TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্যসেবায় বর্ণবাদী আচরণ বেড়েছেঃ রোগীদের গালিগালাজ ও বৈষম্যের শিকার কর্মীরা

যুক্তরাজ্যের জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থায় কর্মরত চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যকর্মীদের বিরুদ্ধে বর্ণবাদী গালিগালাজ, অপমান এবং বৈষম্যমূলক আচরণ উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে বলে এক জরিপে উঠে এসেছে। জরিপে অংশ নেওয়া বহু কর্মী জানিয়েছেন, গত দেড় বছরে রোগীদের একটি অংশের কাছ থেকে বর্ণবাদী মন্তব্য, অপমানজনক ভাষা এবং চিকিৎসা নিতে অস্বীকৃতি জানানোর ঘটনা আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।

রেডিওগ্রাফারদের পেশাজীবী সংগঠনের পরিচালিত জরিপে দেখা যায়, অনেক স্বাস্থ্যকর্মীকে ‘নোংরা বিদেশি’ এবং ‘বানর’ বলে গালিগালাজ করা হয়েছে। এমনকি অনেক রোগী সরাসরি জানিয়ে দিয়েছেন, তারা অ-শ্বেতাঙ্গ স্বাস্থ্যকর্মীর কাছ থেকে চিকিৎসা নিতে চান না।

মিডল্যান্ডস অঞ্চলে কর্মরত এশীয় বংশোদ্ভূত এক স্বাস্থ্যকর্মী জানান, বেশ কয়েকজন রোগী তাকে বলেছেন, “এই দেশ আর আগের মতো নেই। এত মানুষ বিদেশ থেকে এসে আমাদের চাকরি নিয়ে নিচ্ছে।” তার ভাষায়, আগে এমন মন্তব্য খুব কম শোনা গেলেও এখন মানুষ প্রকাশ্যে এসব কথা বলতে দ্বিধা করছে না।

নাইজেরিয়ায় জন্ম নেওয়া এবং বর্তমানে বেডফোর্ডশায়ারে কর্মরত এক রেডিওগ্রাফার বলেন, পরিস্থিতি স্পষ্টভাবেই আরও খারাপ হয়েছে। তার মতে, আগে মানুষ যেসব বর্ণবাদী মন্তব্য মুখে আনতে সাহস করত না, এখন সেগুলো প্রকাশ্যে বলতে শুরু করেছে। তিনি আরও জানান, অনেক রোগী দাবি করেন তারা তার কথা বুঝতে পারেন না, অথচ ইংরেজিই তার একমাত্র ভাষা।

জরিপে আরও উঠে এসেছে, অনেক রোগী স্বাস্থ্যকর্মীদের গায়ের রঙ নিয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য করেছেন। একজন কর্মী জানান, তিনি নিজের সহকর্মীকে রোগীর মুখে ‘বানর’ বলে অপমানিত হতে দেখেছেন। অন্য এক ঘটনায় এক শ্বেতাঙ্গ ব্যক্তি তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীর পরীক্ষা কোনো ভিন্ন জাতিগত পটভূমির স্বাস্থ্যকর্মী দিয়ে করাতে অস্বীকৃতি জানান। আরেক রোগী একজন কৃষ্ণাঙ্গ স্বাস্থ্যকর্মীর কাছ থেকে বুকের এক্স-রে করাতে রাজি হননি, কারণ তার দাবি ছিল, কৃষ্ণাঙ্গ মানুষ তাকে ভয় পাইয়ে দেয়।

এদিকে সর্বশেষ জাতীয় কর্মী জরিপেও দেখা গেছে, গত পাঁচ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক স্বাস্থ্যকর্মী কর্মস্থলে বৈষম্যের শিকার হওয়ার কথা জানিয়েছেন। ২০২৫ সালে প্রায় ৯ দশমিক ২৬ শতাংশ কর্মী ব্যক্তিগতভাবে বৈষম্যের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন।

জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা কর্তৃপক্ষের মানবসম্পদ বিভাগের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেন, স্বাস্থ্যকর্মীদের বিরুদ্ধে বর্ণবাদী গালিগালাজ সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য এবং স্বাস্থ্যসেবায় এর কোনো স্থান নেই। তিনি জানান, নতুন জাতীয় নীতিমালার আওতায় বর্ণবাদী আচরণ প্রতিরোধ, ক্ষতিগ্রস্ত কর্মীদের সহায়তা এবং যারা স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রতি বর্ণবাদী আচরণ করবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। জরুরি পরিস্থিতি ছাড়া প্রয়োজন হলে বর্ণবাদী আচরণকারী রোগীকে চিকিৎসা দিতে অস্বীকৃতি জানানোর সুযোগও রাখা হয়েছে।

জরিপের ফলাফল যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্যখাতে কর্মরত বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর কর্মীদের নিরাপত্তা, মর্যাদা এবং কর্মপরিবেশ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থায় বর্ণবাদ নির্মূলে কঠোর নীতি বাস্তবায়নের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধিও জরুরি।

সূত্রঃ স্কাই নিউজ

এম.কে

আরো পড়ুন

এন্ডি বার্নহ্যামের সম্ভাব্য মন্ত্রিসভার আরও নাম ফাঁসঃ স্বাস্থ্যমন্ত্রী হতে পারেন অ্যাঞ্জেলা রেইনার

নিখোঁজের তিন দিন পর জকিগঞ্জের হাওর থেকে উদ্ধার লন্ডনপ্রবাসীর মরদেহ

বাংলা টিভি ইউকের সাবেক চেয়ারম্যান ফিরোজ খান আর নেই

অনলাইন ডেস্ক