11.9 C
London
September 9, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যের হোম অফিসের ভিসা সিদ্ধান্তে বিস্ময়—স্বামী অনুমোদিত, স্ত্রীকে ‘প্রকৃত ভিজিটর নন’ ঘোষণা

একই পরিবারের দুই সদস্য, একই উদ্দেশ্য, একই আমন্ত্রণপত্র এবং প্রায় একই ধরনের নথিপত্র জমা দেওয়ার পরও যুক্তরাজ্যের হোম অফিসের বিপরীতমুখী সিদ্ধান্ত নতুন করে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। ফিলিস্তিনি জেরুজালেমবাসী দম্পতির মধ্যে স্বামীর ভিজিটর ভিসা অনুমোদন করা হলেও স্ত্রী থেরেস আবদাল্লাহর আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। এতে তাদের পারিবারিক পুনর্মিলনের পরিকল্পনা ভেস্তে গেছে এবং সিদ্ধান্তটির যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন পরিবারের সদস্যরা।

২০১৯ সাল থেকে যুক্তরাজ্যে বৈধভাবে বসবাসকারী করিম আবদাল্লাহ কয়েক সপ্তাহের জন্য তার বাবা-মাকে লন্ডনে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। তার ৬৯ বছর বয়সী মা থেরেস আবদাল্লাহ, একজন অবসরপ্রাপ্ত ইংরেজি শিক্ষিকা এবং বাবা ঘাসান আবদাল্লাহ, একজন মনোবিজ্ঞানী। তারা অতীতেও একাধিকবার যুক্তরাজ্যে একাডেমিক সফর করেছেন এবং কখনো ভিসা জটিলতায় পড়েননি।

কিন্তু এবার হোম অফিস থেরেস আবদাল্লাহর আবেদন প্রত্যাখ্যান করে জানায়, তারা নিশ্চিত নয় যে তিনি সফর শেষে নিজ দেশে ফিরে যাবেন। প্রত্যাখ্যানপত্রে বলা হয়, আবেদনকারীর যুক্তরাজ্যের সঙ্গে সম্পর্ক তার নিজ দেশের সম্পর্কের চেয়ে বেশি শক্তিশালী এবং তিনি “প্রকৃত ভিজিটর”—এ বিষয়ে কর্মকর্তারা সন্তুষ্ট নন।

অন্যদিকে, প্রায় ৪০ বছরের দাম্পত্য জীবনের সঙ্গী ঘাসান আবদাল্লাহ একই আবেদন প্রক্রিয়া ও একই ধরনের নথি জমা দিয়েই ভিসা অনুমোদন পেয়েছেন। ফলে একই তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে দুই বিপরীত সিদ্ধান্ত কেন নেওয়া হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

করিম আবদাল্লাহ জানান, তিনি এবং তার সঙ্গী দুজনের জন্য একই আমন্ত্রণপত্র ও একই আর্থিক সহায়তার প্রমাণ জমা দিয়েছিলেন। তিনি বলেন, তিনি গত আট বছর ধরে যুক্তরাজ্যে বৈধভাবে বসবাস করছেন, নিয়মিত কর পরিশোধ করেন এবং সরকারি কোনো ভাতা গ্রহণ করেন না।

তিনি আরও বলেন, তার মায়ের জন্ম ও সারাজীবনের বসবাস পূর্ব জেরুজালেমে। সেখানে তার আরেক ছেলে, নাতি-নাতনি, আত্মীয়-স্বজন এবং সামাজিক বন্ধন রয়েছে। দীর্ঘ সময় বিদেশে থাকলে তার মায়ের জেরুজালেমের আবাসিক মর্যাদা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। তাই যুক্তরাজ্যে থেকে যাওয়ার কোনো বাস্তব কারণ নেই।

করিমের ভাষায়, আয়ারল্যান্ডে পারিবারিক বিয়ের অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি তিনি বাবা-মাকে কিউ গার্ডেনসসহ লন্ডনের বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান ঘুরিয়ে দেখানোর পরিকল্পনা করেছিলেন। কিন্তু হোম অফিসের সিদ্ধান্তে তাদের পুরো গ্রীষ্মকালীন সফর বাতিল করতে হয়েছে।

থেরেস আবদাল্লাহকে প্রত্যাখ্যানপত্রে আরও জানানো হয়েছে, এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তার কোনো আপিল বা প্রশাসনিক পুনর্বিবেচনার সুযোগ নেই।

এ বিষয়ে হোম অফিসের একজন মুখপাত্র বলেন, তারা সাধারণত ব্যক্তিগত ভিসা আবেদন নিয়ে মন্তব্য করে না। প্রতিটি আবেদন আলাদাভাবে জমা দেওয়া তথ্য-প্রমাণ এবং আবেদনকারীর পরিস্থিতি বিবেচনা করে মূল্যায়ন করা হয়। পূর্ববর্তী ভিসা প্রত্যাখ্যানের তথ্যও সেই মূল্যায়নের অংশ হতে পারে।

এই ঘটনায় অভিবাসন নীতির প্রয়োগে ধারাবাহিকতা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান

এম.কে

আরো পড়ুন

যুক্তরাজ্যে ইরান যুদ্ধের প্রভাবঃ স্বাস্থ্য খাতে কয়েক দিনের মধ্যেই সরঞ্জাম ফুরিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা

পদত্যাগ করলেন বৃটিশ পরিবহণ মন্ত্রী লুইস হাই

যুক্তরাজ্যে প্রতিবেশীর সিগারেটের ধোঁয়ায় অতিষ্ঠঃ অভিযোগ করলে জরিমানা হতে পারে