয়েছে। রাতে শুয়ে থাকার সময় মেরুদণ্ডের ওপর চাপ কমে এবং ডিস্কগুলো কিছুটা পানি পুনরায় শোষণ করতে পারে। ফলে সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর মানুষের উচ্চতা তুলনামূলক বেশি থাকতে পারে। দিনের বেলায় দাঁড়ানো, হাঁটা, বসা এবং শরীরের ওজন বহনের কারণে মেরুদণ্ডের ডিস্কে চাপ পড়ে। এতে ডিস্কের উচ্চতা সাময়িকভাবে কমে এবং দিনের শেষে মানুষের উচ্চতা কিছুটা কম মাপা যেতে পারে। ২০০৯ সালে Applied Ergonomics জার্নালে প্রকাশিত একটি গবেষণায়ও দিনের বিভিন্ন সময়ে মেরুদণ্ডে চাপের কারণে উচ্চতার পরিবর্তন নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। অন্যদিকে, ১৯৯৪ সালের একটি MRI-ভিত্তিক গবেষণায় দৈনন্দিন কার্যকলাপের পর কোমরের মেরুদণ্ডের কয়েকটি ডিস্কের আয়তন ও গঠনে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন পাওয়া যায়।

অর্থাৎ, সকালে এবং রাতে একই মানুষের উচ্চতা মাপলে সামান্য পার্থক্য পাওয়া অস্বাভাবিক নয়।

৪. উচ্চতা কতটা কমতে পারে? গবেষণায় দিনের মধ্যে উচ্চতার পরিবর্তন প্রায় ১–২ সেন্টিমিটার পর্যন্ত হতে পারে বলে বর্ণনা করা হয়েছে। তবে এই পরিমাণ সবার ক্ষেত্রে এক নয়; বয়স, শারীরিক গঠন, কাজের ধরন, ভঙ্গি এবং পরিমাপের সময়ের ওপর তা নির্ভর করে। একটি উদাহরণ দিয়ে বিষয়টি বোঝা যাক। ধরা যাক, একজন ব্যক্তির সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর উচ্চতা ১৭৫ সেন্টিমিটার মাপা হলো। দিনের শেষে মেরুদণ্ডের ডিস্কে চাপ পড়ার কারণে তাঁর উচ্চতা ১৭৪ সেন্টিমিটার মাপা যেতে পারে। এটি কেবল বোঝানোর জন্য একটি কাল্পনিক উদাহরণ—প্রত্যেক মানুষের ক্ষেত্রে ঠিক ১ সেন্টিমিটার পরিবর্তন হবে, এমন কোনো নিয়ম নেই।

পরিমাপের উদাহরণ:

পরিমাপের সময় উদাহরণস্বরূপ উচ্চতা
সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর ১৭৫ সেমি
দুপুরে ১৭৪.৫ সেমি
দিনের শেষে ১৭৪ সেমি

এই সংখ্যাগুলো ব্যাখ্যামূলক উদাহরণ, কোনো নির্দিষ্ট গবেষণার গড় ফল নয়।

এখানে আরও একটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ: উচ্চতা মাপার সময় জুতা খুলে, সমতল মেঝেতে, সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে এবং একই যন্ত্র ব্যবহার করা উচিত। না হলে মাপের পার্থক্য শরীরের পরিবর্তনের বদলে পরিমাপের ভুল থেকেও হতে পারে।

৫. তাহলে শীত ও গ্রীষ্মের মধ্যে উচ্চতার কোনো সম্পর্ক নেই? বিষয়টি এতটা সরল নয়। ঋতু ও উচ্চতার সম্পর্ক নিয়ে গবেষণা হয়েছে, বিশেষ করে শিশু-কিশোরদের বৃদ্ধির ক্ষেত্রে। ১৯৯৭ সালে American Journal of Human Biology জার্নালে প্রকাশিত একটি গবেষণায় ৮.৫ থেকে ১৮ বছর বয়সী ২২৮ জন ছেলে ও মেয়ের বৃদ্ধির তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়। গবেষণাটিতে দেখা যায়, ওই নমুনায় বার্ষিক উচ্চতা বৃদ্ধির একটি বড় অংশ গ্রীষ্মকালীন সময়ে ঘটেছিল। ছেলেদের ক্ষেত্রে অন্তত ৬৭ শতাংশ এবং মেয়েদের ক্ষেত্রে অন্তত ৬০ শতাংশ ছয় মাসভিত্তিক উচ্চতা বৃদ্ধির অংশ গ্রীষ্মকালীন সময়ে নথিভুক্ত হয়েছিল। তবে এই ফলকে সব দেশ, সব জলবায়ু, সব বয়স কিংবা সব মানুষের জন্য একই নিয়ম হিসেবে ধরে নেওয়া যাবে না। এটি একটি নির্দিষ্ট গবেষণার পর্যবেক্ষণ।

শিশু-কিশোরদের উচ্চতা বৃদ্ধি নির্ভর করে জিনগত বৈশিষ্ট্য, হরমোন, পুষ্টি, ঘুম, সামগ্রিক স্বাস্থ্য এবং অন্যান্য পরিবেশগত বিষয়ের ওপর। ঋতুভেদে বৃদ্ধির গতিতে পার্থক্য থাকতে পারে, কিন্তু তার মানে এই নয় যে গ্রীষ্মে প্রত্যেক মানুষের শরীর প্রসারিত হয় এবং শীতে আবার সংকুচিত হয়। প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে হাড়ের স্বাভাবিক দৈর্ঘ্য বৃদ্ধি সাধারণত সম্পন্ন হয়ে যায়। তাই প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের শরীরের আকারে ঋতুভিত্তিক স্থায়ী পরিবর্তন প্রত্যাশিত নয়।

৬. শরীরের ওজন ও মাপ কি ঋতুর সঙ্গে বদলাতে পারে? – হ্যাঁ, কিছু মানুষের ক্ষেত্রে বদলাতে পারে। তবে এর পেছনে একাধিক কারণ কাজ করে। শীতকালে কেউ কেউ বেশি ক্যালরিযুক্ত খাবার খান এবং শারীরিক পরিশ্রম কম করেন। অন্যদিকে গ্রীষ্মে ঘাম, পানীয় গ্রহণ, দৈনন্দিন কাজের ধরন ও ক্ষুধার পরিবর্তনের কারণে ওজনের ওঠানামা হতে পারে। কিন্তু ঘামের মাধ্যমে ওজন কমে যাওয়া মানেই চর্বি কমে যাওয়া নয়। শরীর থেকে পানি বেরিয়ে গেলে ওজন সাময়িকভাবে কমতে পারে; পুনরায় পানি পান করলে তা ফিরে আসতে পারে। একইভাবে, গরমে হাত-পা ফুলে গেলে শরীরের কোনো অংশের পরিধি বাড়তে পারে। কিন্তু এটিকে পেশি বা হাড়ের বৃদ্ধি বলা যাবে না। অর্থাৎ, শরীরের ওজন, শরীরের পরিধি, উচ্চতা এবং হাড়ের দৈর্ঘ্য—চারটি আলাদা পরিমাপ। একটির পরিবর্তন দিয়ে অন্যটির পরিবর্তন নিশ্চিত করা যায় না।

৭. নিজেই পরীক্ষা করে দেখুন: আপনার উচ্চতা কি সকালে বেশি? – বিজ্ঞানের এই বিষয়টি বাড়িতেও একটি সহজ পরীক্ষার মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ করা যায়। একটি নির্ভরযোগ্য উচ্চতা মাপার যন্ত্র বা স্ট্যাডিওমিটার, সমতল মেঝে এবং নোটবুক।

পরীক্ষার পদ্ধতি:

১. সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর যত দ্রুত সম্ভব, একই পদ্ধতিতে উচ্চতা মাপুন।

২. দুপুরে আবার উচ্চতা মাপুন।

৩. রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে তৃতীয়বার মাপুন।

৪. তিনটি মাপ লিখে রাখুন এবং কয়েক দিন একই পদ্ধতিতে পরীক্ষা করুন।

৫. প্রতিবার একই যন্ত্র, একই মেঝে ও একই ধরনের সোজা ভঙ্গি ব্যবহার করুন।

 

উদাহরণস্বরূপ, আপনার নোটবুকে এমন একটি ছক থাকতে পারে:

সময় উচ্চতা
সকাল ____ সেমি
দুপুর ____ সেমি
রাত ____ সেমি

 

এই পরীক্ষায় সামান্য পার্থক্য পাওয়া গেলে তা দৈনন্দিন মেরুদণ্ডীয় পরিবর্তনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে পারে। তবে বাড়িতে মাপার ভুলের কারণেও পার্থক্য হতে পারে। তাই এক দিনের ফল দিয়ে সিদ্ধান্ত না নিয়ে কয়েক দিনের পর্যবেক্ষণ করা ভালো। এটি কোনো রোগ নির্ণয়ের পরীক্ষা নয়; বরং মানবদেহের স্বাভাবিক কার্যপ্রণালি বোঝার একটি শিক্ষামূলক উপায়।

৮. মহাকাশচারীদের উচ্চতা কেন বাড়তে পারে? মানবদেহের পরিবর্তন বোঝার জন্য মহাকাশচারীদের অভিজ্ঞতা আরও চমকপ্রদ। পৃথিবীতে মাধ্যাকর্ষণের কারণে দাঁড়ানো ও চলাফেরার সময় মেরুদণ্ডের ওপর নিয়মিত চাপ পড়ে। কিন্তু মহাকাশে দীর্ঘ সময় মাইক্রোগ্র্যাভিটির পরিবেশে থাকলে মেরুদণ্ডের ওপর সেই স্বাভাবিক চাপ অনেকটাই বদলে যায়। ফলে মেরুদণ্ড কিছুটা লম্বা হতে পারে এবং মহাকাশচারীদের উচ্চতাও সাময়িকভাবে বাড়তে পারে।

NASA-র মানবদেহ-সংক্রান্ত নথিতে মহাকাশে অবস্থানের সময় উচ্চতা বৃদ্ধির বিষয়টি বর্ণনা করা হয়েছে। কিছু স্বল্পমেয়াদি মহাকাশ অভিযানে উচ্চতা প্রায় ১.৩ সেন্টিমিটার বাড়ার কথা উল্লেখ রয়েছে; দীর্ঘমেয়াদি অভিযানে পরিবর্তন আরও বেশি হতে পারে। তবে এই ঘটনাকে শীত-গ্রীষ্মের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলা উচিত নয়। মহাকাশে মাধ্যাকর্ষণজনিত চাপের পরিবর্তন একটি বিশেষ পরিস্থিতি, যা পৃথিবীর স্বাভাবিক ঋতু পরিবর্তনের থেকে সম্পূর্ণ আলাদা।

৯. কখন শরীরের পরিবর্তন নিয়ে সতর্ক হওয়া দরকার? সামান্য দৈনিক উচ্চতার পরিবর্তন সাধারণত স্বাভাবিক শারীরবৃত্তীয় ঘটনা। কিন্তু শরীরের কোনো অংশ অস্বাভাবিকভাবে ফুলে যাওয়া, অকারণে দ্রুত ওজন পরিবর্তন, দীর্ঘস্থায়ী জয়েন্টের ব্যথা, পায়ে একপাশে হঠাৎ ফোলা বা অস্বাভাবিক শারীরিক পরিবর্তন দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। বিশেষ করে, হঠাৎ উচ্চতা কমে যাওয়া, দীর্ঘস্থায়ী পিঠব্যথা বা ভঙ্গির উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হলে তা শুধু ঋতুর প্রভাব বলে ধরে নেওয়া ঠিক নয়। বয়স, হাড়ের স্বাস্থ্য এবং মেরুদণ্ডের সমস্যার মতো বিষয়ও মূল্যায়ন করা প্রয়োজন হতে পারে।

শরীরের পরিবর্তন বাস্তব, কিন্তু তার ব্যাখ্যা জানা জরুরি – শীতকালে শরীর সংকুচিত মনে হওয়া এবং গ্রীষ্মে কিছু অংশ ফুলে যাওয়া—এই অভিজ্ঞতার পেছনে বাস্তব শারীরবৃত্তীয় কারণ রয়েছে। ঠান্ডায় রক্তনালি সংকুচিত হয়, গরমে তা প্রসারিত হতে পারে; তাপমাত্রা ও তরলের বণ্টন শরীরের বাইরের অংশে পরিবর্তন ঘটাতে পারে। দিনের বেলায় মেরুদণ্ডের ডিস্কে চাপ পড়ায় উচ্চতাও সাময়িকভাবে কমতে পারে। কিন্তু এসব পরিবর্তনকে একসঙ্গে মিলিয়ে বলা যাবে না যে মানুষের পুরো শরীর শীতে ছোট হয় এবং গ্রীষ্মে বড় হয়। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক সত্য হলো—শরীরের সাময়িক পরিবর্তন, দৈনিক উচ্চতার ওঠানামা এবং প্রকৃত শারীরিক বৃদ্ধি এক জিনিস নয়।

প্রকৃতিকে বোঝার জন্য অনেক সময় বড় কোনো পরীক্ষাগারের প্রয়োজন হয় না। নিজের উচ্চতা সঠিকভাবে মেপে দেখা, শরীরের প্রতিক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করা এবং বৈজ্ঞানিক গবেষণার সঙ্গে মিলিয়ে বিচার করলেই আমাদের শরীরের বহু আশ্চর্য রহস্য উন্মোচিত হতে পারে।

তথ্যসূত্র

১. Puntumetakul, R. et al. (2009). “Effect of time of day on the vertical spinal creep response.” Applied Ergonomics, 40(1), 33–38.
গবেষণার লিংক: https://pubmed.ncbi.nlm.nih.gov/18423558/

২. Botsford, D. J. et al. (1994). “In vivo diurnal variation in intervertebral disc volume and morphology.” Spine.
গবেষণার লিংক: https://pubmed.ncbi.nlm.nih.gov/8009352/

৩. Mirwald, R. L. et al. (1997). “Seasonal height velocity variation in boys and girls 8–18 years.” American Journal of Human Biology, 9, 709–715.
গবেষণার লিংক: https://doi.org/10.1002/(SICI)1520-6300(1997)9:6%3C709::AID-AJHB4%3E3.0.CO;2-M

৪. NASA Human Integration Design Handbook. মহাকাশে মাধ্যাকর্ষণজনিত পরিবর্তন এবং মানবদেহের উচ্চতা-সংক্রান্ত তথ্য। নথির লিংক: https://www.nasa.gov/sites/default/files/atoms/files/humanintegrationdesignhandbookrevision_1.pdf

৫. Adams, M. A. et al. (1990). “Diurnal changes in spinal mechanics and their clinical significance.” Journal of Bone and Joint Surgery, British Volume, 72(2), 266–270.
গবেষণার লিংক: https://pubmed.ncbi.nlm.nih.gov/2138156/

আরো পড়ুন

হার্ভার্ডের ১০৩টি ফ্রি কোর্স

অনলাইন ডেস্ক

‘আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস রাখি, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ি’— ইসলাম গ্রহণ নিয়ে মুখ খুললেন রাখি সাওয়ান্ত

শীতকালের কিছু প্রয়োজনীয় সতর্কতা