TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যে কেন্টে আবারও পানি সংকটঃ ক্ষোভে ফুঁসছেন বাসিন্দারা

যুক্তরাজ্যের কেন্ট কাউন্টিতে আবারও গুরুতর পানি সংকট দেখা দিয়েছে। মেইডস্টোনের আশপাশের বিভিন্ন গ্রামীণ এলাকায় আনুমানিক ৪,৫০০টি বাড়ি এবং টানব্রিজ ওয়েলসের শত শত পরিবার প্রায় কোনো পানি না পেয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছে।

 

পানি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান সাউথ ইস্ট ওয়াটার (এসইডব্লিউ) জানিয়েছে, একটি পানি শোধনাগারে বৈদ্যুতিক ত্রুটি এবং সংরক্ষণ ট্যাংকগুলোতে পানির ধীরগতির কারণে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে অনেক এলাকায় পানির চাপ একেবারে নেমে গেছে অথবা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে।

মেইডস্টোন এলাকার হ্যারিয়েটশ্যাম, কিংসউড, কক্সহিথ, হেডকর্ন ও আশপাশের গ্রামগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসইডব্লিউ জানিয়েছে, এসব এলাকায় রোববারের শেষ নাগাদ পানি সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার আশা করা হচ্ছে।

তবে টানব্রিজ ওয়েলসের বিডবরো এলাকার বাসিন্দাদের জন্য সংকট আরও দীর্ঘ হতে পারে। কোম্পানির মতে, সেখানে সোমবার পর্যন্ত পানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটতে পারে।

পানি সংকটে পড়া গ্রাহকদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছে সাউথ ইস্ট ওয়াটার। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে বোতলজাত পানি বিতরণের জন্য বিশেষ স্টেশন খোলা হয়েছে, যাতে জরুরি প্রয়োজন মেটানো যায়।

এই নতুন সংকটটি সাউথ ইস্ট ওয়াটারের জন্য সাম্প্রতিক সময়ের ধারাবাহিক ব্যর্থতার সর্বশেষ উদাহরণ। গত সপ্তাহেই কেন্ট ও ওয়েস্ট সাসেক্সে প্রায় ৩০,০০০ বাড়িতে টানা ছয় দিন পানি সরবরাহ বন্ধ থাকায় তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে কোম্পানিটি।

ওই ঘটনার পর কেন্ট কাউন্টি কাউন্সিল ‘মেজর ইনসিডেন্ট’ ঘোষণা করে এবং পানি নিয়ন্ত্রক সংস্থা অফওয়াট সাউথ ইস্ট ওয়াটারের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করে।

অফওয়াট জানিয়েছে, গ্রাহকসেবার মান রক্ষা ও ক্ষতিগ্রস্তদের যথাযথ সহায়তা দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানটি তাদের লাইসেন্সের শর্ত লঙ্ঘন করেছে কি না—তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এর আগেও গত বছরের নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসে টানব্রিজ ওয়েলসে দীর্ঘস্থায়ী পানি সংকট দেখা দেয়। সে সময় শহর ও আশপাশের এলাকায় প্রায় ২৪,০০০ বাড়ি প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে পানযোগ্য পানি থেকে বঞ্চিত ছিল।

অফওয়াটের এনফোর্সমেন্ট বিভাগের সিনিয়র ডিরেক্টর লিন পার্কার বলেন, “গত ছয় সপ্তাহ কেন্ট ও সাসেক্সের পরিবার ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য অত্যন্ত কষ্টকর ছিল। বারবার পানি সরবরাহে ব্যর্থতা জনজীবন বিপর্যস্ত করে তুলেছে।”

নিয়ন্ত্রক সংস্থা যদি সিদ্ধান্ত নেয় যে সাউথ ইস্ট ওয়াটার তাদের লাইসেন্সের শর্ত ভঙ্গ করেছে, তাহলে কোম্পানিটির লাইসেন্স বাতিল করে বিশেষ প্রশাসনিক ব্যবস্থার আওতায় নেওয়া হতে পারে—যতদিন না নতুন কোনো মালিক পাওয়া যায়।

এ বিষয়ে সাউথ ইস্ট ওয়াটারের ইনসিডেন্ট ম্যানেজার ম্যাথিউ ডিন বলেন, “যেসব গ্রাহক এই সংকটে পড়েছেন, তাদের প্রত্যেকের কাছে আমরা আন্তরিকভাবে ক্ষমাপ্রার্থী। দীর্ঘ সময় পানি ছাড়া থাকা যে কতটা কষ্টকর এবং দৈনন্দিন জীবনকে কতটা কঠিন করে তোলে—আমরা তা বুঝি।”

ক্রমাগত পানি সরবরাহ ব্যর্থতা কেন্টজুড়ে জনমনে ক্ষোভ বাড়াচ্ছে। পরিস্থিতি দ্রুত ও স্থায়ীভাবে সমাধান না হলে সাউথ ইস্ট ওয়াটারের ওপর চাপ আরও বাড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সূত্রঃ স্কাই নিউজ

এম.কে

আরো পড়ুন

আয়ারল্যান্ড হতে আশ্রয়প্রার্থী ফিরিয়ে নেবে না যুক্তরাজ্যঃ ডাউনিং স্ট্রিট

৩২ বছরে প্রথমবার শীর্ষ তিনে নেই অক্সফোর্ড ও কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়

যুক্তরাজ্যের আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে ‘কারাগারের মতো’ পরিস্থিতি