TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যে বড় ধরনের বিপর্যয়ে লেবারঃ জরিপে রিফর্মের অপ্রতিরোধ্য উত্থান

যুক্তরাজ্যে নতুন এক জরিপে দেখা যাচ্ছে, যদি এখনই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় তবে নাইজেল ফারাজের নেতৃত্বাধীন রিফর্ম ইউকে ৪০০ আসনের বিশাল জয় পেতে পারে। দ্য আই পেপার–এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রিফর্ম বর্তমানে লেবার সরকারের চেয়ে ১৫ পয়েন্টে এগিয়ে আছে।

জরিপে দেখা গেছে, মাত্র ২০ শতাংশ ভোটার লেবারকে সমর্থন করতে ইচ্ছুক, যেখানে ৩৫ শতাংশ রিফর্মকে বেছে নেবে। অপরদিকে কনজারভেটিভ নেতা কেমি বাডেনক সমর্থন পেয়েছেন মাত্র ১৭ শতাংশ ভোটারের।

অভিবাসন সংকটেই মূলত এই জনপ্রিয়তার রদবদল ঘটেছে। জরিপ অনুযায়ী, ৪১ শতাংশ মানুষ মনে করেন ফারাজ অভিবাসন সমস্যার সমাধান করতে পারবেন, অথচ স্টারমারের প্রতি আস্থা রাখেন মাত্র ১৪ শতাংশ। টরিদের প্রতি আস্থা আরও কম, মাত্র ৮ শতাংশ।

ফারাজ ইতিমধ্যেই বড় আকারের বহিষ্কার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন। তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, ক্ষমতায় গেলে প্রথম মেয়াদেই ৬ লাখ অবৈধ অভিবাসীকে বহিষ্কার করবেন। রিফর্মের পরিকল্পনায় রয়েছে নতুন আইন প্রণয়ন, যাতে স্বরাষ্ট্রসচিবকে অভিবাসী বহিষ্কার করার আইনি দায়িত্ব দেওয়া হবে এবং আদালতের হস্তক্ষেপ বন্ধ করা হবে। এ ছাড়াও যুক্তরাজ্য ইউরোপিয়ান কনভেনশন অন হিউম্যান রাইটস থেকে বের হয়ে আসবে, এবং বিশেষ ডিটেনশন ক্যাম্প তৈরি করা হবে। প্রতিদিন পাঁচটি করে বহিষ্কার ফ্লাইট চালানোরও ঘোষণা দিয়েছেন ফারাজ।

বিএমজি জরিপে দেখা গেছে, বর্তমানে ৩৭ শতাংশ মানুষ ফারাজের নেতৃত্বে সন্তুষ্ট। অন্যদিকে লেবার নেতা কিয়ার স্টারমারের জনপ্রিয়তা তলানিতে নেমে গেছে। তার নেট রেটিং দাঁড়িয়েছে -৪১, যা গত নির্বাচনের আগে সুনাকের জনপ্রিয়তার সমান।

এই জরিপ প্রকাশের একই সময়ে এপিং–এর বেল হোটেল নিয়ে আদালতের রায় নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। হাইকোর্টের রায়ে হোটেলে অভিবাসীদের রাখা বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হলেও, আপিল কোর্ট তা বাতিল করে দিয়েছে। ফলে অভিবাসীরা আপাতত সেখানেই থাকতে পারবে। এই রায়কে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে সমালোচনার ঝড় বইছে।

টরিরা অভিযোগ করেছে, লেবার সরকার ট্যাক্সপেয়ারের অর্থ ব্যবহার করে অবৈধ অভিবাসীদের পক্ষ নিচ্ছে। কেমি বাডেনক বলেছেন, এই রায় স্থানীয় জনগণের অধিকার বনাম অবৈধ অভিবাসীদের অধিকারের সংঘর্ষকে স্পষ্ট করেছে। অপরদিকে ফারাজ তার বহিষ্কার পরিকল্পনা সামনে তুলে ধরে দাবি করেছেন, সরকার জনগণের বিপরীতে অবস্থান নিয়েছে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, অভিবাসন ইস্যুতে জনগণের হতাশা ও ক্ষোভই রিফর্ম ইউকের জনপ্রিয়তা বাড়াচ্ছে। লেবার ও কনজারভেটিভ—দুই দলকেই অকার্যকর মনে করছে ভোটাররা। তাই আগামী সাধারণ নির্বাচনে রিফর্ম ইউকের উত্থান ব্রিটিশ রাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে।

সূত্রঃ দ্য সান

এম.কে
৩০ আগস্ট ২০২৫

আরো পড়ুন

ফিরছে না অভিবাসন প্রত্যাশীদের নৌকা, মানা হচ্ছে না প্রীতি প্যাটেলের নীতি

যুক্তরাজ্যে কাউন্সিলের বাড়ি জালিয়াতিতে বরাদ্দঃ গাঁজা চাষ ও অবৈধ কাজে ব্যবহারের অভিযোগ

যুক্তরাজ্যে ফ্লাইট বিশৃঙ্খলায় হাজারো যাত্রী আটকা, দুর্বল যোগাযোগে ক্ষোভ প্রকাশ