TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যে বাধ্যতামূলক সামরিক সেবা ফেরানোর বিরোধিতায় ১৩ সংগঠনের পিটিশন

আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে যুক্তরাজ্যে সম্ভাব্য বাধ্যতামূলক সামরিক সেবা বা জাতীয় সেবা পুনরায় চালুর বিরোধিতায় দেশব্যাপী পিটিশন কর্মসূচি শুরু করেছে ১৩টি ব্রিটিশ শান্তি ও ধর্মভিত্তিক সংগঠন। সংগঠনগুলোর জোট সরকারের কাছে স্পষ্ট ঘোষণা দাবি করেছে, তরুণদের জন্য কোনো ধরনের বাধ্যতামূলক সামরিক নিয়োগ পুনরায় চালু করা হবে না।

ফোর্সেসওয়াচ, পিস প্লেজ ইউনিয়ন এবং কোয়েকার্স ইন ব্রিটেনসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃত্বে এই প্রচারাভিযান পরিচালিত হচ্ছে। আন্দোলনকারীদের দাবি, বাধ্যতামূলক সামরিক সেবা তরুণদের নাগরিক স্বাধীনতার ওপর হস্তক্ষেপের পাশাপাশি তাদের শারীরিক, মানসিক ও নৈতিক সুস্থতার জন্য গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

আন্দোলনকারীরা বাধ্যতামূলক সামরিক সেবাকে ‘নৈতিকভাবে আপত্তিকর’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তাদের মতে, তরুণদের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ একটি সময়ে রাষ্ট্রীয়ভাবে সামরিক দায়িত্ব চাপিয়ে দেওয়া হলে তাদের শিক্ষা, কর্মজীবন ও ব্যক্তিগত জীবনে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। একই সঙ্গে সামরিক প্রশিক্ষণ ও যুদ্ধের সম্ভাব্য দায়িত্ব তরুণদের ওপর দীর্ঘমেয়াদি মানসিক ও নৈতিক চাপ সৃষ্টি করতে পারে বলেও তারা সতর্ক করেছেন।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সাম্প্রতিক উত্তেজনাই এই প্রচারাভিযানকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে। ইউক্রেনকে যুক্তরাজ্যের গোয়েন্দা সহায়তা ও সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ এবং এর প্রতিক্রিয়ায় মস্কোর পাল্টা জবাবের হুমকি ইউরোপের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। এর প্রেক্ষাপটে যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা, সেনাসদস্যের সংখ্যা এবং ভবিষ্যতে সামরিক বাহিনীতে জনবল নিশ্চিত করার পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা জোরদার হয়েছে।

তবে বাধ্যতামূলক সামরিক সেবা নিয়ে ব্রিটিশ জনমত একেবারেই একমুখী নয়। প্রতিবেদনে উদ্ধৃত ইউগভের এক জরিপ অনুযায়ী, ৪০ বছরের কম বয়সী ব্রিটিশদের ৩৮ শতাংশ জানিয়েছেন, বিশ্বব্যাপী বড় ধরনের সংঘাত শুরু হলেও তারা সামরিক বাহিনীতে যোগ দিতে অস্বীকৃতি জানাবেন। এমনকি যুক্তরাজ্য সরাসরি আক্রান্ত বা আগ্রাসনের শিকার হলেও ৩০ শতাংশ তরুণ সামরিক সেবায় যেতে অস্বীকৃতি জানাবেন বলে জানিয়েছেন।

এই পরিসংখ্যান তরুণ প্রজন্মের মধ্যে বাধ্যতামূলক সামরিক সেবা নিয়ে বিদ্যমান অনীহা ও বিভক্ত মনোভাবের বিষয়টি সামনে এনেছে। বিশেষ করে যুদ্ধের সময়ে ব্যক্তিগত স্বাধীনতা, রাষ্ট্রের প্রতি দায়িত্ব এবং সামরিক বাহিনীতে যোগদানের বাধ্যবাধকতা—এই তিনটি বিষয়ের মধ্যে ভারসাম্য কীভাবে নির্ধারণ করা হবে, তা নিয়ে বিতর্ক আরও গভীর হতে পারে।

শান্তি সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সামরিক শক্তির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতার পরিবর্তে কূটনীতি, সংলাপ ও সংঘাত নিরসনের শান্তিপূর্ণ পদ্ধতিকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত। তাদের মতে, আন্তর্জাতিক উত্তেজনা যত বাড়বে, ততই যুদ্ধের প্রস্তুতির পাশাপাশি যুদ্ধ প্রতিরোধের কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদার করা প্রয়োজন।

পিটিশনটির মাধ্যমে সংগঠনগুলো সরকারকে আগাম অবস্থান পরিষ্কার করার আহ্বান জানিয়েছে। তাদের মূল দাবি, বর্তমান কিংবা ভবিষ্যতের কোনো নিরাপত্তা সংকটকে কেন্দ্র করে যুক্তরাজ্যে তরুণদের জন্য বাধ্যতামূলক সামরিক সেবা পুনঃপ্রবর্তনের পথ যেন সরকার বন্ধ রাখে।

এদিকে ইউরোপের নিরাপত্তা পরিস্থিতি, ইউক্রেন যুদ্ধ এবং রাশিয়ার সঙ্গে পশ্চিমা দেশগুলোর ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা নীতিকে আগামী দিনগুলোতে আরও গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ইস্যুতে পরিণত করতে পারে। ফলে সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর দাবি এবং বাধ্যতামূলক সেনাসেবার বিরোধিতাকারী শান্তি সংগঠনগুলোর অবস্থানের মধ্যকার বিতর্কও সামনে আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

সূত্রঃ নেটওয়ার্ক ফর পিস

এম.কে

আরো পড়ুন

ভিসার শর্ত ভঙ্গ করলে যুক্তরাজ্যে প্রবেশে ১০ বছর পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞাঃ কঠোর হোম অফিস

যুক্তরাজ্যে প্রধানমন্ত্রীর আসন টলাতে লেবার দলের অভ্যন্তরে তৎপরতা চরমে

নিউজ ডেস্ক

অবৈধ অভিবাসীদের উস্কে দেওয়ায় সোশ্যাল মিডিয়াকে দুষলেন প্রীতি প্যাটেল