12.3 C
London
October 18, 2026
TV3 BANGLA
আন্তর্জাতিকআমেরিকা

মুসলিমদের ‘মুহাম্মদ’ নাম নিয়ে ট্রাম্পের ঠাট্টাঃ সমাবেশে বিদ্রূপাত্মক মন্তব্য

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মুসলিম বিশ্বে ‘মুহাম্মদ’ নামের ব্যাপক প্রচলন নিয়ে ঠাট্টা করেছেন। ইরানের প্রেসিডেন্ট পদ নিয়ে ব্যঙ্গ করার সময় তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের কোনো ব্যক্তির নাম মনে না থাকলে তাকে ‘মুহাম্মদ’ বলে ডাকলেই ঠিক হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় ৬৫ শতাংশ। তার এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে মুসলিম ও অভিবাসীদের নিয়ে ট্রাম্পের বক্তব্যের ধরন আবারও আলোচনায় এসেছে।

স্থানীয় সময় শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের ডালটনে এক নির্বাচনি সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় ট্রাম্প এ মন্তব্য করেন। ডালটন মিউনিসিপ্যাল বিমানবন্দরের একটি উড়োজাহাজের হ্যাঙ্গারে আয়োজিত ওই সমাবেশে রিপাবলিকান দলের প্রার্থীদের পক্ষে প্রচার চালাচ্ছিলেন তিনি। আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে বিভিন্ন রাজনৈতিক সমাবেশে অংশ নিচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

সমাবেশে উপস্থিত জনতার উদ্দেশে ট্রাম্প বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যের কারও নাম নিয়ে সন্দেহ হলে শুধু “মুহাম্মদ” বলে ডাকবেন। ঠিক হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় ৬৫ শতাংশ। বলবেন, “হ্যালো, মুহাম্মদ। আমি বহু বছর ধরে এটা করছি। কখনো ভুল হয়নি।”’

এরপর ইরানের প্রেসিডেন্ট পদ নিয়ে ব্যঙ্গ করতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, ইরানই একমাত্র দেশ, যেখানে কেউ প্রেসিডেন্ট হতে চান না। এ সময় তিনি ‘মুহাম্মদ’ নামের কয়েকজন কাল্পনিক ব্যক্তিকে প্রেসিডেন্ট হতে চান কি না, এমন প্রশ্ন করার ভঙ্গি করেন। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তার এ মন্তব্যে সমাবেশে উপস্থিত জনতার প্রতিক্রিয়া ছিল মৃদু।

মুসলিম বিশ্বে ‘মুহাম্মদ’ ছেলেদের অন্যতম বহুল ব্যবহৃত নাম। ইসলামের মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর নামের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা থেকে বহু মুসলিম পরিবার তাদের ছেলেদের এ নাম রাখেন। তবে ট্রাম্পের মন্তব্যে নামটির এই ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক গুরুত্বের পরিবর্তে এর ব্যাপক প্রচলনকে বিদ্রূপের বিষয় হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

মুসলিম ও অভিবাসীদের নিয়ে ট্রাম্পের বক্তব্যের সমালোচনা করে আসছেন মানবাধিকারকর্মী এবং মুসলিম অধিকার নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংগঠন। তাদের অভিযোগ, ট্রাম্পের বক্তব্যে মুসলিম, অভিবাসী ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করা হয় এবং বিভিন্ন সময়ে তাদের নিয়ে বিদ্রূপ করা হয়।

মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রচার শুরুর পর এ ধরনের বক্তব্য আরও জোরালো হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বিশেষ করে সোমালি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক, মুসলিম ডেমোক্র্যাট সিনেট প্রার্থী আবদুল এল-সাইয়েদ এবং মিনেসোটার ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি ইলহান ওমরকে লক্ষ্য করে মন্তব্য করেছেন ট্রাম্প। সোমালিয়া থেকে শরণার্থী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে আসা ইলহান ওমর বর্তমানে দেশটির কংগ্রেস সদস্য।

সমাবেশে ট্রাম্প ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়েও কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, ইরানকে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া হবে না। তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি দুর্বল করার লক্ষ্য নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল সাত মাস আগে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করেছিল বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

এদিকে, কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনস (কেয়ার) চলতি বছরের শুরুতে প্রকাশিত এক বার্ষিক প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্রে ইসলামবিদ্বেষ বৃদ্ধির পেছনে ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসনবিরোধী পদক্ষেপ এবং তার দ্বিতীয় মেয়াদে ফিলিস্তিনপন্থি বিক্ষোভ দমনের উদ্যোগকে অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে।

সূত্রঃ রয়টার্স

এমকে

আরো পড়ুন

কানাডার নাগরিকত্ব পাবেন অবৈধ অভিবাসীরা

হাসপাতালে ভর্তি সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন

মার্কিন নতুন শুল্কনীতিতে চাপে যুক্তরাজ্যঃ ইউরোপীয় জোটের তুলনায় বেশি ব্যয় নিয়ে উদ্বেগ