28.5 C
London
July 15, 2026
TV3 BANGLA
মুক্তমত

যুক্তরাজ্যের নেতৃত্ব সংকট: পরিকল্পনাহীন প্রধানমন্ত্রীদের ধারাবাহিক পতনে এক ব্যর্থ রাষ্ট্রের প্রতিচ্ছবি

নাশিত রহমান || লন্ডন || ১৫ জুলাই ২০২৬

 

ব্রেক্সিট গণভোটের পর ২৪ জুন ২০১৬ তে ডেভিড ক্যামেরনের আকস্মিক পদত্যাগ যুক্তরাজ্যের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাকে প্রথমবারের মতো গভীরভাবে নাড়িয়ে দেয়। সেই শূন্যতার সুযোগে থেরেসা মে প্রধানমন্ত্রী হন, যদিও তখন বরিস জনসনকে সবচেয়ে সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে দেখা হচ্ছিল। কিন্তু মাইকেল গোভের অপ্রত্যাশিত বিশ্বাসঘাতকতা জনসনের পথ রুদ্ধ করে এবং মে র জন্য ক্ষমতার দরজা খুলে দেয়। থেরেসা মে র শাসনকাল ছিল অনিশ্চয়তা, বিভাজন এবং ব্যর্থ ব্রেক্সিট আলোচনার এক দীর্ঘ অধ্যায়, যার পরিণতিতে তিনি ২৪ জুলাই ২০১৯ এ পদত্যাগে বাধ্য হন। এরপর বরিস জনসন প্রধানমন্ত্রী হন—একজন নেতা যিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রী থাকাকালীনই সংবেদনশীল ও কৌশলগত নথি থেকে নিষিদ্ধ ছিলেন। তাঁর পতন ছিল পূর্বাভাসযোগ্য; নীতিগত অস্থিরতা, কেলেঙ্কারি এবং নেতৃত্বের অভাব তাঁকে দ্রুতই দুর্বল করে তোলে।

বরিস জনসন ব্রিটিশ রাজনীতিতে এক বিরল চরিত্র—একদিকে বিতর্কিত, অন্যদিকে জনপ্রিয়; একদিকে নীতিগত অনিশ্চয়তার প্রতীক, অন্যদিকে জনমোহিনী নেতৃত্বের উদাহরণ। তাঁর রাজনৈতিক জীবন শুরু থেকেই ছিল নাটকীয়তা, রসিকতা, আত্মবিশ্বাস এবং বিতর্কের এক মিশ্রণ। জনসনকে অনেকেই দেখেছেন একজন প্রথিতযষা মিথ্যাবাদী, নৈতিক সীমারেখাহীন রাজনীতিক, এবং একই সঙ্গে একজন অসাধারণ জনপ্রিয় জননেতা হিসেবে। তাঁর ব্যক্তিত্ব ছিল এমন যে তিনি একই সময়ে সমালোচনার কেন্দ্রবিন্দু এবং জনতার প্রিয় মুখ হতে পারতেন—এটি ব্রিটিশ রাজনীতিতে খুব কম নেতার ক্ষেত্রে দেখা যায়। দুইবার লন্ডনের মেয়র হিসেবে নির্বাচিত হওয়া তাঁর জনপ্রিয়তার অন্যতম প্রমাণ। ২০০৮ এবং ২০১২ সালের নির্বাচনে তিনি লন্ডনের বহুমাত্রিক জনসংখ্যার সমর্থন অর্জন করেন, যদিও তাঁর নীতি ও সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্ক কখনোই থামেনি। মেয়র হিসেবে তিনি একদিকে সাইক্লিং অবকাঠামো উন্নয়ন, গণপরিবহন সংস্কার এবং শহরের ব্র্যান্ডিং‑এ নতুন মাত্রা যোগ করেন; অন্যদিকে তাঁর প্রশাসনিক দুর্বলতা, নীতিগত অসঙ্গতি এবং ব্যক্তিগত আচরণ নিয়ে সমালোচনা ছিল অব্যাহত। তবুও জনসনের ব্যক্তিত্বের অদ্ভুত আকর্ষণ তাঁকে বারবার রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রেখেছে।

 

জনসনের পর লিজ ট্রাস ৬ সেপ্টেম্বর ২০২২ এ প্রধানমন্ত্রী হন, কিন্তু মাত্র ৪৯ দিনের মাথায় ২৫ অক্টোবর ২০২২ এ পদত্যাগ করেন—যা ব্রিটিশ ইতিহাসের সবচেয়ে সংক্ষিপ্ত মেয়াদের প্রধানমন্ত্রীত্ব। লিজ ট্রাসের মাত্র ৪৯ দিনের প্রধানমন্ত্রীত্ব ব্রিটিশ ইতিহাসে এক অভূতপূর্ব ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছে। তাঁর অর্থনৈতিক নীতি, বিশেষ করে “মিনি বাজেট” এবং কর কমানোর পরিকল্পনা, বাজারে এমন অস্থিরতা সৃষ্টি করেছিল যে ব্রিটিশ পাউন্ডের মান কমে যায়, বন্ড মার্কেট বিপর্যস্ত হয় এবং ব্যাংক অব ইংল্যান্ডকে জরুরি হস্তক্ষেপ করতে হয়। এই অস্থিরতার মধ্যেই ব্রিটিশ ট্যাবলয়েড ডেইলি স্টার একটি ব্যঙ্গাত্মক লাইভস্ট্রিম চালু করে—যেখানে একটি আইসবার্গ লেটুসের পাশে লিজ ট্রাসের ছবি রাখা হয় এবং প্রশ্ন তোলা হয়: “Which will last longer?” এই ব্যঙ্গাত্মক তুলনা দ্রুতই ভাইরাল হয়ে যায় এবং আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসে। লেটুসটি শেষ পর্যন্ত ৭ দিন টিকে থাকে, আর ট্রাস ৪৯ দিনের মাথায় পদত্যাগ করেন—ফলে এই তুলনা ব্রিটিশ রাজনৈতিক ইতিহাসে এক স্থায়ী ব্যঙ্গচিহ্ন হিসেবে জায়গা করে নেয়।
লেটুসের সঙ্গে এই তুলনা শুধু একটি হাস্যরসাত্মক ঘটনা নয়; এটি ছিল ব্রিটিশ জনগণের হতাশা, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং নেতৃত্ব সংকটের প্রতীক। ট্রাসের নীতিগত ভুল, বাজারের ওপর নেতিবাচক প্রভাব এবং দলীয় সমর্থনের দ্রুত ক্ষয় তাঁকে এমন অবস্থায় নিয়ে যায় যেখানে তাঁর নেতৃত্বের স্থায়িত্ব নিয়ে ব্যঙ্গ করা সহজ হয়ে পড়ে। ব্রিটিশ রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে ব্যঙ্গ ও রসিকতা দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য—চার্চিল যুগ থেকে শুরু করে থ্যাচার, ব্লেয়ার, ক্যামেরন, জনসন—সবাই কখনো না কখনো ব্যঙ্গচিত্রের শিকার হয়েছেন। কিন্তু লিজ ট্রাসের ক্ষেত্রে ব্যঙ্গের তীব্রতা ছিল অভূতপূর্ব, কারণ তাঁর নেতৃত্বের পতন ছিল দ্রুত, নাটকীয় এবং বাজার নির্ভর।

 

এরপর রিশি সুনাক দায়িত্ব নেন এবং পরবর্তী সাধারণ নির্বাচন পর্যন্ত দেশ পরিচালনা করেন। রিশি সুনাকের অর্থনৈতিক পরিকল্পনা ছিল তাঁর তিন পূর্বসূরি কনজারভেটিভ প্রধানমন্ত্রীর তুলনায় অনেক বেশি সংগঠিত, বাস্তবভিত্তিক এবং বাজার সংবেদনশীল। থেরেসা মে, বরিস জনসন এবং লিজ ট্রাস—এই তিনজনের শাসনামলে যুক্তরাজ্য বারবার নীতিগত অস্থিরতা, নেতৃত্ব সংকট এবং বাজারের অনিশ্চয়তার মুখোমুখি হয়েছে। বিশেষ করে লিজ ট্রাসের “মিনি বাজেট” দেশকে এমন আর্থিক বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দিয়েছিল যে পাউন্ডের মান কমে যায়, বন্ড মার্কেট অস্থিতিশীল হয় এবং ব্যাংক অব ইংল্যান্ডকে জরুরি হস্তক্ষেপ করতে হয়। এই অস্থিরতার পর সুনাক দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং তাঁর প্রথম কাজ ছিল বাজারের আস্থা পুনরুদ্ধার, আর্থিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং নীতিগত স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা।
সুনাকের অর্থনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি ছিল তুলনামূলকভাবে সতর্ক, তথ্যনির্ভর এবং দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতার ওপর ভিত্তি করে। তিনি ব্যয়সংযম, মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, কর কাঠামো পুনর্বিবেচনা এবং বাজারের আস্থা পুনর্গঠনে গুরুত্ব দেন। তাঁর নীতি ছিল এমন যে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীরা আবারও যুক্তরাজ্যের অর্থনীতিকে স্থিতিশীল হিসেবে বিবেচনা করতে শুরু করেন। যদিও তাঁর সিদ্ধান্তগুলো অনেক সময় কঠোর বলে মনে হয়েছে, তবুও অর্থনৈতিক বাস্তবতায় তা ছিল প্রয়োজনীয়। সুনাকের নেতৃত্বে যুক্তরাজ্য অন্তত আর্থিক দিক থেকে একটি পূর্বানুমানযোগ্য পথের দিকে এগোতে থাকে—যা তাঁর পূর্বসূরিদের সময় অনুপস্থিত ছিল।

 

তবে অর্থনৈতিক দক্ষতা থাকা সত্ত্বেও রিশি সুনাক কখনোই সাধারণ জনগণের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করতে পারেননি। তাঁর ব্যক্তিত্ব অনেকের কাছে ছিল দূরত্বপূর্ণ, অভিজাত এবং রাজনৈতিকভাবে সংযত। বরিস জনসনের মতো জনমোহিনী রসবোধ বা লিজ ট্রাসের মতো দলীয় উচ্চকণ্ঠ সমর্থন তাঁর ছিল না। কনজারভেটিভ এমপিদের মধ্যেও তিনি ছিলেন বিভক্ত মতামতের কেন্দ্রবিন্দু—একদল তাঁকে দক্ষ অর্থনৈতিক নেতা হিসেবে দেখেছে, অন্যদল তাঁকে রাজনৈতিকভাবে দুর্বল এবং ভোটব্যাংকহীন হিসেবে বিবেচনা করেছে। তাঁর ভারতীয় বংশোদ্ভূত পরিচয়, উচ্চবিত্ত জীবনধারা এবং আর্থিক পটভূমি অনেক সময় তাঁকে সাধারণ ব্রিটিশ ভোটারের সঙ্গে আবেগগতভাবে সংযুক্ত হতে দেয়নি।
এই বৈপরীত্যই রিশি সুনাককে ব্রিটিশ রাজনীতিতে একটি অনন্য অবস্থানে দাঁড় করায়—তিনি ছিলেন একজন দক্ষ অর্থনৈতিক পরিকল্পনাকারী, কিন্তু অজনপ্রিয় রাজনৈতিক নেতা। তাঁর নীতি বাজারকে স্থিতিশীল করেছে, কিন্তু জনমতকে আকৃষ্ট করতে পারেনি। তাঁর নেতৃত্ব প্রশাসনিকভাবে কার্যকর ছিল, কিন্তু রাজনৈতিকভাবে দুর্বল। যুক্তরাজ্যের সাম্প্রতিক ইতিহাসে সুনাকের অধ্যায় তাই একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দেয়: অর্থনৈতিক দক্ষতা নেতৃত্বের অপরিহার্য অংশ হলেও, রাজনৈতিক জনপ্রিয়তা এবং দলীয় ঐক্য ছাড়া কোনো প্রধানমন্ত্রীই দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে পারে না।

থেরেসা মে, বরিস জনসন, লিজ ট্রাস এবং রিশি সুনাক—এই চারজনই দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, শক্তিশালী দল এবং কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গি ছাড়া ক্ষমতায় এসেছিলেন। নীতিনির্ধারণে ক্যাবিনেট মন্ত্রীরা হয়ে ওঠেন প্রধান চালিকাশক্তি, যারা জনপ্রিয়তা বিবর্জিত সিদ্ধান্ত, নির্বাচনী ইশতেহাসবহির্ভূত নীতি এবং ধারাবাহিক ইউ টার্নের মাধ্যমে সরকারকে অস্থিরতার দিকে ঠেলে দেন। যুক্তরাজ্যের মতো রাষ্ট্র আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পরিণত হয় এক ধরনের হাস্যরসের উপাদানে—যেখানে প্রধানমন্ত্রী বদল হয় এমন দ্রুততায় যে তা বৈশ্বিক রাজনীতিতে প্রায় কৌতুকের রূপ নেয়।
এই অস্থিরতার ধারাবাহিকতায় স্যার কেয়ার স্টারমারও ২০২৪ এর নির্বাচনে জয়ী হয়ে প্রধানমন্ত্রী হলেও মৌলিক পরিকল্পনা ও সুসংগঠিত নেতৃত্বের অভাবে ব্যর্থ হন। তাঁর সরকার পরিচালনার মূল দায়িত্ব বাস্তবে পালন করছিলেন মর্গান ম্যাক্সওয়াইনি—একজন কৌশলবিদ যার প্রধান লক্ষ্য ছিল জেরেমি করবিনপন্থী ও বামপন্থী নেতৃত্বকে লেবার পার্টি থেকে সরিয়ে দেওয়া। ম্যাক্সওয়াইনি ছিলেন বরিস জনসনের কৌশলবিদ ডমিনিক কামিংসের মতোই বিতর্কিত, অজনপ্রিয় এবং নৈতিক প্রশ্নে ঘেরা। দুজনই নিজ নিজ দলের ভেতরে তীব্র বিরোধের মুখে পড়েন এবং শেষ পর্যন্ত পদত্যাগে বাধ্য হন। তাদের নীতিগত অস্থিরতা ও দলীয় বিভাজনই দুই প্রধানমন্ত্রীর পতনের অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হয়।

 

এই দীর্ঘ অস্থিরতার পর ২০ জুলাই ২০২৬ এ অ্যান্ডি বার্নহাম যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করতে যাচ্ছেন। তিনি হবেন ব্রিটিশ ইতিহাসের সবচেয়ে অপ্রত্যাশিত প্রধানমন্ত্রীদের একজন—কারণ তাঁর ক্ষমতায় অহোরন ঘটছে মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যে, এমপি হওয়ার পর পরই। তিনি এখনো কোনো বড় নীতি ঘোষণা করেননি, কোনো নেতৃত্ব প্রতিযোগিতায় অংশ নেননি, এবং তাঁর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে দেশবাসী প্রায় কিছুই জানে না। যদিও এক দশক আগে তিনি জেরেমি করবিন ও কেয়ার স্টারমারের বিরুদ্ধে লেবার নেতৃত্বের প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন এবং পরাজিত হন, তবুও আজ ৪০৩ জন লেবার এমপির মধ্যে ৩৩৯ জনের সমর্থন তাঁকে ইতিহাসের সবচেয়ে জনপ্রিয় লেবার এমপি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। কিন্তু জনপ্রিয়তা কখনোই সফল প্রধানমন্ত্রী হওয়ার নিশ্চয়তা দেয় না।
অ্যান্ডি বার্নহাম ব্রিটিশ লেবার পার্টির নেতৃত্বের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে প্রথম জাতীয় পরিচিতি লাভ করেন। তিনি ২০১০ সালে লেবার নেতৃত্বের দৌড়ে এড মিলিব্যান্ড, ডেভিড মিলিব্যান্ড, এড বলস এবং ডায়ান অ্যাবটের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। সেই প্রতিযোগিতায় তিনি চতুর্থ স্থানে থেকে পরাজিত হন। নেতৃত্বের লড়াইয়ে ব্যর্থ হওয়ার পরও তিনি লেবার পার্টির একজন গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
অ্যান্ডি বার্নহাম লেবার পার্টির নেতৃত্বের দৌড়ে জেরেমি করবিনের কাছে পরাজিত হওয়া তাঁর রাজনৈতিক জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় ছিল। ২০১৫ সালের লেবার নেতৃত্ব নির্বাচন ছিল দলের ইতিহাসে অন্যতম নাটকীয় প্রতিযোগিতা—যেখানে দলীয় অভ্যন্তরীণ বিভাজন, আদর্শিক সংঘাত এবং ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নিয়ে তীব্র বিতর্ক চলছিল। অ্যান্ডি বার্নহাম তখন ছিলেন দলের মধ্যপন্থী ও প্রশাসনিক অভিজ্ঞতার প্রতিনিধিত্বকারী একজন নেতা; অন্যদিকে জেরেমি করবিন ছিলেন বামপন্থী আদর্শের প্রতীক, যিনি দীর্ঘদিন ব্যাকবেঞ্চার হিসেবে কাজ করলেও তৃণমূলের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিলেন।

 

২০১৫ সালের নেতৃত্ব নির্বাচনে করবিনের উত্থান ছিল অভূতপূর্ব। তিনি মাত্র কয়েক সপ্তাহের প্রচারণায় লেবার পার্টির তৃণমূল সদস্যদের মধ্যে এমন এক সাড়া জাগান যে নির্বাচনের দিন তিনি বিপুল ভোটে বিজয়ী হন। অ্যান্ডি বার্নহাম দ্বিতীয় স্থানে থাকলেও করবিনের জনপ্রিয়তার ঢেউ তাঁকে পিছনে ফেলে দেয়। এই পরাজয় বার্নহামের জন্য শুধু রাজনৈতিক হতাশাই নয়, বরং জাতীয় রাজনীতিতে তাঁর ভবিষ্যৎ ভূমিকা নিয়ে নতুন করে ভাবার একটি সুযোগ তৈরি করে।
নেতৃত্ব নির্বাচনে পরাজয়ের পর অ্যান্ডি বার্নহাম উপলব্ধি করেন যে লেবার পার্টির জাতীয় নেতৃত্বে তাঁর অবস্থান দুর্বল হয়ে গেছে এবং দলের আদর্শিক পরিবর্তনের সঙ্গে তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। সেই কারণেই তিনি ২০১৬ সালে এমপি পদ থেকে পদত্যাগ করেন। জাতীয় সংসদীয় রাজনীতি থেকে সরে এসে তিনি স্থানীয় নেতৃত্বে মনোনিবেশের সিদ্ধান্ত নেন—যা তাঁর রাজনৈতিক জীবনের দ্বিতীয় অধ্যায়কে শুরু করে। ৪ মে ২০১৭ সালে তিনি গ্রেটার ম্যানচেস্টারের নির্বাচিত মেয়র হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন—যা তাঁকে জাতীয় রাজনীতির বাইরে একটি নতুন শক্তিশালী প্রশাসনিক ভূমিকা দেয়। মেয়র হিসেবে তাঁর জনপ্রিয়তা দ্রুত বৃদ্ধি পায়, বিশেষ করে কোভিড ১৯ মহামারির সময় স্থানীয় জনগণের পক্ষে তাঁর দৃঢ় অবস্থান তাঁকে জাতীয় পর্যায়ে আবারও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে আসে।
অ্যান্ডি বার্নহামের মতোই সাদিক খানও লেবার পার্টির একজন গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় নেতা ছিলেন এবং দুজনই একই সময়ে টনি ব্লেয়ার ও গর্ডন ব্রাউনের সরকারের মন্ত্রী হিসেবে কাজ করেছেন। সাদিক খান ২০০৫ সালে টুটিং আসন থেকে এমপি নির্বাচিত হন এবং পরবর্তী এক দশক ধরে তিনি লেবার পার্টির অন্যতম প্রভাবশালী মুসলিম নেতা হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। তিনি ২০০৯ সালে জাস্টিস মিনিস্টার এবং পরে ট্রান্সপোর্ট মিনিস্টার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। জাতীয় রাজনীতিতে তাঁর অবস্থান শক্তিশালী হলেও তিনি ২০১৫ সালে এমপি পদ থেকে পদত্যাগ করেন এবং লন্ডনের মেয়র নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সিদ্ধান্ত নেন। ৫ মে ২০১৬ সালে তিনি লন্ডনের প্রথম মুসলিম মেয়র হিসেবে নির্বাচিত হন এবং পরবর্তীতে ২০২১ ও ২০২৪ সালে পুনর্নির্বাচিত হন। তাঁর মেয়রত্ব লন্ডনের বহুসাংস্কৃতিক পরিচয়, গণপরিবহন উন্নয়ন এবং সামাজিক ন্যায়বিচারের প্রশ্নে একটি নতুন রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করে।
অ্যান্ডি বার্নহাম ও সাদিক খান—দুজনই একই রাজনৈতিক প্রজন্মের নেতা, দুজনই লেবার সরকারের মন্ত্রী ছিলেন, এবং দুজনই জাতীয় রাজনীতি থেকে সরে এসে স্থানীয় নেতৃত্বে নতুন পরিচয় গড়ে তুলেছেন। তাঁদের পদত্যাগের সিদ্ধান্ত ছিল রাজনৈতিকভাবে সাহসী, কারণ জাতীয় সংসদীয় রাজনীতি ছেড়ে স্থানীয় প্রশাসনে যাওয়া ব্রিটিশ রাজনীতিতে খুব সাধারণ ঘটনা নয়। কিন্তু এই সিদ্ধান্তই তাঁদেরকে নতুনভাবে প্রতিষ্ঠিত করেছে—একজন ম্যানচেস্টারের জনপ্রিয় মেয়র, অন্যজন লন্ডনের বহুল আলোচিত মেয়র। দুজনেরই রাজনৈতিক যাত্রা দেখায় যে নেতৃত্বের পথ কখনোই একরৈখিক নয়; কখনো জাতীয় রাজনীতি থেকে সরে গিয়ে স্থানীয় নেতৃত্বই একজন নেতাকে নতুন শক্তি, নতুন পরিচয় এবং নতুন জনপ্রিয়তা দিতে পারে।

 

অ্যান্ডি বার্নহাম এবং সাদিক খান—এই দুই নেতা আজকের যুক্তরাজ্যের স্থানীয় প্রশাসনে সবচেয়ে জনপ্রিয় ও সফল নেতৃত্বের প্রতীক। জাতীয় রাজনীতিতে লেবার ও কনজারভেটিভ প্রধানমন্ত্রীদের মধ্যে যে পরিকল্পনাহীনতা, দলীয় দুর্বলতা এবং নীতিগত অস্থিরতা দেখা গেছে, তার সম্পূর্ণ বিপরীত চিত্র পাওয়া যায় এই দুই মহানগরীর নির্বাচিত মেয়রদের নেতৃত্বে। তারা দুজনই বারবার নির্বাচিত হয়েছেন, বছর বছর জনপ্রিয়তা ধরে রেখেছেন এবং তাদের প্রশাসনিক সাফল্য প্রমাণ করেছে যে শক্তিশালী পরিকল্পনা, সুসংগঠিত দল এবং ধারাবাহিক নীতি থাকলে নেতৃত্ব টিকে থাকে এবং জনগণের আস্থা অর্জন করে।
অ্যান্ডি বার্নহাম তাঁর মেয়রত্বের সময় তিনি পরিবহন ব্যবস্থা, গৃহহীনতা, স্বাস্থ্যসেবা, পুলিশিং এবং আঞ্চলিক অর্থনীতি নিয়ে সুস্পষ্ট পরিকল্পনা গ্রহণ করেন। কোভিড ১৯ মহামারির সময় ম্যানচেস্টারের জনগণের পক্ষে তাঁর দৃঢ় অবস্থান তাঁকে জাতীয় পর্যায়ে আবারও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে আসে। ২০২১ সালে তিনি পুনর্নির্বাচিত হন এবং তাঁর জনপ্রিয়তা আরও বৃদ্ধি পায়। বার্নহামের নেতৃত্ব দেখিয়েছে—একটি শক্তিশালী দল, সুসংগঠিত পরিকল্পনা এবং জনগণের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ থাকলে নেতৃত্ব শুধু টিকে থাকে না, বরং আরও শক্তিশালী হয়।
অন্যদিকে সাদিক খানও একই ধরনের রাজনৈতিক যাত্রা অনুসরণ করেছেন। তাঁর মেয়রত্বে লন্ডনের গণপরিবহন উন্নয়ন, পরিবেশবান্ধব নীতি, সাশ্রয়ী বাসস্থান, অপরাধ দমন এবং বহুসাংস্কৃতিক সমাজের সুরক্ষা নিয়ে ধারাবাহিক পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। ২০২১ সালে তিনি পুনর্নির্বাচিত হন এবং ২০২৪ সালে আবারও লন্ডনের মেয়র হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন—যা তাঁর জনপ্রিয়তা ও নেতৃত্বের স্থায়িত্বকে আরও সুস্পষ্ট করে।

 

অ্যান্ডি বার্নহাম ও সাদিক খান—দুজনই দেখিয়েছেন যে নেতৃত্বের সাফল্য আসে পরিকল্পনা এবং ধারাবাহিক নীতি থেকে। তারা দুজনই মহানগরীর জটিল চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেছেন—পরিবহন সংকট, অপরাধ বৃদ্ধি, অর্থনৈতিক চাপ, সামাজিক বৈষম্য, পরিবেশগত সমস্যা এবং মহামারির মতো কঠিন পরিস্থিতি। কিন্তু তারা সফলভাবে এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেছেন তাদের সুসংগঠিত দল, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা এবং জনগণের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের মাধ্যমে।
এই দুই মেয়রের সাফল্য যুক্তরাজ্যের জাতীয় রাজনীতির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দেয়—যে নেতৃত্বের স্থায়িত্ব আসে পরিকল্পনা থেকে, জনপ্রিয়তা আসে কাজ থেকে, এবং আস্থা আসে দলগত শক্তি থেকে। অ্যান্ডি বার্নহাম ও সাদিক খান তাই শুধু দুই মহানগরীর নেতা নন; তারা যুক্তরাজ্যের নেতৃত্ব সংকটের মধ্যে একটি নতুন দৃষ্টান্ত, যেখানে পরিকল্পনা ও দলগত কাজই সাফল্যের মূল ভিত্তি।
অ্যান্ডি বার্নহামের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো—তিনি টনি ব্লেয়ার বা মার্গারেট থ্যাচারের মতো শক্তিশালী দল, সুসংগঠিত কৌশল এবং দীর্ঘমেয়াদি ভিশন নিয়ে ক্ষমতায় আসছেন না। তিনি ডেভিড মিলিব্যান্ড ও এড বলসের মতো ব্লেয়ার যুগের অভিজ্ঞদের ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনা করছেন, যা অভিজ্ঞতার দিক থেকে সহায়ক হলেও আধুনিক রাজনৈতিক বাস্তবতায় যথেষ্ট নয়। বার্নহামের ব্লেয়ার, গর্ডন ব্রাউন সরকারের মন্ত্রী হিসেবে অভিজ্ঞতা এবং ম্যানচেস্টারের মেয়র হিসেবে এক দশকের নেতৃত্ব তাঁকে কিছুটা প্রস্তুত করেছে, কিন্তু যুক্তরাজ্যের বর্তমান সংকট মোকাবিলায় তা যথেষ্ট নয় যদি তাঁর কাছে স্পষ্ট ভিশন, সুসংগঠিত দল এবং দীর্ঘমেয়াদি কৌশল না থাকে।
যুক্তরাজ্যের সাম্প্রতিক ইতিহাস দেখিয়েছে—পরিকল্পনাহীন নেতৃত্ব, দুর্বল দল এবং নীতিগত অস্থিরতা একটি রাষ্ট্রকে ব্যর্থতার দিকে ঠেলে দিতে পারে। তবে এই বাস্তবতা নতুন নয়; বিংশ শতাব্দীর শুরু থেকে আজ পর্যন্ত ব্রিটিশ রাজনীতি বারবার প্রমাণ করেছে যে নেতৃত্বের সংকট, দলীয় বিভাজন এবং নীতিগত অনিশ্চয়তা একটি পরিণত গণতন্ত্রকেও বিপর্যস্ত করতে পারে। ১৯০০ এর যুক্তরাজ্য একাধিকবার এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছে যখন প্রধানমন্ত্রীদের হঠাৎ পদত্যাগ, দলীয় ভাঙন, নীতিগত অস্থিরতা এবং আন্তর্জাতিক চাপ রাষ্ট্রকে দুর্বল করে তুলেছিল। ১৯১৬ সালে এইচ.এইচ. অ্যাসকুইথের পতন এবং ডেভিড লয়েড জর্জের উত্থান ছিল দলীয় বিভাজন ও যুদ্ধকালীন নীতিগত ব্যর্থতার ফল। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় নেতৃত্বের অস্থিরতা ব্রিটিশ রাজনীতিকে এমনভাবে নাড়িয়ে দিয়েছিল যে দেশকে নতুন করে কৌশলগত দিকনির্দেশনা নির্ধারণ করতে হয়েছিল। একইভাবে ১৯৩০ এর দশকে র‍্যামসে ম্যাকডোনাল্ডের ন্যাশনাল গভর্নমেন্ট গঠন এবং লেবার পার্টি থেকে তাঁর বিচ্ছিন্নতা দেখিয়েছিল—দলীয় ঐক্য ভেঙে গেলে নেতৃত্বের বৈধতা দ্রুতই ক্ষয় হয় এবং রাষ্ট্র নীতিগত স্থবিরতায় পড়ে।

 

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় নেভিল চেম্বারলিনের তোষণনীতি (appeasement policy) এবং তার ব্যর্থতা ব্রিটিশ নেতৃত্বের আরেকটি বড় সংকটের উদাহরণ। তাঁর নীতিগত ভুল এবং কৌশলগত দুর্বলতা দেশকে এমন বিপদের মুখে ঠেলে দিয়েছিল যে ১৯৪০ সালে তাঁকে পদত্যাগ করতে হয় এবং উইনস্টন চার্চিল দায়িত্ব নেন। চার্চিলের নেতৃত্ব দেখিয়েছে—একটি শক্তিশালী দল, স্পষ্ট ভিশন এবং দৃঢ় কৌশল ছাড়া কোনো প্রধানমন্ত্রীই সংকট মোকাবিলা করতে পারে না। যুদ্ধোত্তর সময়ে অ্যান্থনি ইডেনের সুয়েজ সংকট (১৯৫৬) ছিল আরেকটি উদাহরণ যেখানে ভুল সিদ্ধান্ত, আন্তর্জাতিক চাপ এবং কৌশলগত ব্যর্থতা একজন প্রধানমন্ত্রীকে দ্রুত পতনের দিকে ঠেলে দেয়। সুয়েজ সংকটের পর যুক্তরাজ্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তার অবস্থান পুনর্নির্ধারণে বাধ্য হয়, যা দেখায়—একটি ভুল কৌশল পুরো রাষ্ট্রের মর্যাদা ও ক্ষমতা দুর্বল করে দিতে পারে।
১৯৭০ এর দশকে এডওয়ার্ড হিথের অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় ব্যর্থতা, তিন দিনের কর্মসপ্তাহ, শ্রমিক ধর্মঘট এবং নীতিগত অস্থিরতা দেশকে এমন অচলাবস্থায় নিয়ে গিয়েছিল যে নেতৃত্ব পরিবর্তন ছাড়া আর কোনো পথ ছিল না। জেমস ক্যালাহানের “Winter of Discontent” (১৯৭৮ ৭৯) দেখিয়েছে—দলীয় দুর্বলতা এবং নীতিগত অস্থিরতা একটি সরকারকে কত দ্রুত জনসমর্থন হারাতে বাধ্য করতে পারে। এই সময়গুলোতে যুক্তরাজ্য বারবার প্রমাণ করেছে যে নেতৃত্বের সংকট শুধু রাজনৈতিক অস্থিরতা নয়; এটি অর্থনীতি, সমাজ এবং আন্তর্জাতিক অবস্থানকে গভীরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে।
এই দীর্ঘ ইতিহাসের প্রতিটি অধ্যায় একটি সাধারণ সত্যকে স্পষ্ট করে—একটি রাষ্ট্র তখনই দুর্বল হয়ে পড়ে যখন তার নেতৃত্ব পরিকল্পনাহীন, দল বিভক্ত, নীতি অস্থির এবং কৌশলগত দিকনির্দেশনা অনুপস্থিত থাকে। যুক্তরাজ্যের অতীত দেখিয়েছে যে শক্তিশালী নেতৃত্ব, সুসংগঠিত দল এবং দীর্ঘমেয়াদি ভিশন ছাড়া কোনো প্রধানমন্ত্রীই রাষ্ট্রকে স্থিতিশীলতা দিতে পারে না। বিংশ শতাব্দীর এই উদাহরণগুলো আজকের রাজনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত, যা প্রমাণ করে—নেতৃত্বের সংকট কোনো যুগের একক সমস্যা নয়; এটি বারবার ফিরে আসে যখন রাষ্ট্রের শীর্ষে থাকে পরিকল্পনাহীনতা, বিভাজন এবং নীতিগত অস্থিরতা।

 

যুক্তরাজ্যের সাম্প্রতিক ইতিহাস দেখিয়েছে—পরিকল্পনাহীন নেতৃত্ব, দুর্বল দল এবং নীতিগত অস্থিরতা একটি রাষ্ট্রকে ব্যর্থতার দিকে ঠেলে দিতে পারে। অ্যান্ডি বার্নহাম যদি সেই একই পথে হাঁটেন, তবে তিনি হবেন এই ধারাবাহিক ব্যর্থতার আরেকটি সংযোজন। যুক্তরাজ্যের ভবিষ্যৎ এখন নির্ভর করছে—তিনি কি এই অস্থিরতার চক্র ভাঙতে পারবেন, নাকি দেশ আবারও আরেকজন পরিকল্পনাহীন প্রধানমন্ত্রীর হাতে পতনের দিকে এগোবে।

আরো পড়ুন

গোসল ছেড়ে দিয়েছেন ২৫ শতাংশ ব্রিটিশ, বাকিরা কি সঠিক রাস্তায় আছেন?

অনলাইন ডেস্ক

বিলেতে বাড়ি কেনাবেচা: ডাউন ভ্যালুয়েশনে কি করতে হবে?

অনলাইন ডেস্ক

বিলেতে বাড়ি কেনাবেচা: কনসেসোনারি পারচেজ  

অনলাইন ডেস্ক