TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যে অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে নতুন পদক্ষেপঃ স্বেচ্ছায় দেশে ফিরতে আর্থিক প্রণোদনা

অবৈধ অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ, আশ্রয় ব্যবস্থা সংস্কার এবং বৈধ অভিবাসন প্রক্রিয়ায় আরও কঠোরতা আনতে একের পর এক নতুন পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করছে যুক্তরাজ্য সরকার। সর্বশেষ সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ইংলিশ চ্যানেল হয়ে ছোট নৌকায় আগমন উল্লেখযোগ্যভাবে কমলেও সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার, ভিসা ফি বৃদ্ধি এবং ব্যর্থ আশ্রয়প্রার্থীদের স্বেচ্ছায় দেশে ফেরাতে আর্থিক প্রণোদনা দেওয়ার মতো উদ্যোগ এখন সরকারের অভিবাসন নীতির কেন্দ্রে রয়েছে।

স্বরাষ্ট্র দপ্তরের প্রকাশিত তথ্যে বলা হয়েছে, গত সপ্তাহে চ্যানেল পারাপার পুনরায় শুরু হওয়ার পর থেকে ৮৮১ জন অভিবাসী ডোভারে পৌঁছেছেন। এর মধ্যে ৪২ ফুট দীর্ঘ একটি নৌকায় একসঙ্গে ১৬৫ জন যাত্রা করেন, যা একক নৌকায় যাত্রীর সংখ্যার দিক থেকে নতুন রেকর্ড হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে সরকারের দাবি, সীমান্ত নিয়ন্ত্রণে নেওয়া কঠোর পদক্ষেপের ফলে সামগ্রিক পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। ২০২৬ সালে এ পর্যন্ত মোট ১৩ হাজার ৩৫০ জন অভিবাসী ইংলিশ চ্যানেল অতিক্রম করে যুক্তরাজ্যে প্রবেশ করেছেন, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪৪ শতাংশ কম। একই সঙ্গে আশ্রয় আবেদনও ১২ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে বলে জানিয়েছে সরকার।

সরকার আরও জানিয়েছে, অবৈধভাবে অবস্থানকারী এবং আশ্রয়ের আবেদন প্রত্যাখ্যাত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করা হয়েছে। এ পর্যন্ত প্রায় ৭০ হাজার মানুষকে যুক্তরাজ্য থেকে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো বা বহিষ্কার করা হয়েছে, যা সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ বলে দাবি করা হচ্ছে।

এদিকে বৈধ অভিবাসন ব্যবস্থাতেও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন কার্যকর হয়েছে। গত ৮ এপ্রিল থেকে অধিকাংশ ভিসা ও অভিবাসন আবেদনের ফি সর্বোচ্চ ২৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে। সরকারের ভাষ্য, অভিবাসন ব্যবস্থার ব্যয় বহন এবং সেবার উন্নয়নের লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

স্টুডেন্ট ভিসা নীতিতেও নতুন কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। আশ্রয় আবেদন বৃদ্ধির কারণ দেখিয়ে সুদান, আফগানিস্তান, ক্যামেরুন ও মিয়ানমারের নাগরিকদের নতুন শিক্ষার্থী ভিসা আবেদন গ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে শিক্ষার্থী ভিসার অপব্যবহার রোধ করতে চায় কর্তৃপক্ষ।

অন্যদিকে, আশ্রয়ের আবেদন চূড়ান্তভাবে প্রত্যাখ্যাত ব্যক্তিদের স্বেচ্ছায় নিজ দেশে ফিরে যেতে উৎসাহিত করতে একটি পরীক্ষামূলক কর্মসূচি চালু করেছে স্বরাষ্ট্র দপ্তর। এ কর্মসূচির আওতায় সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত আবাসনে থাকা ব্যর্থ আশ্রয়প্রার্থীদের জনপ্রতি ১০ হাজার পাউন্ড এবং একটি পরিবারের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৪০ হাজার পাউন্ড পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে, যদি তারা স্বেচ্ছায় যুক্তরাজ্য ত্যাগে সম্মত হন। যারা এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করবেন, তাদের বিরুদ্ধে বহিষ্কারের ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলে সরকার জানিয়েছে।

অভিবাসন বিশ্লেষকদের মতে, সরকার একদিকে সীমান্ত সুরক্ষা জোরদার করছে, অন্যদিকে বৈধ অভিবাসন ব্যবস্থায়ও কঠোর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে। ফলে আগামী মাসগুলোতে যুক্তরাজ্যের অভিবাসন নীতিতে আরও পরিবর্তন আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সূত্রঃ স্যোশাল মিডিয়া

এম.কে

আরো পড়ুন

ব্রিটেনের রাস্তায় কার্যকর হলো ৭টি নতুন আইন

অনলাইন ডেস্ক

আশ্রয়প্রার্থীদের হোটেল খরচে বিদেশি সাহায্য! সরকারের ব্যয় কমাতে হিমশিম অবস্থান

সরকার কীভাবে বিলিয়ন পাউন্ড ঋণ নেয়?

অনলাইন ডেস্ক