উপসাগরীয় অঞ্চলে সংঘাতের আশঙ্কা এবং মিসাইল ও ড্রোন হামলার উদ্বেগের মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাত ইউএইতে বসবাসরত অনেক ধনী ব্রিটিশ নাগরিক নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে দেশ ছাড়ছেন। তবে তারা সরাসরি যুক্তরাজ্যে না গিয়ে আয়ারল্যান্ড এবং ফ্রান্সের মতো ইউরোপীয় দেশে সাময়িকভাবে অবস্থান করছেন, যাতে দেশে ফিরে সম্ভাব্য বড় অঙ্কের কর পরিশোধের দায় এড়ানো যায়।
বর্তমান অর্থবছর শেষ হতে মাত্র কয়েক সপ্তাহ বাকি থাকায় বিদেশে বসবাসকারী অনেক ব্রিটিশ নাগরিক ইতোমধ্যে যুক্তরাজ্যে থাকার নির্ধারিত দিনের সীমা প্রায় পূর্ণ করে ফেলেছেন। যুক্তরাজ্যের কর ব্যবস্থার নিয়ম অনুযায়ী, নির্দিষ্ট সময়ের বেশি দেশে অবস্থান করলে তারা আবার কর বাসিন্দা হিসেবে গণ্য হতে পারেন এবং তাদের বৈশ্বিক আয় ও সম্পদের ওপর কর আরোপ হতে পারে।
কর পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ব্লিক রথেনবার্গের প্রধান নির্বাহী নিমেশ শাহ বলেন, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইউএই থেকে বেরিয়ে যেতে চান এমন উচ্চ সম্পদশালী মানুষের কাছ থেকে অস্বাভাবিক সংখ্যক যোগাযোগ তিনি পেয়েছেন। তার মতে, অনেকে কর কর্তৃপক্ষ এইচএমআরসি থেকে বিশেষ পরিস্থিতির বিধানের আওতায় অতিরিক্ত সময় পাওয়ার আশা করছেন, তবে তিনি মনে করেন এই বিষয়ে কর্তৃপক্ষ খুব বেশি সহানুভূতিশীল হবে না।
তার ভাষায়, অনেক ব্রিটিশ নাগরিক কর সুবিধা পাওয়ার উদ্দেশ্যে ইউএইয়ের মতো দেশে বসবাস শুরু করেছিলেন। তাই এখন তারা যদি যুক্তরাজ্যে ফিরে বেশি সময় অবস্থান করে কর এড়াতে চান, তা কর কর্তৃপক্ষ সহজে অনুমোদন দেবে—এমন সম্ভাবনা খুবই কম।
বিশেষ করে যারা পাঁচ বছরের কম সময় ধরে যুক্তরাজ্যের বাইরে অবস্থান করছেন, তারা দেশে ফিরে এলে জটিল কর পরিস্থিতিতে পড়তে পারেন। শুধু চলতি বছরের আয়করই নয়, বিদেশে থাকার সময় বিক্রি করা ব্যবসা বা সম্পদের ওপরও মূলধনী মুনাফা কর প্রযোজ্য হতে পারে।
একজন ধনী ব্রিটিশ ব্যবসায়ী জানিয়েছেন, তিনি আপাতত আয়ারল্যান্ডের রাজধানী ডাবলিনে অবস্থান করছেন এবং ৫ এপ্রিলের পর লন্ডনে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন। কারণ ওই দিন যুক্তরাজ্যের ২০২৫-২৬ অর্থবছর শেষ হবে। তার মতে, পরবর্তী অর্থবছরে আয়কর বা বিনিয়োগের ওপর কর দিতে আপত্তি নেই, তবে বহু বছর আগে বিক্রি করা ব্যবসার ওপর কর আরোপ তিনি এড়াতে চান।
আরেকজন ইউএইভিত্তিক ব্রিটিশ ব্যবসায়ী জানিয়েছেন, তিনি সাময়িকভাবে ফ্রান্সে অবস্থান করছেন এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সেখানেই থাকার পরিকল্পনা করেছেন।
যুক্তরাজ্যের কর আইনে কেউ নিজেকে অ-বাসিন্দা দাবি করলে বছরে তিনি কত দিন দেশে থাকতে পারবেন তা বিভিন্ন পরীক্ষার ওপর নির্ভর করে। এর মধ্যে রয়েছে দেশে বাসস্থান আছে কি না, পরিবারের সদস্যরা সেখানে থাকেন কি না এবং অন্যান্য ব্যক্তিগত সম্পর্কের বিষয়।
অনেক ক্ষেত্রে বছরে মাত্র ৪৫ দিন যুক্তরাজ্যে থাকার অনুমতি থাকে, আবার কারও ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত পরিস্থিতি অনুযায়ী ১৮৩ দিন পর্যন্ত থাকার সুযোগও থাকতে পারে।
কোভিড-১৯ মহামারির সময় আন্তর্জাতিক ভ্রমণ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অনেককে দেশে আটকে পড়তে হয়েছিল। সে সময় এইচএমআরসি বিশেষ পরিস্থিতির বিধান চালু করে, যার আওতায় সর্বোচ্চ ৬০ দিন অতিরিক্ত থাকার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। তবে কর বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন বর্তমান পরিস্থিতিতে এই বিধান প্রযোজ্য হওয়ার সম্ভাবনা কম।
সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান ইভলিন পার্টনার্সের অংশীদার ডেভিড লিটল সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাজ্যে কয়েক দিন বেশি অবস্থান করলেও তার বড় ধরনের আর্থিক প্রভাব পড়তে পারে। এতে বিদেশে অর্জিত আয় ও বিনিয়োগ থেকে পাওয়া মুনাফাও যুক্তরাজ্যের করের আওতায় চলে আসতে পারে।
তার মতে, কেউ যদি বিদেশে অবস্থানকালে সম্পদ বিক্রি করে থাকেন এবং পরে দেশে ফিরে যান, তাহলে কয়েক বছর আগের সেই মুনাফাও পরে গিয়ে যুক্তরাজ্যের কর ব্যবস্থার আওতায় পড়ে যেতে পারে।
সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান
এম.কে

