TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যে শাবানা মাহমুদের কথা পাত্তাই দিলেন না স্টারমারঃ বরখাস্ত হচ্ছেন না অভিবাসনমন্ত্রী

ব্রিটিশ রাজনীতিতে নতুন করে প্রকাশ্যে এসেছে ক্ষমতার দ্বন্দ্ব। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদের অনুরোধ সত্ত্বেও অভিবাসনমন্ত্রী মাইক ট্যাপকে বরখাস্ত করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমার। বরং ট্যাপকে কেবল মন্ত্রিপরিষদ আচরণবিধির দায়িত্ব স্মরণ করিয়ে দিয়েই বিষয়টি শেষ করেছেন তিনি। এতে সরকারে শাবানা মাহমুদের অবস্থান ও প্রভাব নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

বিতর্কের সূত্রপাত হয়, যখন মাইক ট্যাপ সরকারের অনুমোদন ছাড়াই জাতীয় দৈনিক দ্য টাইমস-এ একটি মতামতধর্মী নিবন্ধ লেখেন। সেখানে তিনি প্রস্তাবিত নতুন অভিবাসন নীতির সমালোচনা করে বলেন, যুক্তরাজ্যে পরিচর্যাকর্মী (কেয়ার ওয়ার্কার) ভিসায় এসে নিয়ম মেনে কাজ করা বিদেশি কর্মীদের স্থায়ী বসবাসের আবেদন করতে অতিরিক্ত অপেক্ষা করতে বাধ্য করা উচিত নয়।

এই নিবন্ধ প্রকাশের পর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, ট্যাপ সরকারের অভ্যন্তরীণ নীতিগত আলোচনা প্রকাশ করেছেন এবং মন্ত্রিপরিষদের সম্মিলিত দায়িত্বের নীতি লঙ্ঘন করেছেন। শাবানা মাহমুদ প্রধানমন্ত্রীর কাছে তাকে বরখাস্ত করার অনুরোধ জানান।

তবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, কোনো মন্ত্রী এককভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না যে মন্ত্রিপরিষদ আচরণবিধি লঙ্ঘিত হয়েছে কি না। এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার একমাত্র প্রধানমন্ত্রীর। একই সঙ্গে জানানো হয়, মাইক ট্যাপকে আচরণবিধি মেনে চলার বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে, তবে তাকে বরখাস্ত করা হচ্ছে না।

পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় মাইক ট্যাপ বলেন, তিনি শাবানা মাহমুদকে সম্মান করেন এবং দেশের জন্য কাজ চালিয়ে যাবেন। এর আগে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেন, অভিবাসন নীতি নিয়ে তিনি কয়েক মাস ধরেই কাজ করছেন এবং তার বক্তব্যের পক্ষে যথেষ্ট প্রমাণ রয়েছে। পাশাপাশি তিনি বলেন, নিজের মত প্রকাশ থেকে তাকে ভয় দেখিয়ে বিরত রাখা যাবে না।

ট্যাপের এই বক্তব্যের পর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো আশঙ্কা প্রকাশ করে, তিনি হয়তো সংবেদনশীল সরকারি তথ্য প্রকাশ করতে পারেন। এরপর তার সরকারি নথি ও গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে প্রবেশাধিকার সীমিত করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

এদিকে ডাউনিং স্ট্রিট জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী স্টারমারের আস্থা এখনো শাবানা মাহমুদ এবং মাইক ট্যাপ—উভয়ের প্রতিই রয়েছে। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বরখাস্তের দাবি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে স্টারমার কার্যত স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন যে মন্ত্রিসভার সদস্যদের ভাগ্য নির্ধারণের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত তার হাতেই থাকবে।

এই ঘটনা এমন সময় ঘটল, যখন সরকার যুক্তরাজ্যের অভিবাসন ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে। প্রস্তাবিত সংস্কারে অধিকাংশ অভিবাসীর স্থায়ী বসবাসের যোগ্যতা অর্জনের সময়সীমা পাঁচ বছর থেকে বাড়িয়ে দশ বছর করার পরিকল্পনা রয়েছে। স্বাস্থ্য ও সামাজিক পরিচর্যা ভিসাধারীদের জন্য এই সময়সীমা ১৫ বছর এবং দীর্ঘ সময় সরকারি ভাতা গ্রহণকারীদের ক্ষেত্রে ২০ বছর পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাবও রয়েছে।

যদিও শাবানা মাহমুদ এসব কঠোর পদক্ষেপের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন, লেবার পার্টির বহু সংসদ সদস্য ইতোমধ্যে এর বিরোধিতা করেছেন। তাদের মতে, নতুন নিয়ম অতীত থেকে যুক্তরাজ্যে থাকা অভিবাসীদের ওপর প্রয়োগ করা অন্যায় এবং এটি খেলার নিয়ম মাঝপথে বদলে দেওয়ার শামিল।

আগামী সপ্তাহে সরকার অভিবাসন ও আশ্রয়-সংক্রান্ত নতুন বিলও সংসদে উত্থাপন করতে যাচ্ছে, যেখানে আশ্রয়ের আবেদন প্রত্যাখ্যাত ব্যক্তিদের জোরপূর্বক ফেরত পাঠানোর ক্ষমতা বাড়ানোর প্রস্তাব রয়েছে। বিলটি ক্ষমতাসীন দলের ভেতর থেকেই উল্লেখযোগ্য বিরোধিতার মুখে পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সূত্রঃ বিবিসি

এম.কে

আরো পড়ুন

যুক্তরাজ্যে চক্ষু বিশেষজ্ঞের ঘাটতিকে দৃষ্টি শক্তি হারাতে বসেছে রোগীরা

উত্তর আয়ারল্যান্ড নিয়ে ঋষি সুনাকের নতুন চুক্তি

ইউক্রেনে ব্রিটিশ ত্রাণকর্মী নিখোঁজ: মরদেহ উদ্ধারের দাবি

নিউজ ডেস্ক