TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যে প্রধানমন্ত্রীর দৌড়ে এগিয়ে অ্যান্ডি বার্নহামঃ কিন্তু সামনে কঠিন পরীক্ষা

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী ও লেবার পার্টির নেতা স্যার কিয়ার স্টারমারের আকস্মিক পদত্যাগের ঘোষণার পর দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে নতুন নেতৃত্ব নিয়ে জোর আলোচনা। সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত হচ্ছে মেকারফিল্ডের এমপি অ্যান্ডি বার্নহামের নাম। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পথে তার সামনে রয়েছে বহু বাধা ও অভ্যন্তরীণ প্রতিরোধ।

দ্য টাইমসের প্রধান রাজনৈতিক প্রতিবেদক অউব্রে অ্যালেগ্রেত্তি মনে করেন, বার্নহামকে এখনো নিশ্চিত উত্তরসূরি হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। জিবি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী পদে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে উঠে আসার সঙ্গে সঙ্গেই বার্নহামের অতীত অবস্থান, নীতিগত দৃষ্টিভঙ্গি এবং নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিগুলো আরও গভীরভাবে খতিয়ে দেখা হবে।

অ্যালেগ্রেত্তির ভাষায়, মেকারফিল্ড নির্বাচনী প্রচারণার সময় বার্নহামকে একাধিক বিষয়ে অবস্থান পরিবর্তন করতে হয়েছিল। ফলে কল্যাণনীতি, প্রতিরক্ষা নীতি এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে তার অবস্থান নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে পারে। এসব বিষয় তার নেতৃত্বের সম্ভাবনাকে প্রভাবিত করতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি আরও ইঙ্গিত দেন যে, লেবার পার্টির ভেতর থেকে অন্য কোনো প্রার্থীও সামনে আসতে পারেন। সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে সাবেক সেনা কর্মকর্তা ও এমপি আল কার্নসের নামও আলোচনায় রয়েছে। ফলে নেতৃত্বের লড়াই এককভাবে বার্নহামের হাতে চলে যাবে—এমন ধারণাকে তিনি অকালপক্ব বলে মনে করেন।

এদিকে স্টারমারের পদত্যাগে তার ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক মিত্রদের মধ্যে গভীর হতাশা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অ্যালেগ্রেত্তি জানান, স্টারমারের এক ঘনিষ্ঠ সহযোগী তাকে বার্তা পাঠিয়ে বলেছেন, “আমি এখন কথা বলতে পারছি না, আমি কাঁদছি।” এই প্রতিক্রিয়াকে তিনি লেবার পার্টির অভ্যন্তরীণ আবেগ ও বিভক্তির প্রতিফলন হিসেবে উল্লেখ করেন।

রাজনৈতিক মহলে এমনও আলোচনা চলছে যে, স্টারমারের কিছু সমর্থক বার্নহামের উত্থানকে ভালোভাবে গ্রহণ করছেন না। তাদের একটি অংশের মধ্যে এখনও গভীর তিক্ততা ও বিরূপ মনোভাব রয়েছে, যা নতুন নেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়াকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।

সোমবার সকালে ১০ ডাউনিং স্ট্রিটের সামনে দাঁড়িয়ে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে কিয়ার স্টারমার তার পদত্যাগের ঘোষণা দেন। আবেগঘন বক্তব্যে তিনি বলেন, দুই বছর আগে নতুন লেবার সরকারের নেতৃত্ব নিয়ে এই সড়ক দিয়ে হেঁটে আসা ছিল তার জীবনের সবচেয়ে গর্বের মুহূর্ত।

স্টারমার বলেন, “আমার দল এখন প্রশ্ন করছে আমি কি পরবর্তী সাধারণ নির্বাচনে তাদের নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত ব্যক্তি। আমি আমার সংসদীয় দলের সেই উত্তর শুনেছি এবং তা সৌজন্যের সঙ্গে মেনে নিচ্ছি।”

তিনি আরও বলেন, দেশের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েই তিনি সব সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং সেই কারণেই তিনি লেবার পার্টির নেতার পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

তবে নতুন নেতা নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি দায়িত্বে থাকবেন। বক্তব্যের শেষে স্টারমার জানান, তিনি রাজা তৃতীয় চার্লসের সঙ্গে আলোচনা করেছেন এবং সেপ্টেম্বর মাসে নতুন নেতা নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন চালিয়ে যাবেন।

স্টারমারের বিদায়ের মধ্য দিয়ে যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা হতে যাচ্ছে। এখন নজর লেবার পার্টির নেতৃত্ব নির্বাচনের দিকে, যেখানে অ্যান্ডি বার্নহাম এগিয়ে থাকলেও তার পথ যে মোটেও মসৃণ নয়, তা ইতোমধ্যেই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

সূত্রঃ দ্য এক্সপ্রেস

এম.কে

আরো পড়ুন

হোম অফিসের বিরুদ্ধে আইনী কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে বিদেশী শিক্ষার্থীরা

যুক্তরাজ্যে গ্রিন পার্টির ডেপুটি নেতা মতিন আলী ও তার পরিবারকে ঘিরে বর্ণবাদী উসকানি

ভারত সফর বাতিল করলেন বরিস জনসন

অনলাইন ডেস্ক