TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

তিন মাসের নতুন নিয়মে চিকিৎসাসেবা হারানোর ঝুঁকিতে ইংল্যান্ডের বহু রোগী;

ইংল্যান্ডে রোগীদের জিপি বা সাধারণ চিকিৎসকের তালিকা হালনাগাদের নতুন প্রক্রিয়ায় দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ অনেক মানুষ ভুলভাবে বাদ পড়ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। চিকিৎসকদের মতে, এর ফলে নিয়মিত চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় ওষুধ পাওয়া নিয়ে সমস্যায় পড়ছেন অনেক রোগী।

আগের নিয়ম অনুযায়ী, কোনো রোগী জিপির তালিকা থেকে বাদ পড়ার আগে তার সঙ্গে যোগাযোগের জন্য ছয় মাস পর্যন্ত সময় দেওয়া হতো। কিন্তু গত বছরের অক্টোবর থেকে এনএইচএস ইংল্যান্ড তালিকা যাচাইয়ের প্রক্রিয়া দ্রুত করার উদ্যোগ নেয়। এতে রোগীদের সাড়া দেওয়ার সময়সীমা তিন মাসে নামিয়ে আনা হয়।

হেলথটেক-১-এর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০২৫ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত ইংল্যান্ডের জিপি প্র্যাকটিসগুলোর নিবন্ধিত রোগীর সংখ্যা ৪ লাখ ৮৩ হাজার ১৯ জন কমেছে। সবচেয়ে বঞ্চিত এলাকার এক-পঞ্চমাংশ প্র্যাকটিসেই এই কমার সংখ্যা প্রায় ১ লাখ ৩৮ হাজার ৪০০, যা মোট হ্রাসের প্রায় ৩০ শতাংশ।

রোগীরা অন্য এলাকায় চলে গেলে বা মারা গেলে জিপির রোগী তালিকা হালনাগাদ করা প্রয়োজন। তবে চিকিৎসকদের অভিযোগ, নতুন দ্রুততর প্রক্রিয়ায় এমন কিছু রোগীকেও তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে, যারা আসলে ওই এলাকা ছেড়ে যাননি এবং নিয়মিত চিকিৎসাসেবা প্রয়োজন।

বিশেষ করে বয়স্ক, অসুস্থ ও অপেক্ষাকৃত দরিদ্র রোগীদের ক্ষেত্রে এ ধরনের ভুলের ঝুঁকি বেশি বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। তালিকা থেকে বাদ পড়ার পর এসব রোগীকে আবার জিপির কাছে নিবন্ধন করতে হচ্ছে, যা তাদের জন্য বাড়তি ভোগান্তি তৈরি করছে।

সাউদাম্পটনের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক জিপি প্র্যাকটিসের এক চিকিৎসক জানান, তাদের তালিকা থেকে প্রায় ১০০ জনকে বাদ দেওয়া হয়েছিল। পরে তাদের কয়েকজন যোগাযোগ করে জানান, তারা কোথাও চলে যাননি। তালিকা থেকে বাদ পড়ার কারণে তারা নিয়মিত প্রেসক্রিপশন ও চিকিৎসাসেবা নিতে পারছিলেন না।

ওই চিকিৎসকের হিসাবে, শুধু ওই প্র্যাকটিসেই প্রায় ১০ হাজার পাউন্ড আয় কমেছে। তার দাবি, স্থানীয় আরেকটি জিপি প্র্যাকটিসের আয় কমেছে প্রায় ১ লাখ পাউন্ড। রোগীর সংখ্যা অনুযায়ী জিপি প্র্যাকটিসগুলো অর্থ পেয়ে থাকে বলে তালিকা থেকে রোগী কমে গেলে তাদের পরিচালন ব্যয়ের ওপরও চাপ তৈরি হয়।

ব্রিটিশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের জিপি কমিটির চেয়ার ডা. ক্লেয়ার ব্যানন বলেন, রোগীদের তালিকা সঠিক ও হালনাগাদ রাখার প্রয়োজনীয়তা চিকিৎসকেরা স্বীকার করেন। তবে বর্তমান তালিকা যাচাইয়ের পদ্ধতিতে সক্রিয় রোগীরাও ভুলভাবে বাদ পড়ছেন বলে তিনি দাবি করেন। এ কারণে তিনি এনএইচএস ইংল্যান্ডকে প্রক্রিয়াটি সাময়িকভাবে বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন।

তবে এনএইচএস ইংল্যান্ড বলেছে, ঝুঁকিপূর্ণ মানুষকে ভুলভাবে তালিকা থেকে বাদ দেওয়া ঠেকাতে একাধিক যাচাই ব্যবস্থা রয়েছে। কোনো রোগীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আগে বিভিন্ন মাধ্যমে তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয় এবং পুরো যাচাই প্রক্রিয়া পাঁচ মাস পর্যন্ত চলতে পারে।

এনএইচএসের ভাষ্য, রোগীদের যোগাযোগের তথ্য সঠিক রাখার পাশাপাশি স্ক্রিনিং ও টিকাদানের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যসেবার তথ্য সঠিক ব্যক্তির কাছে পৌঁছে দেওয়াই এই উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য। একই সঙ্গে ইংল্যান্ডে বসবাস করেন না এমন ব্যক্তিদের নামে সরকারি স্বাস্থ্যসেবার অর্থ ব্যয় বন্ধ করে তহবিলের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করাও এর লক্ষ্য।

সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান

এমকে

আরো পড়ুন

যুক্তরাজ্যে তীব্র ঝড়ঃ স্কুল বন্ধ, রাস্তা ও রেল লাইন চলাচলের অনুপযুক্ত

নিউজ ডেস্ক

যুক্তরাজ্যের প্রবৃদ্ধিতে প্রভাব ফেলছে ধর্মঘট ও জীবনযাত্রার ব্যয়

ব্রেক্সিটের পর মিলিয়ন পাউন্ডের বাণিজ্য শুল্ক

অনলাইন ডেস্ক