23.9 C
London
July 21, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যে কর বৃদ্ধি নয়, বেনিফিট কমবেঃ ১১৮ এমপির সমর্থনের প্রস্তাব দিয়ে বার্নহ্যামকে চিঠি

যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে অ্যান্ডি বার্নহ্যামের আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব গ্রহণের আগে তাকে উদ্দেশ্য করে কঠোর ভাষায় খোলা চিঠি দিয়েছেন কনজারভেটিভ পার্টির নেতা ও বিরোধীদলীয় নেত্রী কেমি ব্যাডেনক। চিঠিতে তিনি নতুন প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানালেও দেশের সামনে থাকা গুরুত্বপূর্ণ সংকট মোকাবিলায় সুস্পষ্ট পরিকল্পনা উপস্থাপন না করা, সংসদ ও গণমাধ্যমের জবাবদিহি এড়িয়ে যাওয়া এবং কর ও অভিবাসন নীতিতে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করার অভিযোগ তুলেছেন। একই সঙ্গে কল্যাণভাতা ব্যয় কমানোর উদ্যোগ নিলে কনজারভেটিভ পার্টির ১১৮ জন সংসদ সদস্যের সমর্থন দেওয়ারও প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি।

চিঠিতে কেমি ব্যাডেনক বলেন, বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে প্রধানমন্ত্রীকে জবাবদিহির আওতায় রাখা তার সাংবিধানিক দায়িত্ব এবং তিনি কখনোই সেই দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়াবেন না। তার অভিযোগ, অ্যান্ডি বার্নহ্যাম এখনো দেশের অর্থনীতি, অভিবাসন, করনীতি ও জনসেবাসহ প্রধান সমস্যাগুলো সমাধানে কোনো স্পষ্ট কর্মপরিকল্পনা উপস্থাপন করেননি।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, নতুন প্রধানমন্ত্রী সংসদ সদস্যদের প্রশ্নের মুখোমুখি হওয়া এড়িয়ে গেছেন এবং মূলধারার সংবাদমাধ্যমের কঠিন প্রশ্নেরও উত্তর দেননি। এর পরিবর্তে তিনি একটি অনলাইন প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশ নিয়েছেন, যেখানে নিজের পছন্দমতো প্রশ্ন বেছে নিয়ে উত্তর দিয়েছেন। ব্যাডেনকের ভাষায়, “এটি মোটেও আশাব্যঞ্জক সূচনা নয়।”

করনীতি নিয়ে কনজারভেটিভ নেত্রী নতুন প্রধানমন্ত্রীকে স্পষ্ট অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, পরিশ্রমী ব্রিটিশ নাগরিকদের ওপর নতুন করে করের বোঝা চাপানো উচিত হবে না। পাশাপাশি উত্তর সাগরে নতুন তেল ও গ্যাস অনুসন্ধানে লেবার সরকারের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের আহ্বান জানান তিনি। তার দাবি, বর্তমান নীতি অব্যাহত থাকলে বিনিয়োগ, জ্বালানি নিরাপত্তা, আবাসন বাজার এবং পারিবারিক অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

অভিবাসন ও সীমান্ত নিরাপত্তার বিষয়েও কঠোর অবস্থান তুলে ধরেন কেমি ব্যাডেনক। তিনি বলেন, দেশের জনগণ শক্তিশালী সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ, কম কর, সাশ্রয়ী জ্বালানি এবং কল্যাণভাতা ব্যয় হ্রাসের মতো বাস্তবমুখী নীতি প্রত্যাশা করছে। সরকারকে সেই জনমতের প্রতি সম্মান দেখানো উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তবে সমালোচনার পাশাপাশি বিরোধী দলীয় নেত্রী বিরল এক রাজনৈতিক সহযোগিতার প্রস্তাবও দিয়েছেন। তিনি বলেন, যদি অ্যান্ডি বার্নহ্যাম কল্যাণভাতা ব্যয় কমানোর একটি কার্যকর পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনায় বসতে রাজি হন এবং সমঝোতা হয়, তাহলে কনজারভেটিভ পার্টির ১১৮ জন সংসদ সদস্য সেই আইন পাসে সরকারকে সমর্থন দেবেন।

চিঠিতে কেমি ব্যাডেনক সাবেক প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের উদাহরণও টেনে আনেন। তার দাবি, স্টারমার নিজের দলের বামপন্থী সংসদ সদস্যদের চাপের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে ব্যর্থ হয়েছিলেন, যার ফলে কল্যাণভাতা ব্যয় এবং করনীতি নিয়ে সরকার দুর্বল অবস্থানে পড়ে। নতুন প্রধানমন্ত্রীকে সেই ভুলের পুনরাবৃত্তি না করার আহ্বান জানান তিনি।

জ্বালানি নীতির সমালোচনা করতে গিয়ে ব্যাডেনক অভিযোগ করেন, বর্তমান জ্বালানি নীতি ব্রিটেনের শিল্প ও কর্মসংস্থানের জন্য ক্ষতিকর। বিশেষ করে উত্তর সাগরে নতুন তেল ও গ্যাস লাইসেন্সের ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এই সিদ্ধান্ত ব্রিটেনের জ্বালানি নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

অ্যান্ডি বার্নহ্যাম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের প্রাক্কালে কেমি ব্যাডেনকের এই চিঠি যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে করনীতি, অভিবাসন, কল্যাণভাতা, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক সংস্কার নিয়ে রাজনৈতিক লড়াই আগামী দিনগুলোতে আরও তীব্র হওয়ার ইঙ্গিত মিলছে।

সূত্রঃ জিবি নিউজ

এম.কে

আরো পড়ুন

যুক্তরাজ্যের মন্ত্রীকে শাস্তি দিলো আদালত

“নো রিজোর্স টু পাবলিক ফান্ড”-এর শর্ত কি?

পার্টিগেট কেলেঙ্কারির কারণে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের এমপির পদত্যাগ