জীবনযাত্রার ব্যয় কমাতে বিদ্যুতের ওপর মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাজ্য সরকার। আগামী ১ অক্টোবর থেকে কার্যকর হতে যাওয়া এই সিদ্ধান্তের ফলে বাড়িতে বৈদ্যুতিক গাড়ি চার্জ করা গ্রাহকদের ব্যয় আরও কমবে। তবে একই সঙ্গে পাবলিক চার্জিং ব্যবহারকারীদের জন্য বিদ্যমান কর কাঠামো অপরিবর্তিত থাকায় নতুন করে বৈষম্যের অভিযোগ উঠেছে।
সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী, বর্তমানে গৃহস্থালির বিদ্যুতের ওপর আরোপিত ৫ শতাংশ ভ্যাট আগামী অক্টোবর থেকে সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করা হবে। এর ফলে যেসব পরিবার নিজস্ব ড্রাইভওয়ে বা ব্যক্তিগত পার্কিংয়ে বৈদ্যুতিক গাড়ি চার্জ করেন, তারা সরাসরি এই সুবিধা পাবেন। বিশেষজ্ঞদের হিসাব অনুযায়ী, স্বল্পমূল্যের বিশেষ বিদ্যুৎ ট্যারিফ ব্যবহার করলে বৈদ্যুতিক গাড়ি চালানোর বিদ্যুৎ ব্যয় প্রতি মাইলে প্রায় ১ দশমিক ৫২ পেন্সে নেমে আসতে পারে।
বর্তমানে কিছু বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান বৈদ্যুতিক গাড়ির জন্য বিশেষ রাতের ট্যারিফ চালু রেখেছে। এসব ট্যারিফে রাতের নির্ধারিত সময়ে তুলনামূলক কম দামে গাড়ির ব্যাটারি চার্জ করা যায়। উদাহরণ হিসেবে, ১০০ কিলোওয়াট-ঘণ্টা ক্ষমতার একটি ব্যাটারি ৮ পাউন্ডে পূর্ণ চার্জ করা সম্ভব হলে এবং সেই গাড়ি একবার চার্জে ৫০০ মাইল চলতে পারলে প্রতি মাইলের বিদ্যুৎ খরচ দাঁড়ায় প্রায় ১ দশমিক ৬ পেন্স। নতুন ভ্যাট প্রত্যাহার কার্যকর হলে এই ব্যয় আরও কমে যেতে পারে।
সরকার জানিয়েছে, ভ্যাট প্রত্যাহারের সুবিধা শুধু নতুন গ্রাহকদের জন্য নয়, ইতোমধ্যে নির্ধারিত মূল্যের বিদ্যুৎ চুক্তিতে থাকা গ্রাহকরাও স্বয়ংক্রিয়ভাবে পাবেন। ফলে বিদ্যমান চুক্তি পরিবর্তনের প্রয়োজন হবে না।
তবে সরকারের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে পরিবহন ও ভোক্তা অধিকার সংগঠনগুলোর মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তাদের অভিযোগ, বাড়িতে গাড়ি চার্জ করার সুযোগ যাদের রয়েছে তারা পুরো ভ্যাট ছাড়ের সুবিধা পেলেও যাদের ব্যক্তিগত পার্কিং নেই এবং বাধ্য হয়ে পাবলিক চার্জিং স্টেশন ব্যবহার করতে হয়, তারা আগের মতোই ২০ শতাংশ ভ্যাট পরিশোধ করবেন। এতে নিম্ন আয়ের পরিবার এবং শহরাঞ্চলের ফ্ল্যাটবাসীরা তুলনামূলক বেশি আর্থিক চাপে পড়বেন।
বৈদ্যুতিক গাড়ি খাতের সংগঠনগুলোর মতে, একই বিদ্যুতের জন্য শুধু চার্জিংয়ের অবস্থান ভিন্ন হওয়ায় দুই ধরনের কর আরোপ ন্যায্য নয়। তারা বলছে, সরকার যদি সত্যিকার অর্থে বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যবহার বাড়াতে চায়, তাহলে বাড়ির চার্জিংয়ের পাশাপাশি পাবলিক চার্জিংয়ের ওপরও সমান হারে কর কমানো উচিত।
রয়্যাল অটোমোবাইল ক্লাবও একই ধরনের আহ্বান জানিয়েছে। সংগঠনটির মতে, যাদের বাড়িতে ড্রাইভওয়ে নেই তাদের জন্যও বৈদ্যুতিক গাড়িতে রূপান্তর সহজ করতে পাবলিক চার্জিংয়ের ওপর ভ্যাট কমানোর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
অন্যদিকে সরকার বলছে, বিদ্যুতের ওপর ভ্যাট প্রত্যাহারের লক্ষ্য হলো জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো এবং পরিবারগুলোকে তাৎক্ষণিক আর্থিক স্বস্তি দেওয়া। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্তে বাড়িতে চার্জিং সুবিধা থাকা পরিবারগুলো সবচেয়ে বেশি লাভবান হলেও পাবলিক চার্জিং ব্যবহারকারীদের জন্য সমান সুবিধা নিশ্চিত না করা পর্যন্ত বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যবহার সম্প্রসারণে কাঙ্ক্ষিত সমতা অর্জন করা কঠিন হবে।
সূত্রঃ ডেইলি এক্সপ্রেস
এম.কে

