TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যে ধর্ষকের ৮ বছরের কারাদণ্ডঃ পলাতক ধর্ষক ফয়সাল আহমেদকে ধরতে অভিযান

ধর্ষণ, নিয়ন্ত্রণমূলক আচরণ ও শিশু নির্যাতনের একাধিক গুরুতর অপরাধে আট বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করেছে যুক্তরাজ্যের চেশায়ার কনস্ট্যাবুলারি। মামলার শেষ শুনানিতে আদালতে হাজির না হওয়ায় ওই ব্যক্তিকে অনুপস্থিতিতেই দোষী সাব্যস্ত করে সাজা ঘোষণা করা হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, ৩৪ বছর বয়সী ফয়সাল আহমেদ, যিনি বাকিংহামের ওয়েস্ট স্ট্রিটের বাসিন্দা, তাকে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে নয় দিনের বিচারিক শুনানি শেষে দুইটি ধর্ষণের মামলায় দোষী সাব্যস্ত করা হয়। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে নিয়ন্ত্রণকারী ও জবরদস্তিমূলক আচরণ এবং শিশু অবহেলার অভিযোগও প্রমাণিত হয়। ১৯ জানুয়ারি চেস্টার ক্রাউন কোর্টে তাকে আট বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ২০২৩ সালের নভেম্বরে ক্রিউ শহরের একটি ঠিকানায় পুলিশের হস্তক্ষেপ ঘটে। সেখানে ভুক্তভোগী নারী অভিযোগ করেন, ফয়সাল আহমেদ কয়েক মাস ধরে তাকে বারবার শারীরিকভাবে নির্যাতন ও ধর্ষণ করেছেন। একই সময় তিনি ভুক্তভোগীর অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্তানকেও নির্যাতনের শিকার করেন বলে অভিযোগ ওঠে।

চেশায়ার পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার ও জিজ্ঞাসাবাদের পর আহমেদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করা হয় এবং বিচার শুরু হয়। তবে মামলার শেষ দিনে আদালতে হাজির না হওয়ায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। এরপর থেকেই তাকে খুঁজে পেতে গোয়েন্দারা তৎপরতা চালাচ্ছেন এবং জনসাধারণের সহায়তা চেয়েছেন।

মামলার তদন্তকারী গোয়েন্দা কনস্ট্যাবুল সাইমন নোলেস বলেন, ফয়সাল আহমেদ এখনও পলাতক থাকায় তিনি ভুক্তভোগীর জন্য “চলমান যন্ত্রণা” সৃষ্টি করছেন, কারণ তিনি তার অপরাধের দায় নিচ্ছেন না এবং আদালতের দেওয়া শাস্তি ভোগ করছেন না। তবে তিনি আদালতের রায়কে অপরাধের ভয়াবহতার যথাযথ প্রতিফলন হিসেবে উল্লেখ করেন।

নোলেস আরও বলেন, ভুক্তভোগী নারী পুলিশের কাছে এগিয়ে এসে যা ঘটেছে তা জানানোর যে সাহস দেখিয়েছেন, তার জন্য তিনি কৃতজ্ঞ। একই সঙ্গে তিনি অনুরোধ জানান, যারা এই ধরনের অপরাধের শিকার হয়েছেন, তারা যেন ১০১ নম্বরে ফোন করে বা পুলিশের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে যোগাযোগ করেন।

পুলিশ জানিয়েছে, কেউ যদি ফয়সাল আহমেদকে কোথাও দেখতে পান বা তার অবস্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য জানেন, তাহলে উদ্ধৃতি নম্বর IML 2178396 উল্লেখ করে চেশায়ার পুলিশের ওয়েবসাইটে অথবা ১০১ নম্বরে ফোন করে জানাতে অনুরোধ করা হচ্ছে। চাইলে ক্রাইমস্টপার্সের মাধ্যমে বেনামেও তথ্য দেওয়া যাবে।

চেশায়ার লাইভ–এ প্রকাশিত পুলিশের এই আবেদন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। ফেসবুকে হাজার হাজার মন্তব্যে ব্যবহারকারীরা অভিযুক্তের দ্রুত গ্রেপ্তার ও ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছেন।

ইংলিশ আইনে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে, দণ্ড ঘোষণার সময়সহ, অভিযুক্তের অনুপস্থিতিতে বিচার চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে। অভিযুক্তকে আদালতে হাজির হওয়ার সুযোগ দেওয়ার পরও যদি তিনি অনুপস্থিত থাকেন, তবে প্রসিকিউশনের আবেদনে বিচার অব্যাহত রাখা যেতে পারে—ক্রাউন প্রসিকিউশন সার্ভিসের নির্দেশনায় এমনটাই বলা হয়েছে।

আহমেদের বিরুদ্ধে প্রমাণিত নিয়ন্ত্রণকারী ও জবরদস্তিমূলক আচরণের অপরাধটি সিরিয়াস ক্রাইম অ্যাক্ট ২০১৫-এর ধারা ৭৬ অনুযায়ী একটি গুরুতর অপরাধ, যা ঘনিষ্ঠ বা পারিবারিক সম্পর্কে ধারাবাহিক ভয়ভীতি, নিয়ন্ত্রণ ও মানসিক নিপীড়নকে অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করে।

পুলিশ ভুক্তভোগী নারী বা শিশুটির কোনো পরিচয় প্রকাশ করেনি। যুক্তরাজ্যের আইন অনুযায়ী, যৌন অপরাধের মামলায় অভিযোগকারীরা আজীবন গোপনীয়তার অধিকার ভোগ করেন।

চেশায়ার পুলিশ পুনরায় জানিয়েছে, তাদের প্রধান অগ্রাধিকার হলো ফয়সাল আহমেদের অবস্থান শনাক্ত করা এবং আদালতের দেওয়া সাজা কার্যকর করতে তাকে দ্রুত হেফাজতে নেওয়া।

সূত্রঃ ক্রাইম ওয়াচ ডট কম

এম.কে

আরো পড়ুন

যুক্তরাজ্যে ভেঙে দেওয়া হলো পার্লামেন্ট

লন্ডনে ‘কিল দ্য বিল’ বিক্ষোভে শতাধিক গ্রেপ্তার

বন্ধ হতে পারে গোটা একটি টিউব লাইন!