20.8 C
London
August 22, 2026
TV3 BANGLA
আন্তর্জাতিক

যুক্তরাজ্যের আইরিশ সীমান্তে সামরিক মানের বোমা উদ্ধারঃ উত্তর আয়ারল্যান্ডে হামলার আশঙ্কা

আয়ারল্যান্ড ও যুক্তরাজ্যের সীমান্তের কাছে গোয়েন্দা তথ্যভিত্তিক এক অভিযানে সামরিক মানের একটি প্রস্তুত বোমা উদ্ধার করেছে আইরিশ পুলিশ। এ ঘটনায় ২৫ বছর বয়সী এক আইন বিভাগের ছাত্রীকে বিস্ফোরক রাখার অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে গ্রেপ্তার হওয়া চল্লিশোর্ধ্ব আরেক ব্যক্তিকে রাষ্ট্রবিরোধী অপরাধে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক রাখা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, ভিন্নমতাবলম্বী রিপাবলিকান (ডিসিডেন্ট রিপাবলিকান) গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে পরিচালিত গোয়েন্দা অভিযানের অংশ হিসেবে গত বুধবার কাউন্টি মনাহানের ক্যারিকম্যাক্রসের দক্ষিণে এন-২ সড়কে একটি গাড়ি থামিয়ে তল্লাশি চালানো হয়। অভিযোগ রয়েছে, গাড়িটিতে করেই বিস্ফোরকটি বহন করা হচ্ছিল।

শুক্রবার ট্রিম ডিস্ট্রিক্ট কোর্টের বিশেষ অধিবেশনে কাউন্টি কিলডারের ক্লেন এলাকার বাসিন্দা আইসোবেলা পেরি সুলিভান (২৫)-এর বিরুদ্ধে বিস্ফোরক রাখার অভিযোগ গঠন করা হয়। আদালত তাকে আগামী সোমবারের জামিন শুনানি পর্যন্ত কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। আদালত জানিয়েছে, জামিন দেওয়া হলেও তা কঠোর শর্তসাপেক্ষ হবে।

আইরিশ পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, উদ্ধার হওয়া বিস্ফোরকটি ছিল সম্পূর্ণ প্রস্তুত এবং তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবহারের উপযোগী। এতে একটি পাওয়ার ইউনিট, ডেটোনেটর এবং সামরিক মানের বিস্ফোরক ছিল, যা সেমটেক্স বলে ধারণা করা হচ্ছে।

নিরাপত্তা সূত্রের ধারণা, বোমাটি উত্তর আয়ারল্যান্ডে কোনো হামলার উদ্দেশ্যে গাড়ির নিচে স্থাপনযোগ্য বিস্ফোরক হিসেবে ব্যবহার করার পরিকল্পনা ছিল। ঘটনার পর আইরিশ প্রতিরক্ষা বাহিনীর এক্সপ্লোসিভ অর্ডন্যান্স ডিসপোজাল দল ঘটনাস্থলে গিয়ে বিস্ফোরকটি পরীক্ষা করে নিরাপদে নিষ্ক্রিয় করে।

আইরিশ পুলিশের কমিশনার জাস্টিন কেলি এ ঘটনাকে “অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও উদ্বেগজনক” বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, এটি কোনো সাধারণ বিস্ফোরকের যন্ত্রাংশ নয়, বরং একটি সম্পূর্ণ প্রস্তুত বিস্ফোরক ডিভাইস, যা বিস্ফোরিত হলে ব্যাপক প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি ঘটাতে পারত।

তিনি বলেন, ১৯৯৮ সালের গুড ফ্রাইডে শান্তিচুক্তি মেনে অস্ত্র সমর্পণ না করা অল্পসংখ্যক ভিন্নমতাবলম্বী রিপাবলিকান এখনও সক্রিয় রয়েছে এবং তাদের কারণে নিরাপত্তা হুমকি পুরোপুরি শেষ হয়নি।

কমিশনার কেলি আরও জানান, এটি কোনো এলোমেলো তল্লাশি ছিল না; বরং নির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতেই অভিযান পরিচালিত হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের সম্পর্কে আগে থেকেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে তথ্য ছিল।

নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, এত উন্নত প্রযুক্তির একটি বোমা তৈরি এবং সীমান্ত পর্যন্ত নিয়ে আসা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। কারণ এ ধরনের বিস্ফোরক তৈরিতে যান্ত্রিক ও বৈদ্যুতিক দক্ষতার পাশাপাশি সামরিক মানের বিস্ফোরক সংগ্রহের সক্ষমতা প্রয়োজন হয়।

তাদের আশঙ্কা, ইন্টারনেটের মাধ্যমে উগ্রপন্থায় প্রভাবিত ব্যক্তি বা ছোট গোষ্ঠীগুলো সংগঠিত নেটওয়ার্ক ছাড়াই এ ধরনের হামলার পরিকল্পনা করতে পারে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উত্তর আয়ারল্যান্ড পুলিশ সার্ভিস (PSNI)-কে লক্ষ্য করে ব্যবহৃত পাইপ বোমার তুলনায় এবার উদ্ধার হওয়া বিস্ফোরকটি অনেক বেশি উন্নতমানের ছিল বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আইরিশ পুলিশ জানিয়েছে, এই হুমকি মোকাবিলায় তারা উত্তর আয়ারল্যান্ড পুলিশ সার্ভিস (PSNI) এবং যুক্তরাজ্যের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে। সফল এই অভিযানের মাধ্যমে সম্ভাব্য একটি বড় ধরনের সন্ত্রাসী হামলা নস্যাৎ করা সম্ভব হয়েছে বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা মনে করছেন।

সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান

এম.কে

আরো পড়ুন

নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে আইসিসির পরোয়ানাকে সমর্থন ব্রিটেন, ইতালি ও স্পেনের

আইসিসি বিচারকদের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞায় ইইউর উদ্বেগ

আশ্রয়প্রার্থীদের আবাসন নিয়ে বৃটেন ও ইউরোপ জোরে নেয়া হচ্ছে নানা বিতর্কিত পরিকল্পনা