যুক্তরাজ্যে হেলথ অ্যান্ড কেয়ার ওয়ার্কার ভিসায় আবেদন করতে ইচ্ছুক বিদেশি কর্মীদের জন্য নতুন বেতনসীমা কার্যকর হয়েছে। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, এই ভিসার আওতায় আবেদনকারীদের সাধারণভাবে বছরে কমপক্ষে £৩১,৩০০ বেতন পেতে হবে। তবে এটি সব পদের জন্য একক নির্ধারিত অঙ্ক নয়; সংশ্লিষ্ট পদের সরকারি “গোয়িং রেট” যদি এর চেয়ে বেশি হয়, তাহলে সেই উচ্চতর বেতনই প্রযোজ্য হবে।
যুক্তরাজ্য সরকারের প্রকাশিত গাইডলাইনে বলা হয়েছে, আবেদনকারীদের বেতন £৩১,৩০০ অথবা তাদের চাকরির নির্ধারিত গোয়িং রেট—যেটি বেশি হবে—সেই পরিমাণ হতে হবে। অর্থাৎ, কোনো নির্দিষ্ট স্বাস্থ্যসেবা পদের বাজারভিত্তিক সরকারি বেতনসীমা যদি £৩১,৩০০-এর বেশি হয়, তাহলে নিয়োগকর্তাকে সেই অঙ্কেই বেতন দিতে হবে।
এই নিয়মের ফলে স্বাস্থ্য ও সেবাখাতের বিভিন্ন পেশায় বেতনসীমা একই থাকবে না। নার্স, স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপক, কেয়ার ম্যানেজারসহ কিছু পদের জন্য আলাদা গোয়িং রেট নির্ধারিত রয়েছে। ফলে ভিসার আবেদন করার আগে প্রার্থীকে তার পদের নির্দিষ্ট বেতনসীমা যাচাই করতে হবে।
তবে সব আবেদনকারীকেই £৩১,৩০০ বেতন পেতে হবে—এমন নয়। সরকার কিছু ক্ষেত্রে ছাড়ের সুযোগ রেখেছে। ২৬ বছরের কম বয়সী নতুন আবেদনকারী, পেশাগত প্রশিক্ষণরত ব্যক্তি, প্রাসঙ্গিক পিএইচডিধারী বা নির্দিষ্ট বৈজ্ঞানিক পোস্টডক্টরাল পদে কর্মরত ব্যক্তিরা নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলে বছরে £২৫,০০০ বা £২৮,২০০ বেতনের ভিত্তিতেও আবেদন করতে পারবেন। তবে এসব ক্ষেত্রেও সংশ্লিষ্ট পদের নির্ধারিত বেতনসীমার নির্দিষ্ট শতাংশ পূরণ করতে হবে।
এদিকে এনএইচএসের জাতীয় বেতন কাঠামোর আওতাভুক্ত অনেক স্বাস্থ্য পেশায় ভিন্ন নিয়ম বহাল রয়েছে। এসব পদে সাধারণ ন্যূনতম বেতন £২৫,০০০ থেকে শুরু হতে পারে, তবে সংশ্লিষ্ট জাতীয় বেতন স্কেল অনুসরণ করা বাধ্যতামূলক।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিবর্তনের উদ্দেশ্য হলো যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্য ও সামাজিক সেবাখাতে বিদেশি কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে বেতন কাঠামোকে আরও স্পষ্ট করা এবং স্পনসর প্রতিষ্ঠানগুলোকে সরকারি বেতনসীমা কঠোরভাবে অনুসরণে বাধ্য করা। ফলে ভিসার আবেদন জমা দেওয়ার আগে নিয়োগপত্রে উল্লেখিত বেতন সরকারি শর্ত পূরণ করছে কি না, তা নিশ্চিত করা এখন আগের চেয়ে আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
সূত্রঃ লিজিট.এনজি
এম.কে

