22.5 C
London
May 31, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যে অঞ্চলভেদে ভাতার বৈষম্য, একই পরিবারের সহায়তায় ব্যবধান ১৫ হাজার পাউন্ড

যুক্তরাজ্যের চারটি দেশ বা অঞ্চলে ভিন্ন ভিন্ন কল্যাণনীতি ও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির কারণে একই ধরনের পরিবার ভিন্ন পরিমাণ সরকারি সহায়তা পাচ্ছে। নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, স্বল্প আয়ের একটি পরিবার স্কটল্যান্ডে বসবাস করলে বছরে ইংল্যান্ডের তুলনায় প্রায় ১৫ হাজার পাউন্ড বেশি ভাতা ও সরকারি সহায়তা পেতে পারে।

‘সেফটি নেটস’ প্রকল্পের আওতায় পরিচালিত গবেষণায় বলা হয়েছে, যুক্তরাজ্যে ক্রমবর্ধমান বিকেন্দ্রীভূত কল্যাণব্যবস্থা এমন একটি বাস্তবতা তৈরি করেছে যেখানে একজন নাগরিক কতটুকু সরকারি সহায়তা পাবেন, তা অনেকাংশেই নির্ভর করছে তিনি ইংল্যান্ড, স্কটল্যান্ড, ওয়েলস নাকি উত্তর আয়ারল্যান্ডে বসবাস করছেন তার ওপর।

গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, কর্মহীন চার সন্তানবিশিষ্ট একটি দম্পতি ইংল্যান্ডের ইয়র্কে বছরে প্রায় ২২ হাজার পাউন্ড ভাতা পেতে পারেন। একই পরিবার উত্তর আয়ারল্যান্ডের বেলফাস্টে পাবে প্রায় ৩২ হাজার পাউন্ড এবং স্কটল্যান্ডের গ্লাসগোতে পাবে প্রায় ৩৭ হাজার পাউন্ড।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি শুধু পরিসংখ্যানগত পার্থক্য নয়; বরং নিম্ন আয়ের পরিবারের জীবনযাত্রার মান, শিশুদের কল্যাণ এবং দারিদ্র্যের ঝুঁকির ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলছে।

গবেষণায় আরও উঠে এসেছে, ইউনিভার্সাল ক্রেডিট পাওয়া স্কটিশ পরিবারের কোনো নবজাতক শিশু জন্মের পর প্রথম বছরে তার পরিবারকে অতিরিক্ত প্রায় ১ হাজার ৮০০ পাউন্ড সহায়তার সুযোগ করে দেয়। অথচ ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে একই ধরনের পরিবার এ সুবিধা থেকে বঞ্চিত।

এছাড়া স্কটল্যান্ড ও উত্তর আয়ারল্যান্ডে কিছু পরিবার ‘বেনিফিট ক্যাপ’ বা সর্বোচ্চ ভাতা সীমার বিধিনিষেধ থেকে সুরক্ষা পায়। ফলে তারা ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের সমপর্যায়ের পরিবারের তুলনায় বছরে কয়েক হাজার পাউন্ড বেশি সহায়তা পেয়ে থাকে।

গবেষকরা উল্লেখ করেছেন, ইংল্যান্ড ও স্কটল্যান্ডের একই ধরনের পরিবারের মধ্যে ১৫ হাজার পাউন্ড ব্যবধানের বড় কারণ হলো স্কটল্যান্ডের শিশু ভাতা কর্মসূচি এবং অতিরিক্ত সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা। এসব ব্যবস্থার ফলে স্কটিশ পরিবারগুলো ভাতা সীমাবদ্ধতার নেতিবাচক প্রভাব থেকে রক্ষা পায়।

আবাসন সুবিধার ক্ষেত্রেও বড় ধরনের পার্থক্য রয়েছে। স্কটল্যান্ড ও উত্তর আয়ারল্যান্ডে সামাজিক আবাসনের ভাড়াটিয়ারা স্বয়ংক্রিয়ভাবে তথাকথিত ‘বেডরুম ট্যাক্স’ থেকে সুরক্ষা পান। এর ফলে উত্তর আয়ারল্যান্ডে গড়ে বছরে ৬৮৪ পাউন্ড এবং স্কটল্যান্ডে ৬৩০ পাউন্ড পর্যন্ত সাশ্রয় সম্ভব হয়। অন্যদিকে ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে এ ধরনের সহায়তা স্থানীয় কর্তৃপক্ষের বিবেচনার ওপর নির্ভরশীল।

কাউন্সিল ট্যাক্স সহায়তার ক্ষেত্রেও চার দেশের মধ্যে বৈষম্য স্পষ্ট। সর্বোচ্চ কাউন্সিল ট্যাক্স ছাড় পাওয়ার পরও ইংল্যান্ডের একটি পরিবারকে বছরে গড়ে ২৪৮ পাউন্ড পরিশোধ করতে হয়। কিন্তু স্কটল্যান্ড ও ওয়েলসে একই পরিস্থিতিতে কোনো অর্থ পরিশোধ করতে হয় না।

গবেষণায় আরও দেখা গেছে, ইংল্যান্ডের ভেতরেও স্থানীয় কর্তৃপক্ষভেদে বড় ধরনের পার্থক্য রয়েছে। ডনকাস্টারে পূর্ণ কাউন্সিল ট্যাক্স সহায়তা পাওয়া একটি পরিবারকে কোনো অর্থ দিতে না হলেও নর্থ লিংকনশায়ারে একই ধরনের পরিবারকে বছরে প্রায় ১ হাজার ৪০০ পাউন্ড পর্যন্ত পরিশোধ করতে হতে পারে।

প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, বিকেন্দ্রীভূত কল্যাণনীতি চালুর ফলে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে যুক্তরাজ্যের সামাজিক নিরাপত্তা ব্যয় প্রায় ১ বিলিয়ন পাউন্ড বৃদ্ধি পেয়েছে। এর সবচেয়ে বড় অংশ ব্যয় হয়েছে স্কটল্যান্ডে, যেখানে নিজস্ব সামাজিক নিরাপত্তা নীতি নির্ধারণের ক্ষমতা সবচেয়ে বেশি।

স্কটিশ সরকার বর্তমানে নিম্ন আয়ের ইউনিভার্সাল ক্রেডিটপ্রাপ্ত পরিবারগুলোর জন্য প্রতি শিশুর বিপরীতে সপ্তাহে ২৮ দশমিক ২০ পাউন্ড শিশু ভাতা প্রদান করছে। পাশাপাশি সেবাদানকারী পরিবার, শীতকালীন জ্বালানি ব্যয় এবং অন্যান্য খাতে অতিরিক্ত সহায়তা চালু রয়েছে।

স্কটিশ সরকারের লক্ষ্য ২০৩০-৩১ সালের মধ্যে শিশু দারিদ্র্যের হার ১০ শতাংশে নামিয়ে আনা। বর্তমানে যুক্তরাজ্যের চার দেশের মধ্যে স্কটল্যান্ডেই শিশু দারিদ্র্যের হার সবচেয়ে কম বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে।

অন্যদিকে ওয়েলসে সামাজিক নিরাপত্তা বিষয়ে পূর্ণ ক্ষমতা না থাকলেও নতুন সরকার স্কটল্যান্ডের আদলে শিশু ভাতা চালুর সম্ভাবনা বিবেচনা করছে এবং কর ও সামাজিক নিরাপত্তা বিষয়ে আরও ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণের দাবি জানিয়েছে।

প্রতিবেদন প্রস্তুতে অংশ নেওয়া ভাতা গ্রহণকারীদের একটি প্যানেল বলেছে, যুক্তরাজ্যের নাগরিকরা একই রাষ্ট্রের অংশ হলেও অঞ্চলভেদে এত বড় পার্থক্য অনেকের কাছে অন্যায্য বলে মনে হতে পারে।

তিনটি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক, রেজল্যুশন ফাউন্ডেশন এবং চাইল্ড পোভার্টি অ্যাকশন গ্রুপের যৌথভাবে প্রণীত ‘স্টেট অব দ্য নেশনস’ শীর্ষক গবেষণাটি যুক্তরাজ্যের কল্যাণব্যবস্থায় ক্রমবর্ধমান আঞ্চলিক বৈষম্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ চিত্র তুলে ধরেছে।

সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান

এম.কে

আরো পড়ুন

যুক্তরাজ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বৃহৎ কোম্পানিগুলোর অগ্রগতি ক্ষীণ

যুক্তরাজ্যে অনিশ্চয়তায় এক বাংলাদেশি ‘সমকামী’ আশ্রয়প্রার্থী

যুক্তরাজ্যে লরিতে লুকিয়ে ২৩ বাংলাদেশিকে পাচারের চেষ্টা, আটক ৫