যুক্তরাজ্যের বিরোধী দল কনজারভেটিভ পার্টির নেতা কেমি ব্যাডেনকের সঙ্গে রিফর্ম ইউকের নেতা নাইজেল ফারাজের সম্ভাব্য নির্বাচনী জোট নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে এ ধরনের সমঝোতাকে সম্পূর্ণ অর্থহীন বলে মন্তব্য করে কেমি ব্যাডেনকের একক নেতৃত্বের পক্ষে অবস্থান নেওয়া হয়েছে একটি মতামতধর্মী নিবন্ধে।
নিবন্ধে বলা হয়, কনজারভেটিভ পার্টির কিছু সংসদ সদস্য ডানপন্থী ভোট বিভক্ত হওয়া ঠেকাতে রিফর্ম ইউকের সঙ্গে নির্বাচনী সমঝোতার আহ্বান জানালেও কেমি ব্যাডেনক শুরু থেকেই সেই চাপ প্রত্যাখ্যান করে আসছেন। লেখকের মতে, এ সিদ্ধান্তই সঠিক এবং তার এই অবস্থান থেকে সরে আসার কোনো প্রয়োজন নেই।
নিবন্ধে দাবি করা হয়েছে, কনজারভেটিভ পার্টি ও রিফর্ম ইউকের মধ্যে কোনো সমঝোতা হলে সবচেয়ে বেশি রাজনৈতিক সুবিধা পাবে রিফর্ম ইউকে। এতে সাধারণ ভোটারদের কাছে দুই দলকে একই ধরনের রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে মনে হতে পারে এবং দীর্ঘদিনের কনজারভেটিভ সমর্থকদের একটি অংশ হতাশ হয়ে পড়তে পারেন।
লেখক আরও দাবি করেন, রিফর্ম ইউকের অনেক নীতি ঐতিহ্যগত রক্ষণশীল দর্শনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। সরকারি ব্যয় বৃদ্ধি, রাষ্ট্রের ভূমিকা সম্প্রসারণ এবং কিছু খাত রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার মতো বিষয়ে দলটির অবস্থান কনজারভেটিভ নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলেও নিবন্ধে উল্লেখ করা হয়।
এতে আরও বলা হয়, দলটির অভিবাসননীতি এবং কিছু নেতার বক্তব্য অতিমাত্রায় কঠোর ও বিতর্কিত। বিশেষ করে গণহারে বহিষ্কার, বৃহৎ আটককেন্দ্র স্থাপন এবং অভিবাসন বিষয়ে আরও কঠোর অবস্থানের মতো প্রস্তাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। লেখকের মতে, এসব প্রস্তাব ব্রিটিশ আইনি ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে।
নিবন্ধে রিফর্ম ইউকের অভিবাসন-সংক্রান্ত রাজনৈতিক অবস্থানেরও সমালোচনা করা হয়েছে। লেখকের ভাষ্য অনুযায়ী, শুধু নতুন অভিবাসন বন্ধ নয়, অতীতে আসা অভিবাসীদেরও ফিরিয়ে দেওয়ার ধারণাকে উৎসাহিত করা হচ্ছে, যা ইউরোপের চরম ডানপন্থী রাজনীতির একটি পরিচিত স্লোগান হিসেবে বিবেচিত।
অন্যদিকে কেমি ব্যাডেনকের অর্থনৈতিক পরিকল্পনার প্রশংসা করে নিবন্ধে বলা হয়েছে, তিনি কর কমানো, অপ্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রণ হ্রাস, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বৃদ্ধি এবং জাতীয় আত্মবিশ্বাস পুনর্গঠনের মতো বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছেন। একই সঙ্গে তিনি চরমপন্থায় না গিয়ে দেশপ্রেম ও রক্ষণশীল মূল্যবোধকে শক্তিশালী করার চেষ্টা করছেন বলেও নিবন্ধে উল্লেখ করা হয়েছে।
লেখকের দাবি, সাম্প্রতিক জনমত জরিপে কেমি ব্যাডেনকের গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং তিনি বিরোধী রাজনীতিতে কার্যকর ভূমিকা রাখছেন। সংসদে তার দৃঢ় অবস্থান ও সরকারের সমালোচনার কৌশল কনজারভেটিভদের জন্য ইতিবাচক ফল বয়ে আনছে বলেও মত প্রকাশ করা হয়েছে।
প্রতিরক্ষা নীতির বিষয়েও নিবন্ধে কনজারভেটিভ পার্টিকে আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। জার্মানিসহ কয়েকটি দেশের উদাহরণ তুলে ধরে আধুনিক ও দক্ষতাভিত্তিক জাতীয় সেবা কর্মসূচি চালুর সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করারও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সবশেষে নিবন্ধে উপসংহার টেনে বলা হয়েছে, রিফর্ম ইউকের সঙ্গে কোনো ধরনের নির্বাচনী সমঝোতা কনজারভেটিভ পার্টির জন্য লাভজনক হবে না। বরং কেমি ব্যাডেনকের নেতৃত্বে স্বাধীনভাবে রাজনৈতিক লড়াই চালিয়ে যাওয়াই দলটির জন্য সবচেয়ে কার্যকর কৌশল হতে পারে।
সূত্রঃ দ্য টেলিগ্রাফ
এম.কে

