যুক্তরাজ্যের ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে নিষিদ্ধ প্রজাতির কুকুরের মালিকদের জন্য আগামী ১ নভেম্বর থেকে নতুন বিধিনিষেধ কার্যকর হচ্ছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ১২ বছরের কম বয়সী কোনো শিশুকে ব্যক্তিগত স্থানে নিষিদ্ধ প্রজাতির কুকুরের সঙ্গে প্রাপ্তবয়স্কের তত্ত্বাবধান ছাড়া ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শে রাখা যাবে না। নিয়ম লঙ্ঘন করলে কুকুরের মালিকের সর্বোচ্চ ৫ হাজার পাউন্ড জরিমানা, ছয় মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং কুকুর জব্দ হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
নতুন বিধানের আওতায় বাড়ি, বাগানসহ ব্যক্তিগত স্থানে শিশু ও নিষিদ্ধ প্রজাতির কুকুরের সংস্পর্শ নিয়ন্ত্রণে মালিকদের বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। ১২ বছরের কম বয়সী কোনো শিশু কুকুরটির কাছাকাছি থাকলে দায়িত্বশীল প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে। শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এ বিধিনিষেধ কার্যকর করা হচ্ছে।
যুক্তরাজ্যের বিপজ্জনক কুকুরসংক্রান্ত আইনে নিষিদ্ধ পাঁচ ধরনের কুকুর হলো পিট বুল টেরিয়ার, জাপানিজ তোসা, ডোগো আর্জেন্টিনো, ফিলা ব্রাসিলেইরো এবং এক্সএল বুলির ধরন। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, আদালত অনুমোদিত অব্যাহতি সনদের আওতায় দেশটির বিভিন্ন বাড়িতে প্রায় ৩ হাজার ৪৯৯টি নিষিদ্ধ প্রজাতির কুকুর বৈধভাবে পালিত হচ্ছে।
নতুন নিয়ম থেকে অব্যাহতি সনদধারী কুকুরের মালিকেরাও ছাড় পাবেন না। অর্থাৎ, আইন অনুযায়ী কুকুর পালনের অনুমতি থাকলেও শিশুদের সঙ্গে সংস্পর্শের ক্ষেত্রে নির্ধারিত বিধিনিষেধ মানতে হবে। এ ক্ষেত্রে শিশু ও কুকুরের মধ্যে সম্পূর্ণ শারীরিক বিচ্ছিন্নতা নিশ্চিত করতে বন্ধ দরজা, সিঁড়ির নিরাপত্তা গেট কিংবা উপযুক্ত খাঁচা ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
নিয়ম ভঙ্গের ক্ষেত্রে বিপজ্জনক কুকুর আইন ১৯৯১-এর আওতায় মালিকদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। অপরাধের ধরন ও পরিস্থিতি অনুযায়ী জরিমানা, কারাদণ্ড কিংবা কুকুর জব্দ করার মতো পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব। তাই নতুন বিধান কার্যকর হওয়ার আগেই সংশ্লিষ্ট মালিকদের নিয়মগুলো সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা নেওয়া এবং বাড়িতে শিশু থাকলে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
যুক্তরাজ্যে কুকুরের আক্রমণ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে উদ্বেগ রয়েছে। বিশেষ করে এক্সএল বুলির আক্রমণ ও এ ধরনের কুকুর পালনের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দেশটিতে বিতর্ক হয়েছে। ২০২৪ সালের ১ ফেব্রুয়ারি থেকে অব্যাহতি সনদ ছাড়া এক্সএল বুলির মালিকানা রাখা ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য হচ্ছে।
তবে প্রকাশিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার পরও কুকুরের আক্রমণে আহত হওয়ার বার্ষিক ঘটনা কমেনি। বরং এ ধরনের ঘটনা বছরে প্রায় ২৯ হাজার ৪০০ থেকে বেড়ে ৩২ হাজারে পৌঁছেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব পরিসংখ্যান কুকুরের আক্রমণ প্রতিরোধে বিদ্যমান বিধিনিষেধের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
কুকুরের আক্রমণে প্রাণহানির একটি ঘটনাও যুক্তরাজ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিল। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, জন ম্যাককল নামের এক বৃদ্ধ বাড়ি ফেরার পথে ভুল করে শন গার্নারের বাড়ির গাড়ি প্রবেশের পথে ঢুকে পড়লে গার্নারের পোষা কুকুর টরেট্টোর আক্রমণের শিকার হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কুকুরটিকে লক্ষ্য করে ১০ বার গুলি চালায়।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আক্রমণের সময় প্রতিবেশীরা ঝাড়ু, গলফ ক্লাব ও স্পিরিট লেভেলের মতো জিনিস ব্যবহার করে বৃদ্ধকে রক্ষার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু তাদের প্রচেষ্টা সফল হয়নি। পরবর্তী সময়ে বিচারে বিপজ্জনকভাবে নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা কুকুরের মালিক হিসেবে ম্যাককলের মৃত্যুর জন্য শন গার্নারকে দায়ী সাব্যস্ত করা হয়। এ ঘটনায় তাকে ১২ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
নতুন বিধান কার্যকর হলে নিষিদ্ধ প্রজাতির কুকুরের মালিকদের দায়িত্ব আরও বাড়বে। বিশেষ করে বাড়িতে শিশু থাকলে কুকুরের সঙ্গে তাদের সংস্পর্শ নিয়ন্ত্রণ, নিরাপদ পৃথকীকরণ এবং আইনের সব শর্ত মেনে চলা জরুরি হবে। নিয়ম অমান্য করলে শুধু আর্থিক জরিমানাই নয়, কারাদণ্ড এবং পোষা কুকুর হারানোর ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে।
সূত্রঃ গভ.ইউকে
এমকে

