ইংল্যান্ড, স্কটল্যান্ড ও ওয়েলসে ড্রাইভিংয়ের তত্ত্বীয় ও ব্যবহারিক পরীক্ষায় নকলের ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। ড্রাইভিং অ্যান্ড ভেহিকল স্ট্যান্ডার্ডস এজেন্সি (DVSA)-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এক বছরে ড্রাইভিং পরীক্ষায় নকলের চেষ্টা হয়েছে ২ হাজার ৮৪৪ বার, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৪৭ শতাংশ বেশি।
তথ্য অধিকার আইনে পাওয়া উপাত্তে দেখা গেছে, নকলের পদ্ধতিতে প্রযুক্তির ব্যবহার সবচেয়ে বেশি। মোট ঘটনার এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি ক্ষেত্রে ব্লুটুথ ইয়ারপিস, লুকানো মোবাইল ফোন ও অন্যান্য প্রযুক্তিগত ডিভাইস ব্যবহার করে তত্ত্বীয় পরীক্ষায় নকল করার চেষ্টা করা হয়েছে। শুধু ব্লুটুথ সংক্রান্ত ঘটনাই ছিল ১ হাজার ১১৩টি।
নকলের আরেকটি বড় প্রবণতা হলো পরীক্ষার্থীর ছদ্মবেশ ধারণ। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ১ হাজার ৮৪ বার তত্ত্বীয় পরীক্ষায় এবং ৬৪৭ বার ব্যবহারিক পরীক্ষায় নিবন্ধিত পরীক্ষার্থীর জায়গায় অন্য কেউ পরীক্ষায় বসার চেষ্টা করেছে। এসব ঘটনায় সংগঠিত চক্রের সংশ্লিষ্টতার বিষয়টিও উঠে এসেছে তদন্তে।
গত ১২ মাসে ড্রাইভিং পরীক্ষায় নকল বা ছদ্মবেশ ধারণের অভিযোগে মোট ৯৬ জনকে আদালতে অভিযুক্ত করা হয়েছে। দোষী সাব্যস্ত হলে তাদের বিরুদ্ধে ড্রাইভিং নিষেধাজ্ঞা, কারাদণ্ড, কমিউনিটি সার্ভিস বা আদালতের খরচ বহনের মতো শাস্তি দেওয়া হচ্ছে।
অ্যাস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ের ফ্রড রিসার্চ গ্রুপের প্রধান ড. রাশা কাসেম সতর্ক করে বলেছেন, অবৈধভাবে ড্রাইভিং পরীক্ষায় পাস করা জননিরাপত্তার জন্য মারাত্মক হুমকি। তার মতে, প্রকৃত দক্ষতা ছাড়া লাইসেন্স পাওয়া চালকদের কারণে দুর্ঘটনা, আহত ও মৃত্যুর ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়, যা শুধু আইন ভঙ্গ নয়—একটি গুরুতর প্রতারণাও বটে।
আদালতের নথি অনুযায়ী, নকল পরীক্ষার জন্য ছদ্মবেশধারীদের কখনো কখনো একেকটি পরীক্ষায় পাস করিয়ে দিতে সর্বোচ্চ দুই হাজার পাউন্ড পর্যন্ত পারিশ্রমিক দেওয়া হয়। ২০২৫ সালে একাধিক ঘটনায় দেখা গেছে, পেশাদার ভুয়া পরীক্ষার্থী চক্র দীর্ঘ সময় ধরে বিভিন্ন পরীক্ষাকেন্দ্রে সক্রিয় ছিল।
এই পরিস্থিতির পেছনে ড্রাইভিং পরীক্ষার দীর্ঘ অপেক্ষাকাল বড় ভূমিকা রাখছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। বর্তমানে ব্যবহারিক ড্রাইভিং পরীক্ষার স্লট পেতে শিক্ষানবিশ চালকদের মাসের পর মাস অপেক্ষা করতে হচ্ছে। ন্যাশনাল অডিট অফিস সতর্ক করেছে, বর্তমান গতিতে চললে এই ব্যাকলগ পুরোপুরি কাটতে ২০২৭ সালের শেষ পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।
ড্রাইভিং ইনস্ট্রাক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান নির্বাহী কার্লি ব্রুকফিল্ড বলেন, অতিরিক্ত চাহিদা ও সীমিত পরীক্ষার সুযোগের কারণে অনেকেই ঝুঁকিপূর্ণ পথে যাচ্ছেন। দ্রুত লাইসেন্সের প্রয়োজন, বিশেষ করে চাকরির তাগিদে, কিছু মানুষকে নকলের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
তবে DVSA দাবি করেছে, পরীক্ষার দীর্ঘ অপেক্ষার সঙ্গে নকল বৃদ্ধির সরাসরি প্রমাণ তারা পায়নি। সংস্থাটি জানিয়েছে, নকল ঠেকাতে পরীক্ষাকেন্দ্রগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। ব্যবহারিক পরীক্ষায় পরীক্ষার্থীর মুখের সঙ্গে ছবি মিলিয়ে দেখা এবং তত্ত্বীয় পরীক্ষায় ইয়ারপিস, পকেট ও পোশাক পরীক্ষা করা হচ্ছে।
DVSA-এর এনফোর্সমেন্ট সার্ভিসেস বিভাগের পরিচালক মারিয়ান কিটসন বলেছেন, ড্রাইভিং পরীক্ষায় প্রতারণা শুধু আইন লঙ্ঘন নয়, এটি সড়কে চলাচলকারী সবার জীবন ঝুঁকিতে ফেলে। প্রতারণা দমনে তাদের কাউন্টার-ফ্রড টিম পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে কঠোর তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।
সূত্রঃ বিবিসি
এম.কে

