10.4 C
London
April 23, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যে অভিবাসন নীতিতে সময়সীমা বৃদ্ধিঃ শাবানা মাহমুদের এলাকায় কেয়ার কর্মীদের লিফলেটিং কর্মসূচি

যুক্তরাজ্যের প্রস্তাবিত অভিবাসন নীতির পরিবর্তন ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে, যেখানে অভিবাসী কেয়ার কর্মীরা দীর্ঘমেয়াদি বসবাসের অনুমতি (সেটেলমেন্ট) পেতে সময়সীমা বাড়ানোর সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন। লেবার পার্টি-সংযুক্ত বৃহৎ শ্রমিক ইউনিয়ন ইউনিসনের নেতৃত্বে বার্মিংহামের লেডিউড এলাকায় হোম সেক্রেটারি শাবানা মাহমুদের নির্বাচনী এলাকায় গণহারে লিফলেট বিতরণ কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে।

ইউনিসনের দাবি, সরকারের প্রস্তাবিত নীতিমালায় সেটেলমেন্টের জন্য অপেক্ষার সময় ৫ বছর থেকে বাড়িয়ে ১০ বছর করা হচ্ছে, যা অনেক ক্ষেত্রে ১৫ বছর পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে—বিশেষ করে সামাজিক সেবা খাতের কর্মীদের জন্য। এই পরিবর্তন অভিবাসী কেয়ার কর্মীদের ওপর গুরুতর প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছে ইউনিয়নটি।

বর্তমানে যুক্তরাজ্যের কেয়ার খাতে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ এবং জাতীয় স্বাস্থ্যসেবায় (এনএইচএস) প্রায় এক-পঞ্চমাংশ কর্মীই অভিবাসী। ফলে এই নীতির প্রভাব সরাসরি গুরুত্বপূর্ণ জনসেবামূলক খাতে পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ইউনিসনের মতে, ইতোমধ্যেই জনবল সংকটে থাকা এই খাতে নতুন নিয়ম কর্মীদের নিরুৎসাহিত করবে এবং অনেক অভিজ্ঞ কর্মী খাত ছাড়তে বাধ্য হতে পারেন।

ইউনিয়ন সূত্রে জানা গেছে, শাবানা মাহমুদের প্রায় ৫৫ হাজার ভোটারের মধ্যে অন্তত এক-তৃতীয়াংশের কাছে লিফলেট পৌঁছানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এটি লেবার-সংযুক্ত কোনো বড় ইউনিয়নের পক্ষ থেকে দলীয় গুরুত্বপূর্ণ নীতির বিরুদ্ধে প্রথম বৃহৎ গণপ্রচারণা বলেও দাবি করা হচ্ছে।

সরকারের ‘আর্নড সেটেলমেন্ট’ প্রস্তাব অনুযায়ী, শুধু সময়সীমা বৃদ্ধি নয়—অবৈধভাবে প্রবেশ করা বা সরকারি ভাতা গ্রহণকারী অভিবাসীদের ক্ষেত্রে এই সময় আরও দীর্ঘ হতে পারে। এ বিষয়ে ফেব্রুয়ারিতে শেষ হওয়া পরামর্শ প্রক্রিয়ায় প্রায় দুই লাখ মতামত জমা পড়েছে, যা বর্তমানে পর্যালোচনায় রয়েছে।

একই সঙ্গে ভিসা স্পনসরশিপ ব্যবস্থার পরিবর্তনের দাবিও জানিয়েছে ইউনিসন। বর্তমানে কর্মীদের নিয়োগকর্তার ওপর নির্ভরশীল স্পনসরশিপ ব্যবস্থাকে অনেক ক্ষেত্রে শোষণের উৎস হিসেবে দেখছে সংগঠনটি। এর পরিবর্তে সরকারি তত্ত্বাবধানে একটি স্বচ্ছ ও ন্যায্য ব্যবস্থা চালুর দাবি উঠেছে।

এই কর্মসূচি ইউনিসনের ‘ফেয়ার ভিসাস নাউ’ ক্যাম্পেইনের অংশ, যার আওতায় জাতীয় পর্যায়ে আন্দোলন জোরদার করা হচ্ছে। বিশেষ করে লেবার পার্টির সংসদ সদস্যদের ওপর চাপ তৈরি করাই এ কর্মসূচির লক্ষ্য।

প্রচারণায় অংশ নেওয়া এক অভিবাসী কেয়ার কর্মী বলেন, তিনি উচ্চশিক্ষিত হয়েও ব্রিটিশ সমাজে অবদান রাখার উদ্দেশ্যে এই পেশায় যুক্ত হয়েছেন। কিন্তু নতুন নীতির কারণে তিনি হতাশ ও অনিশ্চয়তায় ভুগছেন। আরেক কর্মীর ভাষায়, “নতুন নিয়ম আমাদের পরিবারের ভবিষ্যৎকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে এবং আমাদের আশা ভেঙে দিচ্ছে।”

ইউনিসনের সাধারণ সম্পাদক অ্যান্ড্রিয়া এগান বলেন, “সামাজিক সেবা খাত ইতোমধ্যেই চাপে রয়েছে। এই খাত বিদেশি কর্মীদের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু নতুন নীতিতে তাদের নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করবে।” তিনি এই প্রস্তাবকে “অপ্রয়োজনীয় ও কঠোর” উল্লেখ করে তা বাতিলের আহ্বান জানান।

অন্যদিকে, হোম অফিস জানিয়েছে, যারা যুক্তরাজ্যে এসে অবদান রাখে তাদের স্বাগত জানানো হলেও স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ “অর্জনযোগ্য একটি অধিকার”—এটি স্বয়ংক্রিয় নয়। তারা আরও উল্লেখ করে, ২০২১ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে অভিবাসনের সংখ্যা অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা নতুন নীতির প্রয়োজনীয়তা তৈরি করেছে।

সরকার জানিয়েছে, প্রাপ্ত মতামত বিশ্লেষণ শেষে শিগগিরই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হবে। তবে ইতোমধ্যেই এই প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক ও শ্রমিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান

এম.কে

আরো পড়ুন

যুক্তরাজ্যে মানুষ পাচার ঠেকাতে জার্মানির কঠোর আইন

যুক্তরাজ্যে কর্মী ধরে রাখতে মজুরি বাড়াচ্ছে সুপার চেইন শপগুলো

তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের শঙ্কায় প্রস্তুতির আহ্বান, নাগরিকদের রেডিও কিনে রাখতে বলল ব্রিটিশ সরকার