20.3 C
London
October 2, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যে ভয়াবহ ওষুধ সংকটঃ ক্যানসার ও হরমোন চিকিৎসার দুই ওষুধ নিয়ে উদ্বেগ

যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস—এনএইচএসে গুরুত্বপূর্ণ দুটি ওষুধের সংকট আরও দীর্ঘায়িত হচ্ছে। ক্যানসারসহ বিভিন্ন গুরুতর রোগে ব্যবহৃত ক্রেয়ন এবং মেনোপজের উপসর্গ নিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত হরমোন রিপ্লেসমেন্ট থেরাপির এস্ট্রাডট-এর কয়েকটি ধরন অন্তত ২০২৭ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত সরবরাহ সংকটে থাকবে বলে জানিয়েছে দেশটির স্বাস্থ্য ও সামাজিক সেবাবিষয়ক বিভাগ।

ফার্মেসিগুলোকে ইতোমধ্যে কিছু ক্ষেত্রে ওষুধের সরবরাহ সীমিত করে দিতে হচ্ছে। ন্যাশনাল ফার্মেসি অ্যাসোসিয়েশন বা এনপিএ-এর চেয়ারম্যান অলিভিয়ার পিকার্ড বলেছেন, ক্রেয়ন ও এস্ট্রাডটের সংকট যুক্তরাজ্যের সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী ওষুধ সংকটগুলোর মধ্যে পরিণত হয়েছে। তার মতে, সরবরাহের সমস্যা রোগী ও ফার্মেসি—উভয়ের জন্যই উদ্বেগের এবং এটি রোগীর নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

ক্রেয়ন এমন একটি ওষুধ, যা অগ্ন্যাশয়ের ক্যানসার, সিস্টিক ফাইব্রোসিস এবং দীর্ঘমেয়াদি অগ্ন্যাশয়ের প্রদাহে আক্রান্ত রোগীদের খাবার হজমে সহায়তা করে। এটি খাবারের কার্বোহাইড্রেট, চর্বি ও প্রোটিন ভাঙতে প্রয়োজনীয় এনজাইম সরবরাহ করে।

ওষুধটির সরবরাহ সংকট শুরু হয় ২০২৪ সালের মে মাসে। এর ফলে কিছু রোগী প্রয়োজনীয় ওষুধ না পেয়ে ডোজ কমিয়ে নেওয়া বা খাবার বাদ দেওয়ার মতো পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন বলে ফার্মেসি ও রোগী সহায়তাকারী সংগঠনগুলো জানিয়েছে।

সর্বশেষ সরকারি নোটিশ অনুযায়ী, ক্রেয়নের ১০,০০০ এবং ২৫,০০০ ইউনিটের গ্যাস্ট্রোরেজিস্ট্যান্ট ক্যাপসুলের ঘাটতি ২০২৬ সালের ২ অক্টোবর শেষ হওয়ার কথা থাকলেও তা বাড়িয়ে ২০২৭ সালের ৮ জানুয়ারি পর্যন্ত করা হয়েছে। প্রয়োজন হলে এই সময়সীমা আরও বাড়তে পারে।

এটি ক্রেয়ন সংকট নিয়ে জারি করা ‘সিরিয়াস শর্টেজ প্রোটোকল’ বা গুরুতর ওষুধ সংকট সংক্রান্ত নির্দেশনা নবমবারের মতো বাড়ানোর ঘটনা। ফলে ওষুধটির ঘাটতি দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে চলতে যাচ্ছে।

তবে প্যানক্রিয়াটিক ক্যানসার ইউকে জানিয়েছে, সংকটের সবচেয়ে তীব্র সময়ের তুলনায় বর্তমানে ক্রেয়নের সরবরাহ পরিস্থিতি কিছুটা স্থিতিশীল হয়েছে। সংগঠনটি বলছে, রোগীদের জন্য প্যানক্রিয়াটিক এনজাইম রিপ্লেসমেন্ট থেরাপি বা পিইআরটি আরও সহজ ও নির্ভরযোগ্যভাবে পাওয়ার ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।

অন্যদিকে, মেনোপজের উপসর্গ নিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত এস্ট্রাডট হরমোন প্যাচের ২৫, ৫০, ৭৫ ও ১০০ মাইক্রোগ্রাম—এই চার ধরনের সরবরাহ সংকটের সময়সীমাও বাড়ানো হয়েছে। এগুলোর সংকটও ২০২৭ সালের ৮ জানুয়ারি পর্যন্ত চলবে বলে নতুন নোটিশে জানানো হয়েছে।

এস্ট্রাডটের ৫০, ৭৫ ও ১০০ মাইক্রোগ্রাম প্যাচের ঘাটতি প্রথম ঘোষণা করা হয়েছিল ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে। পরে ২০২৫ সালের মে মাসে ২৫ মাইক্রোগ্রাম প্যাচও সংকটের তালিকায় যুক্ত হয়।

চিকিৎসকদের মতে, হরমোন রিপ্লেসমেন্ট থেরাপির ওপর নির্ভরশীল অনেক নারীর জন্য এই সংকট শুধু ওষুধ না পাওয়ার সমস্যা নয়। এস্ট্রাডট ব্যবহার করা হয় হট ফ্লাশ, রাতের ঘাম, ঘুমের সমস্যা, ব্রেন ফগ, উদ্বেগ এবং মন খারাপের মতো মেনোপজ-সংক্রান্ত উপসর্গ নিয়ন্ত্রণে।

নারীস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নিকি র‍্যামস্কিল জানিয়েছেন, অনেক নারী তাদের নিয়মিত এস্ট্রাডট প্যাচ সংগ্রহ করতে একাধিক ফার্মেসিতে যোগাযোগ করছেন অথবা অন্য ব্র্যান্ড ব্যবহারের প্রস্তাব পাচ্ছেন।

তবে তিনি নারীদের আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। তাঁর মতে, এস্ট্রাডট পাওয়া না গেলে ট্রান্সডার্মাল ইস্ট্রোজেনের অন্যান্য ব্র্যান্ড ও ধরন ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া প্যাচের ব্যবহার কমানো, কেটে নেওয়া বা ডোজ পরিবর্তন না করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

যুক্তরাজ্যে সামগ্রিক ওষুধ সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। সেপ্টেম্বরের শেষ নাগাদ সরকারের ‘প্রাইস কনসেশনস’ তালিকায় ২৪৮টি ওষুধ ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এই তালিকায় সাধারণত এমন ওষুধ থাকে, যেগুলো সরবরাহ সংকটের কারণে স্বাভাবিক দামের চেয়ে বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। এনএইচএস ফার্মেসিগুলোকে নির্দিষ্ট দামে ওষুধ সরবরাহের জন্য অর্থ দেয়। বাজারদর সেই নির্ধারিত দামের চেয়ে বেড়ে গেলে ফার্মেসিগুলোর জন্য ওষুধ সংগ্রহ করা কঠিন হয়ে পড়ে।

ফার্মেসিগুলোর প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠন কমিউনিটি ফার্মেসি ইংল্যান্ড জানিয়েছে, ওষুধের সরবরাহ সংকটের কারণে ফার্মেসি কর্মীদের উল্লেখযোগ্য সময় ব্যয় করতে হচ্ছে ওষুধ খুঁজে বের করা, প্রেসক্রিপশন ব্যবস্থাপনা এবং রোগীদের বিলম্ব বা বিকল্প ওষুধ সম্পর্কে বোঝাতে।

প্যানক্রিয়াটিক ক্যানসার ইউকের পরামর্শ অনুযায়ী, ক্রেয়ন না পাওয়া গেলে চিকিৎসকের পরামর্শে অন্য ধরনের প্যানক্রিয়াটিক এনজাইম রিপ্লেসমেন্ট থেরাপি ব্যবহার করা যেতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে বিদেশ থেকে পিইআরটি আমদানির ব্যবস্থাও করা হচ্ছে।

রোগীদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, শেষবারের ওষুধ পাওয়ার পরপরই পরবর্তী প্রেসক্রিপশনের জন্য আবেদন করতে। প্রয়োজনে নিজের জিপি সার্জারি ও ফার্মেসির সঙ্গে আগেভাগে যোগাযোগ করতে হবে।

নিজের ফার্মেসিতে ওষুধ না থাকলে আশপাশের অন্য ফার্মেসিতেও খোঁজ নেওয়া যেতে পারে। তবে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো ওষুধের ব্র্যান্ড বা ডোজ পরিবর্তন করা উচিত নয়।

এনএইচএসের ওষুধ সংকট নিয়ে ফার্মেসি সংগঠনগুলো বলছে, সরবরাহ ব্যবস্থার দীর্ঘস্থায়ী সমস্যার সমাধান না হলে রোগীদের ওপর এর প্রভাব আরও বাড়তে পারে।

সূত্রঃ দ্য সান

এমকে

আরো পড়ুন

আধুনিক দাসত্বঃ সুরক্ষা দিচ্ছে যুক্তরাজ্য

যুক্তরাজ্যে প্যালেস্টাইন অ্যাকশনকে সন্ত্রাসী ঘোষণা নিয়ে হোম অফিসে অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহ

সাদিক খানের সবুজ পরিকল্পনায় লন্ডনে ফিরছে সাদা স্টর্ক ও বিভার