যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ দাবি করেছেন, উত্তর ফ্রান্স থেকে ছোট নৌকায় করে যুক্তরাজ্যে পৌঁছানোর চেষ্টা করা প্রায় সব নারীই যাত্রাপথে ধর্ষণের শিকার হন। তার অভিযোগ, মানবপাচারকারী চক্রগুলোই নির্ধারণ করে কারা ছোট নৌকায় করে যুক্তরাজ্যে আসবে এবং এই পুরো প্রক্রিয়ায় নারী ও পুরুষ উভয়েই নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন।
রোববার প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে শাবানা মাহমুদ বলেন, যুক্তরাজ্যের সীমান্ত ব্যবস্থাপনার ওপর সরকারের পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ নেই। উত্তর ফ্রান্সে ছোট নৌকায় ওঠার আগে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের বাছাই ও নিয়ন্ত্রণ করছে অপরাধী চক্র এবং মানবপাচারকারীরা।
তিনি বলেন, উত্তর ফ্রান্সে অবস্থানরত প্রায় প্রতিটি নারীই যাত্রাপথে ধর্ষণের শিকার হয়ে থাকতে পারেন। অনেক পুরুষও যৌন নির্যাতন, হুমকি ও অন্যান্য সহিংসতার শিকার হন। এমন একটি ব্যবস্থার মাধ্যমে কারও যুক্তরাজ্যে এসে আশ্রয় পাওয়ার সিদ্ধান্ত হওয়া উচিত নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
শাবানা মাহমুদের ভাষ্য অনুযায়ী, মানবপাচারকারীরা যখন ঠিক করে দেয় কারা যুক্তরাজ্যে পৌঁছাবে, তখন সীমান্ত ও আশ্রয় ব্যবস্থার নিয়ন্ত্রণ কার্যত অপরাধী চক্রের হাতে চলে যায়। তিনি মনে করেন, এই পরিস্থিতি পরিবর্তন করা প্রয়োজন।
সাক্ষাৎকারে যুক্তরাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন শাবানা মাহমুদ। ডানপন্থী কিছু বিক্ষোভকারী তাকে লক্ষ্য করে হুমকি দিচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, তারা তাকে দেশ থেকে বের করে দিতে চায় এবং তার মুসলিম পরিচয়কে কেন্দ্র করেও বিদ্বেষ দেখায়।
ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভকারীদের গ্রেপ্তার নিয়েও নিজের অস্বস্তির কথা জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। লিভারপুলে লেবার পার্টির সম্মেলনের সময় ফিলিস্তিন অ্যাকশনকে সমর্থন করে এমন প্রতীক বহনের অভিযোগে ৮২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।
শাবানা মাহমুদ বলেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরেই ফিলিস্তিনপন্থী অবস্থানের সঙ্গে যুক্ত। তাই ফিলিস্তিন অ্যাকশনকে সমর্থনকারী বিক্ষোভকারীদের সন্ত্রাসবাদ আইনের একটি ধারার আওতায় গ্রেপ্তার করা তাকে অস্বস্তিতে ফেলেছে। তবে একই সঙ্গে তিনি বলেন, ব্যক্তিগতভাবে কোনো বিষয়ে অস্বস্তি থাকলেও আইন প্রয়োগের নীতিকে মানতে হবে।
এদিকে ইংলিশ চ্যানেলে একটি অভিবাসীবাহী ছোট নৌকা যুক্তরাজ্যের দক্ষিণ উপকূলের দিকে এগিয়ে যাওয়ার খবরও পাওয়া যায়। ফরাসি উপকূলরক্ষী ও উদ্ধারকারী জাহাজ নৌকাটিকে পর্যবেক্ষণ করছিল। জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী তথ্য অনুযায়ী, নৌকাটি নরম্যান্ডির উটাহ বিচ এলাকার কাছ থেকে যাত্রা করেছিল বলে ধারণা করা হয়।
যুক্তরাজ্য সরকারের একজন মুখপাত্র বলেন, সীমান্ত নিরাপত্তা কমান্ড সার্বক্ষণিকভাবে ইংলিশ চ্যানেলের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং দেশের সীমান্ত সুরক্ষায় কাজ করছে। ছোট নৌকায় আসা প্রত্যেক ব্যক্তিকে আটক, যাচাই ও প্রক্রিয়াকরণের আওতায় আনা গুরুত্বপূর্ণ বলেও জানান তিনি।
তবে শরণার্থী পরিষদের পরিচালক ইমরান হুসেইন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যকে স্বাগত জানালেও সরকারের অভিবাসন নীতির সমালোচনা করেছেন। তার প্রশ্ন, নারীরা যদি যাত্রাপথে যৌন সহিংসতার ঝুঁকিতে থাকেন, তাহলে তাদের জন্য নিরাপদ ও বৈধভাবে যুক্তরাজ্যে পৌঁছানোর সুযোগ কেন সীমিত করা হচ্ছে।
ইমরান হুসেইনের দাবি, যুদ্ধ ও নির্যাতন থেকে পালিয়ে আসা নারী ও শিশুরা নিজেদের দেশ ছাড়ার সময় যেমন যৌন সহিংসতার মুখোমুখি হন, তেমনি নিরাপত্তার সন্ধানে দীর্ঘ যাত্রাপথেও একই ঝুঁকির মধ্যে পড়েন। তাই নারীদের সুরক্ষার জন্য নিরাপদ পথ বাড়ানো প্রয়োজন, কমানো নয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাজ্য সরকার সম্প্রতি আফগান নারী ও ফিলিস্তিনিদের জন্য নতুন নিরাপদ শরণার্থী পুনর্বাসন পথ চালুর ঘোষণা দিয়েছে। তবে শরণার্থী পরিষদ বলছে, এসব পথ যদি মাত্র কয়েকশ মানুষের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে, তাহলে ছোট নৌকায় বিপজ্জনক যাত্রা ঠেকাতে এর প্রভাব সীমিত থাকবে।
সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান
এমকে

