19.4 C
London
August 6, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যে অবৈধ কর্মী নিয়োগে কোম্পানির মালিকদের কারাদণ্ডের প্রস্তাব রিফর্ম ইউকের

যুক্তরাজ্যে অবৈধভাবে অবস্থানরত কর্মীদের নিয়োগের বিরুদ্ধে আরও কঠোর অবস্থান নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে রাজনৈতিক দল রিফর্ম ইউকে। দলটি ক্ষমতায় এলে এমন নতুন আইন প্রণয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, যার আওতায় অবৈধ কর্মী নিয়োগের মাধ্যমে লাভবান হওয়া প্রতিষ্ঠানের পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগতভাবে ফৌজদারি দায়ে অভিযুক্ত করে কারাদণ্ড দেওয়া হতে পারে। একই সঙ্গে বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রে তাদের বৈশ্বিক মোট আয়ের ১০ শতাংশ পর্যন্ত জরিমানা করার প্রস্তাবও দিয়েছে দলটি।

রিফর্ম ইউকের দাবি, গিগ ইকোনমি, ডেলিভারি ও অন্যান্য খাতে অবৈধ কর্মী নিয়োগের মাধ্যমে কিছু প্রতিষ্ঠান কম খরচে ব্যবসা পরিচালনা করছে। বর্তমান ব্যবস্থায় এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে যথেষ্ট কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না বলেই তাদের অভিযোগ। এ পরিস্থিতি পরিবর্তনে কোম্পানির সর্বোচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সরাসরি দায়বদ্ধতার আওতায় আনার প্রস্তাব করা হয়েছে।

দলটির পরিকল্পনা অনুযায়ী, কোনো প্রতিষ্ঠানে অবৈধ কর্মী নিয়োগের ঘটনা প্রমাণিত হলে কোম্পানির পরিচালক বা প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শুধু আর্থিক জরিমানাই নয়, কারাদণ্ডের মুখোমুখিও হতে পারেন। এমনকি তারা কর্মীদের অভিবাসন বা কাজের বৈধতা সম্পর্কে জানতেন না—এ ধরনের দাবি করলেও দায় থেকে অব্যাহতি পাবেন না। অর্থাৎ প্রতিষ্ঠানে অবৈধ কর্মী নিয়োগের জন্য শীর্ষ কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগতভাবে দায়ী করার নীতি অনুসরণের কথা বলা হয়েছে।

এ ছাড়া অবৈধ কর্মী নিয়োগের তথ্য সংগ্রহে জনসাধারণের অংশগ্রহণ বাড়াতে একটি বিশেষ অভিযোগ গ্রহণ ব্যবস্থা চালুর প্রস্তাব দিয়েছে রিফর্ম ইউকে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, কেউ তথ্য দিয়ে সফলভাবে কোনো প্রতিষ্ঠানকে বিচারের আওতায় আনতে সহায়তা করলে আদায়কৃত জরিমানার একটি অংশ তাকে পুরস্কার হিসেবে দেওয়া হতে পারে।

তবে দলটির এই প্রস্তাবের সমালোচনা করেছে যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। হোম অফিসের দাবি, বর্তমান আইনেই অবৈধ কর্মী নিয়োগের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা রয়েছে। বিদ্যমান বিধান অনুযায়ী, একজন অবৈধ কর্মী নিয়োগের জন্য একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ ৬০ হাজার পাউন্ড পর্যন্ত জরিমানা করা যায়। গুরুতর অপরাধের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ডের বিধানও রয়েছে।

সরকারের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, কর্মীদের কাজ করার বৈধতা যাচাই এবং আইন প্রয়োগের কার্যক্রম ইতোমধ্যেই আরও জোরদার করা হয়েছে। বিশেষ করে গিগ ইকোনমি ও ডেলিভারি খাতেও নজরদারি এবং শাস্তিমূলক ব্যবস্থা সম্প্রসারণ করা হচ্ছে।

রিফর্ম ইউকের এই প্রস্তাব বাস্তবায়নের জন্য ভবিষ্যতে আইন পরিবর্তনের প্রয়োজন হবে। ফলে এটি এখনো সরকারি নীতিতে পরিণত হয়নি। তবে অবৈধ কর্মসংস্থান, সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ এবং অভিবাসন নীতি নিয়ে যুক্তরাজ্যের রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যে দলটির এ ঘোষণা নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

সূত্রঃ দ্য ডেজলিং ডন

এম.কে

আরো পড়ুন

স্টর্ম গোরেত্তির তাণ্ডবে ফ্রান্স ও ব্রিটেনে বিপর্যয়ঃ লাখো ঘর বিদ্যুৎহীন

যুক্তরাজ্যে রাশিয়ার পক্ষে গুপ্তচরবৃত্তির দায়ে ৩ বুলগেরিয়ানকে দোষী সাব্যস্ত

যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশ হাইকমিশনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে পরিবেশমন্ত্রীর মতবিনিময়