যুক্তরাজ্যে দক্ষ কর্মী ভিসায় থাকা কেউ কর্মক্ষেত্রে মানবপাচার বা মর্ডান স্লেভারির শিকার হলে তার ভিসার ধরন পরিবর্তন করে বিশেষ ব্যবস্থায় সেই ব্যক্তিকে ইউকেতে থাকার অনুমতি দেওয়ার সুযোগ রয়েছে বলে স্বীকার করেছে হোম অফিস।
ঘটনাটি দুইজন দক্ষ কর্মী ভিসাধারীকে নিয়ে। তারা যুক্তরাজ্যে কাজ করার সময় জোরপূর্বক শ্রমের শিকার হন। পরে হোম অফিস তাদের দুজনকেই আধুনিক দাসত্বের শিকার হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।
তবে সমস্যা তৈরি হয় তাদের বৈধ দক্ষ কর্মী ভিসা নিয়ে। যুক্তরাজ্যে থাকার বৈধ অনুমতি থাকায় হোম অফিস তাদের বিশেষ ব্যবস্থায় সাময়িক ভাবে থাকার অনুমতি দিতে অস্বীকৃতি জানায়।
এর ফলে তারা কঠিন পরিস্থিতিতে পড়ে যান। যে নিয়োগকর্তার অধীনে কাজ করার জন্য তারা দক্ষ কর্মী ভিসা পেয়েছিলেন, সেই কর্মসংস্থানের সময়ই তারা শোষণের শিকার হন। কিন্তু বৈধ ভিসা থাকার কারণে তারা অন্য ধরনের বিশেষ ব্যবস্থায় যাওয়ার অনুমতিও পাচ্ছিলেন না।
বিষয়টি আদালতে চ্যালেঞ্জ করেন ওই দুই ব্যক্তি। মামলাটি আর বনাম পিএস ও অন্য একজন বনাম স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব নামে পরিচিত। মামলার নম্বর জেআর-২০২৬-এলডিএস-০০০০১২।
মামলার পর হোম অফিস তাদের অবস্থান পরিবর্তন করে। তারা স্বীকার করে, কারও যুক্তরাজ্যে থাকার বৈধ অনুমতি থাকলেও প্রয়োজন হলে সেই অনুমতির ধরন পরিবর্তন করে মানবপাচারের শিকারদের জন্য নির্ধারিত বিশেষ ব্যবস্থায় থাকার অনুমতি বিবেচনা করা যেতে পারে।
২০২২ সালের জাতীয়তা ও সীমান্ত আইনের ৬৫(১)(খ) ধারায় বৈধভাবে যুক্তরাজ্যে থাকা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এই বিশেষ অনুমতি দেওয়ার ওপর একটি বাধা রয়েছে। তবে বর্তমান মামলায় হোম অফিস স্বীকার করেছে, বিদ্যমান ব্যবস্থায় ইউকেতে থাকার অনুমতি বিবেচনা করার ক্ষমতা রয়েছে।
মানবপাচার বা আধুনিক দাসত্বের শিকার ব্যক্তিদের জন্য এই বিশেষ থাকার অনুমতিকে সাধারণভাবে ভিকটিমস অব ট্রাফিকিং সারভাইভারস লিভ বা সংক্ষেপে ভিটিএস লিভ বলা হয়।
মামলার দুই আবেদনকারীকে পরিচয় গোপন রাখতে পিএস ও অন্য একজন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তারা দুজনই স্পনসর করা চাকরিতে দক্ষ কর্মী হিসেবে কাজ করছিলেন। সেই চাকরির সময় তাদের জোরপূর্বক শ্রমে বাধ্য করা হয়।
পরে হোম অফিসের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তাদের আধুনিক দাসত্বের শিকার হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেয়। কিন্তু বৈধ দক্ষ কর্মী ভিসা থাকার কারণে তাদের বিশেষ ব্যবস্থায় ইউকে থাকার অনুমতি দিতে প্রথমে অস্বীকৃতি জানানো হয়েছিল।
আইনি লড়াইয়ের পর সেই অবস্থান বদলেছে। এখন হোম অফিস স্বীকার করেছে, প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে দক্ষ কর্মী ভিসার ধরন পরিবর্তন করে ভিটিএস লিভের আবেদন বিবেচনা করা সম্ভব।
তবে এর অর্থ এই নয় যে মানবপাচারের শিকার হলেই প্রত্যেক দক্ষ কর্মী স্বয়ংক্রিয়ভাবে এই অনুমতি পাবেন। আবেদনকারীকে সংশ্লিষ্ট আইনি শর্ত পূরণ করতে হবে এবং তার পরিস্থিতি বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এই সিদ্ধান্তের ফলে এমন দক্ষ কর্মীদের জন্য নতুন একটি আইনি পথ তৈরি হলো, যারা যুক্তরাজ্যে চাকরির জন্য এসে সেই চাকরির মধ্যেই শোষণ বা আধুনিক দাসত্বের শিকার হয়েছেন।
সূত্রঃ ফ্রি মুভমেন্ট
এম.কে

