ইংল্যান্ডে গৃহহীনতা ও রাস্তায় বসবাসকারীদের সংকট আবারও আলোচনায় এসেছে। তিন সন্তানের গৃহহীন মা মিশেল প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যামকে রাস্তায় বসবাসকারীদের বাস্তব জীবন নিজ চোখে দেখার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা না বুঝে এই সংকটের স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।
মিশেল জানান, তিনি প্রায় চার বছর ধরে আইনগতভাবে গৃহহীন। একসময় বিক্রয়কর্মী ও বিভিন্ন ক্যাফেতে কাজ করলেও নানা প্রতিকূল পরিস্থিতির কারণে তিনি এখন রাস্তায় রাত কাটাতে বাধ্য হচ্ছেন। তিনি একটি ভবনের প্রবেশপথে কার্ডবোর্ড বিছিয়ে এবং এনএইচএসের একটি কম্বল গায়ে দিয়ে ঘুমান। এমনকি যেখানে তিনি ঘুমান, সেখানে অন্যের ফেলে যাওয়া বমিও তাকেই পরিষ্কার করতে হয়েছে বলে জানান।
তিনি বলেন, একজন একাকী নারী হিসেবে হোস্টেলে থাকার সময় অতীতে হামলার শিকার হওয়ার অভিজ্ঞতা রয়েছে। তাই ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও তার কাছে রাস্তায় ঘুমানো তুলনামূলক নিরাপদ মনে হয়। তার ভাষায়, রাস্তায় জীবন অত্যন্ত অমানবিক; মৌলিক স্বাস্থ্যবিধি রক্ষার জন্য পর্যাপ্ত শৌচাগার পর্যন্ত নেই। তিনি আরও বলেন, তার চেয়েও বেশি ঝুঁকিপূর্ণ ও অসহায় অবস্থায় অনেক মানুষ রাস্তায় জীবন কাটাচ্ছেন।
মিশেলের দাবি, প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যামের উচিত জাতীয় পর্যায়ে রাফ স্লিপিং বন্ধ করার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের আগে তার সাবেক কর্মস্থল গ্রেটার ম্যানচেস্টারে এসে গৃহহীন মানুষের প্রকৃত পরিস্থিতি সরেজমিনে দেখা।
এদিকে যুক্তরাজ্য সরকার গৃহহীনতা মোকাবিলায় নতুন পদক্ষেপের ঘোষণা দিয়েছে। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী তিন বছরে গৃহহীনতা মোকাবিলা কর্মসূচিতে অতিরিক্ত ৩৪০ মিলিয়ন পাউন্ড বিনিয়োগ করা হবে। এই অর্থ আবাসন বিভাগের অব্যবহৃত বাজেট থেকে বরাদ্দ দেওয়া হবে।
প্রধানমন্ত্রী হওয়ার আগে গ্রেটার ম্যানচেস্টরের মেয়র হিসেবে অ্যান্ডি বার্নহ্যাম ‘এ বেড এভরি নাইট’ নামে একটি কর্মসূচি চালু করেছিলেন। বর্তমানে এই উদ্যোগের আওতায় অঞ্চলজুড়ে ৬০০টিরও বেশি জরুরি আশ্রয় শয্যা পরিচালিত হচ্ছে, যার মাধ্যমে জরুরি ভিত্তিতে গৃহহীন মানুষকে আশ্রয় দেওয়া হচ্ছে।
তবে গৃহহীনদের নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংগঠন ও সমাজকর্মীদের মতে, জরুরি আশ্রয়ের ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ হলেও দীর্ঘমেয়াদে সাশ্রয়ী আবাসন, মানসিক স্বাস্থ্যসেবা, কর্মসংস্থান এবং নিরাপদ পুনর্বাসনের মতো বিষয়গুলো সমান গুরুত্ব না পেলে গৃহহীনতা সংকটের স্থায়ী সমাধান সম্ভব হবে না।
মিশেলের অভিজ্ঞতা সেই বাস্তবতাকেই সামনে এনেছে—যেখানে সরকারি প্রতিশ্রুতি ও বাস্তব জীবনের মধ্যে এখনও উল্লেখযোগ্য ব্যবধান রয়ে গেছে। তার বক্তব্য নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে, ইংল্যান্ডে রাফ স্লিপিং বন্ধের লক্ষ্য অর্জনে বর্তমান উদ্যোগগুলো কতটা কার্যকর হবে এবং সবচেয়ে ঝুঁকিতে থাকা মানুষদের কাছে সেই সহায়তা কতটা পৌঁছাবে।
সূত্রঃ জিবি নিউজ
এম.কে

