একের পর এক তীব্র তাপপ্রবাহে বদলে যাচ্ছে যুক্তরাজ্যের আবাসন বাজারের চিত্র। সম্পত্তিবিষয়ক ওয়েবসাইট রাইটমুভ জানিয়েছে, চলতি গ্রীষ্মে এয়ার কন্ডিশনিং (এসি)-যুক্ত বাড়ি খোঁজার সংখ্যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১০৪ শতাংশ বেড়েছে। একসময় যেখানে ভালো স্কুল, যাতায়াত সুবিধা ও অবস্থান ছিল বাড়ি কেনার প্রধান বিবেচ্য বিষয়, সেখানে এখন গরমের সময় একটি বাড়ি কতটা ঠান্ডা থাকবে সেটিও বড় অগ্রাধিকার হয়ে উঠেছে।
চলতি বছরের পঞ্চম তাপপ্রবাহে ইংল্যান্ডের কিছু এলাকায় তাপমাত্রা ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছানোর পর এই পরিবর্তন আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। রাইটমুভের জরিপে দেখা গেছে, ৮৭ শতাংশ মানুষ বলেছেন, পরবর্তী বাড়ি কেনার সময় সেটি গরমেও আরামদায়ক থাকবে কি না, তা তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে ৬১ শতাংশ মানুষ ভবিষ্যতে বাড়িতে এসি বসানোর কথা ভাবছেন, যদিও এখন পর্যন্ত মাত্র ১২ শতাংশ পরিবারের বাড়িতে এসি স্থাপন করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি সাময়িক প্রবণতা নয়; বরং জলবায়ু পরিবর্তনের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবের ইঙ্গিত। যুক্তরাজ্যের ক্লাইমেট চেঞ্জ কমিটি সতর্ক করে বলেছে, বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ২০৫০ সালের মধ্যে দেশের বিদ্যমান ৯২ শতাংশ বাড়ি অতিরিক্ত গরম হয়ে উঠতে পারে। শুধু জানালা খোলা বা পর্দা টেনে রাখা তখন আর যথেষ্ট হবে না; অনেক ক্ষেত্রেই আধুনিক শীতলীকরণ ব্যবস্থার প্রয়োজন হবে।
ইতোমধ্যে যুক্তরাজ্যে আনুমানিক ৪০ লাখ বাড়িতে কোনো না কোনো ধরনের এয়ার কন্ডিশনিং রয়েছে, যা মাত্র তিন বছর আগের তুলনায় দ্বিগুণ। বাড়ি থেকে কাজ করার প্রবণতা বৃদ্ধি এবং ধারাবাহিক উষ্ণ গ্রীষ্মকে এর পেছনের বড় কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এসি স্থাপনের খরচও কম নয়। কুলিং সিস্টেম সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর তথ্য অনুযায়ী, প্রতি কক্ষে এসি বসাতে প্রায় ২,৫০০ পাউন্ড খরচ হতে পারে। অনেক পরিবার রাতে ঘুমাতে না পারা, শিশুদের শ্বাসকষ্ট এবং লফট কক্ষের অতিরিক্ত গরমের কারণে এমন ব্যবস্থা নিচ্ছেন।
তবে এসির প্রসারের সঙ্গে পরিবেশগত বিতর্কও বাড়ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্বব্যাপী গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমনের প্রায় ৪ শতাংশ এয়ার কন্ডিশনিং ব্যবহারের সঙ্গে সম্পর্কিত। এ কারণে অনেকেই এখন হিট পাম্প-এর দিকে ঝুঁকছেন, যা একই যন্ত্র দিয়ে শীতকালে ঘর গরম এবং গ্রীষ্মে ঘর ঠান্ডা রাখতে পারে।
রাইটমুভের প্রপার্টি বিশেষজ্ঞ কলিন ব্যাবকক বলেছেন, অবস্থান, জায়গা ও সামর্থ্য এখনো গুরুত্বপূর্ণ থাকলেও ক্রেতারা আগের চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন গরমের সময় একটি বাড়ি কতটা আরামদায়ক থাকবে। আর এস্টেট এজেন্সি জন ডি উড অ্যান্ড কো.-এর বিক্রয়প্রধান জেমস ওয়েইট মনে করেন, গ্রীষ্মে ঠান্ডা ও শীতে উষ্ণ থাকতে পারে—এমন বাড়ি এখন আর বিলাসিতা নয়; বরং বাড়ি কেনার সিদ্ধান্তে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয় হয়ে উঠেছে।
সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান
এম.কে

