TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যে দেশি সমকামী সঙ্গীকে হত্যাঃ ব্রিটিশ বাংলাদেশি ইমরানের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

যুক্তরাজ্যের বার্মিংহাম ক্রাউন কোর্ট ২৪ বছর বয়সী সঙ্গী ইসমাইল ইউনুসকে হত্যার দায়ে ৩৫ বছর বয়সী ইমরান উদ্দিনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, মুক্তির জন্য বিবেচিত হওয়ার আগে তাকে ন্যূনতম ২১ বছর কারাগারে থাকতে হবে।

 

মামলার বিচার চলাকালে আদালতে উঠে আসে, ইসমাইল ইউনুস অটিজম, উদ্বেগ এবং অবসেসিভ-কমপালসিভ ডিজঅর্ডারে আক্রান্ত ছিলেন। অভিযোগ অনুযায়ী, মৃত্যুর আগে তিনি দীর্ঘ সময় ধরে নিয়ন্ত্রণমূলক আচরণ, পারিবারিক নির্যাতন এবং গুরুতর মানসিক নির্যাতনের শিকার হন।

ঘটনাটি ঘটে ১৭ আগস্ট ২০২৫ হকলি, বার্মিংহামের রিচমন্ড রোডের একটি ফ্ল্যাটে। ইসমাইল ইউনুসের মরদেহ ২০ আগস্ট ২০২৫ উদ্ধার করা হয়—অর্থাৎ হত্যার পর প্রায় তিন দিন ফ্ল্যাটে পড়ে ছিল তার মরদেহ। রাষ্ট্রপক্ষের উপস্থাপিত ভিডিও ফুটেজে ইমরান উদ্দিনের আচরণ সম্পর্কে আদালতে বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরা হয়। সেখানে অভিযোগ করা হয়, তিনি গোপনে ইসমাইলের কথাবার্তা ও যোগাযোগ পর্যবেক্ষণ করতেন এবং তার প্রয়োজনীয় কিছু জিনিসপত্র নিজের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নিতেন।

ইসমাইল ইউনুস ইমরান উদ্দিনের সাথে তার সম্পর্ক শেষ করার চেষ্টা করলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে বলে বিচারে জানানো হয়। রাষ্ট্রপক্ষের দাবি, ওই সময় ইমরান উদ্দিন তার ওপর শারীরিক নির্যাতনও চালান।

হত্যাকাণ্ডের পরও ইমরান উদ্দিনের আচরণ আদালতে বিশেষভাবে আলোচিত হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি আড়াল করার চেষ্টা করে মিল্টন কেইনসে পালিয়ে যান। এরপর তাকে চুল কাটাতে, ভ্রু ঠিক করাতে এবং খাবার কিনতে দেখা যায়। এ সময় ইসমাইল ইউনুসের মরদেহ ওই ফ্ল্যাটে পড়ে ছিল এবং প্রায় তিন দিন পর সেটি আবিষ্কৃত হয়।

বিচারক রিচার্ড বন্ড ইমরান উদ্দিনের আচরণকে মানসিক নির্যাতনের সঙ্গে তুলনা করেন। বিচারকের পর্যবেক্ষণে উঠে আসে, সম্পর্কের ক্ষেত্রে প্রত্যাখ্যান মেনে নিতে না পারার মানসিকতা থেকেই তার আচরণ আরও ভয়াবহ রূপ নেয়।

এই মামলাটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে দুর্বল বা অতিরিক্ত সহায়তা-নির্ভর প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের মধ্যে থাকা নির্যাতন শনাক্ত করার প্রশ্নে। অনেক সময় শারীরিক আঘাতের চিহ্ন না থাকলেও একজন সঙ্গীর ওপর অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ, যোগাযোগ পর্যবেক্ষণ, প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কেড়ে নেওয়া, সামাজিকভাবে বিচ্ছিন্ন করে রাখা কিংবা সম্পর্ক ছাড়তে বাধা দেওয়ার মতো আচরণ গুরুতর সতর্কসংকেত হতে পারে।

সামাজিক সেবা সংস্থা ও কমিউনিটি সুরক্ষা ব্যবস্থার জন্য তাই এ ধরনের ঝুঁকি দ্রুত শনাক্ত করা গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে অটিজম, উদ্বেগ বা অন্যান্য দুর্বলতার সঙ্গে বসবাসকারী ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে নিয়মিত ঝুঁকি মূল্যায়ন, ব্যক্তিগতভাবে কথা বলার সুযোগ এবং স্বাস্থ্যসেবা, সামাজিক সেবা ও কমিউনিটি সংগঠনের মধ্যে কার্যকর তথ্য আদান-প্রদান নির্যাতন শনাক্ত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ইমরান উদ্দিনের এই মামলায় আদালতের রায় আবারও দেখিয়ে দিয়েছে, ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের আড়ালে থাকা নিয়ন্ত্রণমূলক আচরণকে কেবল ব্যক্তিগত সম্পর্কের সমস্যা হিসেবে দেখলে চলবে না। কোনো দুর্বল প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি যদি দীর্ঘদিন ধরে নিয়ন্ত্রণ, ভয় দেখানো বা নির্যাতনের মধ্যে থাকেন, তাহলে সেটিকে সম্ভাব্য সুরক্ষা ঝুঁকি হিসেবে গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

সূত্রঃ দ্য ড্যাজলিং ডন

এম.কে

আরো পড়ুন

দুর্বল আপিল দ্রুত নিষ্পত্তি করবে হোম অফিসঃ ব্যর্থ হলে যুক্তরাজ্য ছাড়তে হবে

ব্রিটেনে শুরু হচ্ছে হালাল ফুড ফেস্টিভাল

যুক্তরাজ্যে আওয়াবস ল’: সামাজিক আবাসনে স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলায় সরকারের কঠোর নির্দেশনা