যুক্তরাজ্যে একাকী আশ্রয়প্রার্থী শিশুদের (আনঅ্যাকম্পানিড অ্যাসাইলাম-সিকিং চিলড্রেন) বয়স নির্ধারণ সংক্রান্ত হোম অফিস বা স্থানীয় কর্তৃপক্ষের নেতিবাচক সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আইনি চ্যালেঞ্জ করার সুযোগ রয়েছে বলে জানিয়েছেন অভিবাসন আইন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, বয়স নির্ধারণের একটি ভুল সিদ্ধান্ত কোনো কিশোর বা কিশোরীর আবাসন, সামাজিক সেবা, শিক্ষা এবং আশ্রয় দাবির ভবিষ্যতের ওপর গভীর প্রভাব ফেলতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য অনুযায়ী, কোনো কিশোরকে আগমনের সময় প্রাপ্তবয়স্ক হিসেবে চিহ্নিত করলেও পরবর্তীতে পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়নের মাধ্যমে তাকে শিশু হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে—এমন ঘটনা যুক্তরাজ্যে প্রায়ই দেখা যায়। ফলে হোম অফিসের প্রাথমিক সিদ্ধান্তকে চূড়ান্ত হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই।
আইন অনুযায়ী, স্থানীয় কর্তৃপক্ষ বা হোম অফিস প্রথমে একটি সংক্ষিপ্ত বয়স মূল্যায়ন (ইনিশিয়াল এজ অ্যাসেসমেন্ট) পরিচালনা করে। এ সময় আবেদনকারীর চেহারা, আচরণ ও উপস্থাপনা দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় তিনি স্পষ্টভাবে ১৮ বছরের বেশি কি না। তবে আদালত একাধিক রায়ে উল্লেখ করেছে, শুধুমাত্র শারীরিক চেহারার ওপর ভিত্তি করে বয়স নির্ধারণ নির্ভরযোগ্য নয় এবং সন্দেহ থাকলে আবেদনকারীকে শিশু হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।
আইনজীবীরা বলছেন, কোনো আবেদনকারী যদি মনে করেন যে মূল্যায়নের সময় দোভাষী দেওয়া হয়নি, তাকে নিজের বক্তব্য ব্যাখ্যা করার যথেষ্ট সুযোগ দেওয়া হয়নি বা মূল্যায়ন প্রক্রিয়া ন্যায়সংগত ছিল না, তাহলে সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আইনি চ্যালেঞ্জ উত্থাপন করা সম্ভব।
একবার কোনো কিশোর স্থানীয় কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে গেলে তার বয়স নিয়ে সন্দেহ থাকলে পূর্ণাঙ্গ বয়স মূল্যায়ন করা হয়। এ ক্ষেত্রে আবেদনকারীর পারিবারিক ইতিহাস, শিক্ষাগত পটভূমি, যুক্তরাজ্যে আসার যাত্রাপথ, সম্ভাব্য মানবপাচারের শিকার হওয়ার বিষয় এবং শিক্ষক বা সহায়তাকারীদের মতামতও বিবেচনায় নেওয়ার কথা। এসব তথ্য যথাযথভাবে মূল্যায়ন না করলে সিদ্ধান্তের বৈধতা প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বয়স নির্ধারণ সংক্রান্ত বিরোধে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নীতি হলো ‘সন্দেহের সুবিধা’। অর্থাৎ সব তথ্য বিবেচনার পরও যদি আবেদনকারীর বয়স নিয়ে যুক্তিসঙ্গত সন্দেহ থাকে, তাহলে তাকে শিশু হিসেবেই গণ্য করতে হবে।
আদালত আরও স্পষ্ট করেছে যে বয়স নির্ধারণের সিদ্ধান্ত স্থায়ী নয়। নতুন কোনো গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ, যেমন জন্মসনদ, পরিচয়পত্র বা পেশাদার ব্যক্তির নতুন মতামত সামনে এলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে পুনরায় মূল্যায়ন করতে হতে পারে। কোনো প্রমাণিত পরিচয়পত্র আবেদনকারীর বয়স নিশ্চিত করলে তা গ্রহণ করারও বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
বর্তমানে বয়স নির্ধারণ সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রধান আইনি প্রতিকার হলো বিচারিক পর্যালোচনা (জুডিশিয়াল রিভিউ)। যদিও জাতীয়তা ও সীমান্ত আইন ২০২২-এ আপিলের বিধান রাখা হয়েছে, সেটি এখনও কার্যকর হয়নি।
আইন বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, এ ধরনের সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করার ক্ষেত্রে সাধারণত সিদ্ধান্ত গ্রহণের তারিখ থেকে তিন মাসের মধ্যে আদালতে আবেদন করতে হয়। তাই নেতিবাচক বয়স নির্ধারণের সিদ্ধান্ত পাওয়ার পর দ্রুত আইনি পরামর্শ নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
অভিবাসন আইনজীবীদের মতে, বয়স নির্ধারণের একটি ভুল সিদ্ধান্ত শুধু কোনো কিশোরের বর্তমান সহায়তা ও আবাসনের অধিকারই নয়, বরং যুক্তরাজ্যে সুরক্ষা পাওয়ার সম্ভাবনা এবং ভবিষ্যৎ জীবনকেও সরাসরি প্রভাবিত করতে পারে। ফলে হোম অফিস বা স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি প্রতিকার নিশ্চিত করা ন্যায়বিচারের জন্য অপরিহার্য।
সূত্রঃ ফ্রি মুভমেন্ট
এম.কে

