19.9 C
London
October 1, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

ব্রিটেনে প্রতিবেশী বাড়ির অর্ধেক ভেঙে ফেলার অভিযোগঃ আইনি লড়াইয়ে পরিবার

যুক্তরাজ্যের লিডসে প্রতিবেশীর বাড়ির অংশ ভেঙে ফেলার পর নিজের বাড়ি নিয়ে চরম সমস্যায় পড়েছেন ৪৪ বছর বয়সী শিবার্না মিত্র। তার দাবি, চার বছর ধরে বাড়িটির দেয়াল ও ছাদে তৈরি হওয়া ফাঁক দিয়ে বৃষ্টির পানি ও বিভিন্ন প্রাণী ঢুকে ক্ষয়ক্ষতি করছে। এ অবস্থায় বাড়িটি বিক্রি করাও কঠিন হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

শিবার্না মিত্র ২০২১ সালের মে মাসে লিডসের পুডসেতে তিন বেডরুমের একটি সেমি-ডিট্যাচড বাড়ি ২ লাখ ১৭ হাজার পাউন্ডে কেনেন। তিনি তার ছোট ছেলে ও বৃদ্ধ মাকে নিয়ে সেখানে বসবাস করতেন। বাড়িটিকে তিনি দীর্ঘমেয়াদি বসবাসের জন্য নিজের ‘চিরস্থায়ী বাড়ি’ হিসেবে বিবেচনা করেছিলেন।

কিন্তু বাড়ি কেনার প্রায় ১৮ মাস পর পাশের বাড়ির মালিক তার বাড়ির অংশটি ভেঙে ফেলেন। এর ফলে দুই বাড়ির সংযোগস্থলে বড় ধরনের ফাঁক তৈরি হয় এবং মিত্রের বাড়ির দেয়াল ও ছাদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

শিবার্না মিত্রের দাবি, তার বাড়ির এক পাশের বড় ফাঁক দিয়ে ইঁদুর, কাঠবিড়ালি ও বোলতা ঢুকে পড়ছে। ইঁদুর বৈদ্যুতিক তারও ক্ষতিগ্রস্ত করেছে বলে তিনি জানান। একই সঙ্গে বাড়িতে স্যাঁতসেঁতে ও ছত্রাক ছড়িয়ে পড়েছে এবং বৃষ্টির পানি ঢুকে কার্পেট, দেয়ালের ওয়ালপেপার ও বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা নষ্ট হয়েছে।

মিত্র বলেন, ছাদ ও দেয়ালের গর্ত দিয়ে পানি ঢুকে স্যাঁতসেঁতে ও ছত্রাক তৈরি হয়েছে। এতে তার ছেলে ও তার স্বাস্থ্যের ওপরও প্রভাব পড়ছে বলে তিনি দাবি করেন।

বাড়িটি গরম রাখার খরচও বেড়েছে বলে জানান তিনি। শীতকালে রেডিয়েটর ও বহনযোগ্য হিটার বেশি সময় চালাতে হওয়ায় তার মাসিক হিটিং বিল প্রায় ৬৩০ পাউন্ডে পৌঁছেছে।

বাড়ি কেনার পর সংস্কারে শিবার্না মিত্র প্রায় ৮০ হাজার পাউন্ড খরচ করেছিলেন। এর মধ্যে প্রায় ৩৫ হাজার পাউন্ড বাগানে কৃত্রিম ঘাস বসানো ও নতুন রান্নাঘর তৈরিতে ব্যয় করেন বলে জানান তিনি।

তার ভাষায়, বাড়িটিকে স্বপ্নের বাড়িতে পরিণত করতে তিনি বিপুল অর্থ ব্যয় করেছিলেন। কিন্তু বর্তমানে সেই বিনিয়োগের সুফল পাচ্ছেন না।

পাশের বাড়িটি আগে একজন বৃদ্ধ নারীর মালিকানাধীন ছিল। ২০২২ সালের জুলাইয়ে সেটি ২ লাখ ৮০ হাজার পাউন্ডে প্রতিবেশীর কাছে বিক্রি করা হয়।

মিত্র জানান, শুরুতে প্রতিবেশী বন্ধুত্বপূর্ণ ছিলেন। তবে দুই বাড়ির মাঝের পার্টি ওয়াল সরানোর পরিকল্পনা নিয়ে প্রশ্ন তোলার পর তার আচরণ পরিবর্তিত হয় বলে মিত্রের দাবি।

২০২২ সালের জুন ও আগস্টে প্রতিবেশী বাড়িটির সম্প্রসারণের জন্য দুটি পরিকল্পনা আবেদন করেন। লিডস সিটি কাউন্সিল উভয় আবেদন অনুমোদন করে।

মিত্রের দাবি, ওই অনুমোদনকে ভিত্তি করে প্রতিবেশী তার বাড়ির পুরো অংশ ভেঙে ফেলেন। তবে প্রতিবেশী এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

২০২২ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে প্রতিবেশী তার বাড়ির ছাদ সরিয়ে ফেলেছিলেন বলে শিবার্না মিত্র অভিযোগ করেন। এতে তার নিজের বাড়ির একটি অংশ সরাসরি বৃষ্টি ও অন্যান্য আবহাওয়াজনিত ক্ষতির মুখে পড়ে।

২০২৩ সালের জানুয়ারিতে শিবার্না মিত্র লিডস সিটি কাউন্সিলের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তবে তার অভিযোগের পর স্টপ নোটিশ জারি হতে মে মাস পর্যন্ত সময় লাগে বলে তিনি জানান।

প্রতিবেশী অভিযোগের জবাবে বলেন, ঘটনাটি একাধিক দুর্ভাগ্যজনক পরিস্থিতির ফল, যার কারণে একটি জটিল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তিনি দাবি করেন, সমস্যা সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে কাজ করার চেষ্টা করেছেন।

পরবর্তীতে তিনি পরিকল্পনার অনুমোদনসহ জমিটি ১ লাখ ১৫ হাজার পাউন্ডে বিক্রি করেন। তার দাবি, লিডস সিটি কাউন্সিল তার সঙ্গে অন্যায় আচরণ করেছে।

লিডস সিটি কাউন্সিল জানিয়েছে, প্রয়োজনীয় অনুমতি ছাড়াই ওই ভবনটি ভাঙা হয়েছিল।

তবে কাউন্সিলের পরিদর্শকরা পরিদর্শনের পর জানিয়েছেন, দেয়ালে গর্ত থাকা সত্ত্বেও মিত্রের বাড়িটি কাঠামোগতভাবে স্থিতিশীল ছিল।

কাউন্সিল জানিয়েছে, যেহেতু সংশ্লিষ্ট সম্পত্তিগুলো ব্যক্তিমালিকানাধীন, তাই মিত্রকে তার বাড়ির বীমা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ এবং আইনি পরামর্শ নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনাস্থলটি পর্যবেক্ষণে রাখার কথা জানিয়েছে কাউন্সিল।

মিত্রের বীমা প্রতিষ্ঠান এ ঘটনায় একটি আইনি দাবি বা মামলা করেছে। তবে তার ভাষ্য অনুযায়ী, বিষয়টি আদালতে পৌঁছাতে আরও প্রায় দুই বছর সময় লাগতে পারে।

এদিকে, প্রতিবেশীর বাড়ি ভেঙে ফেলার পর সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতির কারণে মিত্রের পরিবার এখনও ওই বাড়িতেই বিভিন্ন সমস্যার মধ্যে বসবাস করছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সূত্রঃ জিবি নিউজ

এমকে

আরো পড়ুন

যুক্তরাজ্যে রাষ্ট্রীয় হুমকি মোকাবিলায় কঠোর আইন কার্যকরঃ সর্বোচ্চ ১৪ বছরের কারাদণ্ডের বিধান

যুক্তরাজ্যে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে রাস্তায় হাজারো মানুষ

যুক্তরাজ্যে দক্ষিণ ও মধ্য ওয়েলসে হলুদ সতর্কতা, বন্যা–বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের আশঙ্কা