20.5 C
London
September 10, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যে অভিবাসন মামলার জট দ্বিগুণের বেশিঃ শুনানিতে লাগছে ৬৫ সপ্তাহ

 

যুক্তরাজ্যে অভিবাসন ও আশ্রয়সংক্রান্ত মামলার জট নতুন রেকর্ডে পৌঁছেছে। বিচার মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বর্তমানে অভিবাসন ও আশ্রয়সংক্রান্ত আপিলের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত ফার্স্ট-টিয়ার ট্রাইব্যুনালে প্রায় ১ লাখ ৫৬ হাজার মামলা শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে। এক বছরের তুলনায় অপেক্ষমাণ মামলার সংখ্যা ৪৮ শতাংশ বেড়েছে।

ডেইলি এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব মামলার নিষ্পত্তিতে সময়ও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। একটি মামলা বন্ধ করতে গড়ে এখন ৬৫ সপ্তাহ সময় লাগছে। এর ফলে ব্যর্থ আশ্রয়প্রার্থী, জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচিত ব্যক্তি এবং বিদেশি অপরাধীদের অপসারণ কার্যক্রমে বিলম্বের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

আশ্রয়-সংক্রান্ত আপিলের শুনানির জন্য বর্তমানে গড়ে এক বছরেরও বেশি সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। ১২ মাস আগের তুলনায় এই অপেক্ষার সময় আরও ১৩ সপ্তাহ বেড়েছে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রায় ৯০ হাজার ৩৪১টি আশ্রয়-সংক্রান্ত মামলা বর্তমানে শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে। ২০২৩ সালের প্রথম তিন মাসে এই সংখ্যা ছিল মাত্র ৭ হাজার ৬০১টি।

এদিকে, মানবাধিকার আইনের মাধ্যমে ব্রিটেন থেকে অপসারণ ঠেকানোর চেষ্টা করা অভিবাসীর সংখ্যাও বেড়েছে। এ ধরনের মামলার সংখ্যা ১৩ হাজার ৪১টি থেকে বেড়ে ৩১ হাজার ৪৫৯টিতে পৌঁছেছে।

বিষয়টি নিয়ে কনজারভেটিভ দলের ছায়া বিচারমন্ত্রী নিক টিমোথি বলেন, আদালতে প্রায় ১০ লাখ মামলা আটকে রয়েছে এবং লেবার সরকারের সময়ে শুধু অভিবাসন মামলার জটই দ্বিগুণের বেশি হয়েছে।

নিক টিমোথি বলেন, গুরুতর অপরাধে দোষী সাব্যস্ত বিদেশি অপরাধীরা প্রায় এক বছর ধরে ট্রাইব্যুনালের শুনানির তারিখের অপেক্ষায় রয়েছেন। একই সময়ে তাদের অপরাধের শিকার ব্যক্তিরা ন্যায়বিচারের অপেক্ষায় রয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, অভিবাসন মামলার কারণে আদালতগুলো কার্যত অপেক্ষাকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে এবং অপসারণ প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করার জন্য একটি ব্যবস্থা গড়ে উঠেছে।

কনজারভেটিভ দলের এই নেতা আরও বলেন, দলটি ক্ষমতায় গেলে অভিবাসন ট্রাইব্যুনাল বাতিল করে সীমান্ত নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব নির্বাচিত মন্ত্রীদের হাতে ফিরিয়ে দেবে। সরকারের কার্যক্রম আদালতের মাধ্যমে কীভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, সেটিও আরও বিস্তৃতভাবে পর্যালোচনা করা হবে বলে তিনি জানান।

ডেইলি এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অ্যান্ডি বার্নহাম এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদের সামনে অভিবাসন ও আশ্রয়সংক্রান্ত মামলার এই ক্রমবর্ধমান জট একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিচার মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যানে মামলার সংখ্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি শুনানির সময়ও দীর্ঘ হওয়ার তথ্য উঠে এসেছে। ফলে অভিবাসন মামলার নিষ্পত্তি এবং ব্যর্থ আশ্রয়প্রার্থী ও বিদেশি অপরাধীদের অপসারণের ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রতা অব্যাহত রয়েছে।

সূত্রঃ ডেইলি এক্সপ্রেস

এম.কে

আরো পড়ুন

লন্ডনের মেয়র পদে লড়তে ছায়া মন্ত্রিসভা ছাড়লেন জেমস ক্লেভারলিঃ সাদিক খানকে চ্যালেঞ্জের প্রস্তুতি

“ব্রিটেন মুসলিমদের নয়, এটা খ্রিস্টানদের দেশ” বক্তব্যে উসকানির আভাস

ট্যাক্স রিটার্ন নিয়ে যুক্তরাজ্যে সতর্কতামূলক নোটিশ জারি করেছে এইচএমআরসি