TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যে নিরাপত্তা যাচাইয়ে ব্যর্থতার তথ্য গোপনঃ প্রধানমন্ত্রীর অজান্তেই সিদ্ধান্ত নিয়ে তোলপাড়

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার-কে গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা তথ্য থেকে অন্ধকারে রাখা হয়েছিল—এমন অভিযোগে দেশটির প্রশাসনিক কাঠামো নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাবেক জ্যেষ্ঠ রাজনীতিক পিটার ম্যান্ডেলসন-এর নিরাপত্তা যাচাইয়ে ব্যর্থতার বিষয়টি সময়মতো প্রধানমন্ত্রীকে জানানো হয়নি। অথচ তাকে ওয়াশিংটনে রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব দেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট সংস্থা তাকে ছাড়পত্র না দেওয়ার সুপারিশ করেছিল।

প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেছেন, ঘটনাটি “ক্ষমার অযোগ্য” এবং “অত্যন্ত বিস্ময়কর”। তিনি জানান, সাম্প্রতিক সময় পর্যন্ত তিনি এ বিষয়ে কিছুই জানতেন না।

ঘটনার পরপরই পররাষ্ট্র দপ্তরের শীর্ষ কর্মকর্তা অলি রবিন্স-কে পদ ছাড়তে হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, তার দপ্তর সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা সংস্থার পরামর্শ উপেক্ষা করে ম্যান্ডেলসনকে নিরাপত্তা ছাড়পত্র প্রদান করে।

এদিকে আরও দুই জ্যেষ্ঠ আমলা—অ্যান্টোনিয়া রোমিও এবং ক্যাথরিন লিটল—এই তথ্য জানার পরও তাৎক্ষণিকভাবে প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেননি বলে জানা গেছে। তারা কয়েক সপ্তাহ ধরে সংবেদনশীল তথ্য প্রকাশের ঝুঁকি যাচাই করছিলেন বলে সরকারি সূত্র দাবি করেছে।

তথ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা সংস্থা একটি নথিতে ম্যান্ডেলসন সম্পর্কে গুরুতর উদ্বেগ প্রকাশ করে এবং তাকে নিরাপত্তা ছাড়পত্র না দেওয়ার সুপারিশ করে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই সুপারিশ উপেক্ষা করা হয়।

এ ঘটনা সামনে আসার পর সংসদীয় একটি প্রস্তাবের আওতায় সংশ্লিষ্ট সব নথি প্রকাশ করা হবে কিনা, তা নিয়ে প্রশাসনের ভেতরে মতবিরোধ দেখা দেয়। কেউ কেউ জাতীয় নিরাপত্তার ঝুঁকির কথা তুলে নথি প্রকাশে আপত্তি জানান, অন্যদিকে অনেকে সংসদের প্রতি দায়বদ্ধতার কথা উল্লেখ করে স্বচ্ছতার পক্ষে মত দেন।

সূত্রগুলো বলছে, এই বিতর্ক কয়েক সপ্তাহ ধরে চলেছে এবং একাধিক কর্মকর্তা ও আইনজীবী এতে যুক্ত ছিলেন। এমনকি কিছু কর্মকর্তার মধ্যে আশঙ্কা ছিল, বিষয়টি গোপন রাখার চেষ্টা হতে পারে।

এদিকে সংসদের গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা তদারকি কমিটির পক্ষ থেকে সতর্ক করা হয়েছে, প্রয়োজনীয় নথি গোপন রাখা হলে তা ভালোভাবে নেওয়া হবে না।
পরিস্থিতির মধ্যে আপসের কিছু প্রস্তাবও বিবেচনায় আসে—যেমন সীমিত পরিসরে নথি প্রদর্শন করা। তবে এখনো এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত স্পষ্ট নয়।

শুক্রবার প্রকাশিত এক সরকারি নথিতে দেখা গেছে, প্রধানমন্ত্রী আগে জানতেন না যে সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা সংস্থার পরামর্শ উপেক্ষা করেও ছাড়পত্র দেওয়া সম্ভব। বিষয়টি জানার পর তিনি দ্রুত তথ্য যাচাই করে সংসদকে অবহিত করার নির্দেশ দেন।

বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনা সরকারের অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া, জবাবদিহিতা এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।

সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান

এম.কে

আরো পড়ুন

যুক্তরাজ্যে প্রথমবারের মতো তীব্র গরমের সতর্কতা জারি

অনলাইন ডেস্ক

যুক্তরাজ্যে হামাস-ইসরায়েল যুদ্ধে বাড়ছে হেইট ক্রাইম

যুক্তরাজ্য যাওয়ার চেষ্টা, ইংলিশ চ্যানেলে ঠান্ডায় জমে ৫ জনের মৃত্যু