4.6 C
London
April 17, 2024
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যের কেয়ার ভিসা নিয়ে হোম অফিসের ব্যর্থতা প্রকাশ

যুক্তরাজ্যের পর্যবেক্ষকদের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ” যুক্তরাজ্যে নতুন প্রতিষ্ঠিত হওয়া এবং ব্রিটেনে স্বাস্থ্যসেবা পরিষেবা সরবরাহের কোনো ট্র্যাক রেকর্ড না থাকা সত্ত্বেও, বিদেশ থেকে শ্রমিকদের স্পনসর করার জন্য হোমঅফিস কর্তৃক শত শত সদ্য প্রতিষ্ঠিত কেয়ারহোমকে লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে।”

প্রতিবেদনে বলা হয়, সন্দেহভাজন কোম্পানি গুলোর ওয়েবসাইটও জাল ছিল। তাদের পোস্ট বক্সের যে এড্রেস দেয়া হয়েছিল তাও সঠিক নয়। এরপরেও এই সকল কোম্পানিকে লাইসেন্স দেয়া হয়েছিল কেয়ার ওয়ার্কারদের যুক্তরাজ্যে আসতে স্পনসর করার জন্য।

স্পনসর লাইসেন্সগুলি সদ্য গঠিত সংস্থাগুলিকে মঞ্জুর করা হয়েছে যারা কখনও কোম্পানির অ্যাকাউন্ট হিসাব দায়ের করেনি এবং যাদের কোম্পানির বয়স মাত্র কয়েক মাস। তাছাড়া এই সকল কোম্পানি কখনও কেয়ার কোয়ালিটি কমিশন (সিকিউসি) দ্বারা পরিদর্শন করা হয়নি এমন কমপক্ষে ২৬৮টি সংস্থাকে লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে।

এই অনুসন্ধানগুলি বর্ডারস অ্যান্ড ইমিগ্রেশন প্রাক্তন স্বতন্ত্র চিফ ইন্সপেক্টর ডেভিড নিলের একটি প্রতিবেদনেও উঠে এসেছে।

গত মাসে টাইমসকে ফাঁস হওয়া একটি অপ্রকাশিত প্রতিবেদনে জানা যায় এমন প্রতিষ্ঠানও নিল খুঁজে পেয়েছেন যাদেরকে হোম অফিস ২৭৫ টি ভিসার লাইসেন্স প্রদান করেছিল। কিন্তু কোম্পানিটির আদৌ কোনো অস্তিত্ব ছিল না।

অন্য একটি ক্ষেত্রে দেখা যায়, হোম অফিস একটি সংস্থাকে ১,২৩৪ ভিসা দিয়েছিল যেখানে পরিদর্শন করে মাত্র চারজন কর্মী উপস্থিত পাওয়া যায়। ওয়াচডগ পরিদর্শক নিল আরো জানান, হোম অফিস প্রতি ১,৬০০ জন এম্পলয়ার লাইসেন্সের জন্য মাত্র একজন কমপ্লায়েন্স অফিসার নিয়োগ করেছিল।

প্রতিবেদনে আরো জানা যায়, ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে যুক্তরাজ্যে একটি আবাসিক কেয়ার হোমকে লাইসেন্স দেয়া হয়েছিল যারা মে মাসে সিকিউসিতে নিবন্ধিত হয়েছিল। পরবর্তীতে জুলাই মাসে তাদের স্পনসর লাইসেন্স প্রদান করা হয়। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটিতে কখনও সিকিউসি দ্বারা পরিদর্শন করা হয়নি। এমন কি কেয়ার হোম পরিচালনার কোনো প্রমাণিত ট্র্যাক রেকর্ডও তাদের ছিল না।

এমন আরো বিভিন্ন ঘটনায় দেখা যায়, কেয়ার হোমের লাইসেন্স প্রাপ্ত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ছিল যাদের কাজ মূলত ছিল সিভি প্রস্তুতি, ইন্টারভিউয়ের দক্ষতা কোচিং করানো এবং ওয়ার্ক পারমিট বা ভিসা সহায়তা প্রদান। হোম অফিসের নিয়ম কানুন থাকা সত্ত্বেও নিয়মকানুনের তোয়াক্কা না করেই কেয়ার হোমের লাইসেন্স প্রদান করা হয়েছিল।

ইমিগ্রেশন বিশেষজ্ঞ এবং দাতব্য সংস্থাদের মতে এইসব ঘটনা প্রমাণ করে স্পনসর লাইসেন্স সিস্টেমের ফাঁক দিয়ে বোগাস প্রতিষ্ঠানদের কেয়ার ওয়ার্কারদের স্পন্সর করার ক্ষমতা দেয়া হয়েছিল।যার কারণে হাজার হাজার পাউন্ড চার্জ করার সুযোগ পেয়ে এইসব প্রতিষ্ঠান বিদেশি শ্রমিকদের শোষণের সুযোগ পায়। তাছাড়া মর্ডান স্লেভারির মতো ঘটনাও এইসবের সাথে জড়িয়ে পড়ে।

সরকারের শীর্ষ অভিবাসন উপদেষ্টা, অধ্যাপক ব্রায়ান বেল বলেন, “ কিছু সংস্থাগুলির কার্যক্রম দেখে অনুধাবন করা যায় যে তাদের মূল উদ্দেশ্য কেয়ার হোম চালানো নয়। তাদের উদ্দেশ্য হল হোম অফিস হতে লাইসেন্স নেয়া। লাইসেন্সের অনুপাতে ভিসার আবেদন করা এবং এরপর তা বিক্রি করে দেয়া।”

ওয়ার্ক রাইটস সেন্টারের সিনিয়র পলিসি অফিসার অ্যাডিস শেহিক বলেন, ” এই প্রতিবেদন হতে অনুধাবন করা যায় হোম অফিস খুব বেশি নজরদারি করে নাই লাইসেন্স প্রদানের ক্ষেত্রে। যার ফলে গোঁড়াতেই গলদ রয়ে গিয়েছে।”

হোম অফিস জানিয়েছে যে তারা ইতোমধ্যে কেয়ার হোমের স্পন্সর লাইসেন্সের ক্ষেত্রে নজরদারি বাড়িয়েছে। ভবিষ্যতে স্পনসর লাইসেন্স সিস্টেমের তদারকি আরও জোরদার করা হবে।

উল্লেখ্য যে বর্তমান কার্যকর হওয়া নিয়মের অধীনে, কোনো প্রতিষ্ঠান ইংল্যান্ডে কেবল সিকিউসিতে নিবন্ধিত হলেই কেয়ার হোমে অভিবাসী শ্রমিকদের স্পনসর করতে সক্ষম হবেন। গত সপ্তাহে প্রকাশিত তথ্যে দেখা যায় স্পনসরশিপ লাইসেন্সধারী খারাপ প্রতিষ্ঠানদের উপর সরকারী ক্র্যাকডাউন বর্তমানে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৩ সালে, হোমঅফিস ৩৩৭টি প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বাতিল করেছে এবং আরও ৫৬৯টি প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স স্থগিত করেছে।

২০২৩ সালে মূল আবেদনকারী এবং তাদের ডিপেন্ডেন্ট মিলিয়ে প্রায় সাড়ে তিন লাখ কেয়ার ভিসা ইস্যু করা হয়েছিল। যা ২০২২ সালের কেয়ার ভিসার ইস্যুর চেয়ে কয়েক গুণ বেশি। তাছাড়া যেসব বিদেশি কর্মী কেয়ার ওয়ার্কার হিসাবে যুক্তরাজ্যে প্রবেশ করেছেন তারাও অনেক বেশি অর্থ প্রদান করে ভিসা নিয়েছেন। আর ফলে কোন প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স চলে গেলে সেই সব কেয়ার ওয়ার্কারদের ভিসা বাতিল হয়ে যাচ্ছে। সব মিলিয়ে যুক্তরাজ্যের কেয়ার ভিসা রুটে চরম অব্যবস্থাপনা বিরাজ করছে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান

এম.কে
০৪ মার্চ ২০২৪

আরো পড়ুন

যুক্তরাজ্যে গত বছরে গড়ে প্রতিদিন বন্ধ হয়েছে ১৪ চেইন স্টোর

যুক্তরাজ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশি নিহত

অনলাইন ডেস্ক

খাবারে স্বাস্থ্যমান কমছে ব্রিটিশ পরিবারগুলোর