7.3 C
London
February 12, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যে ১৬ বছরের নিচে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধে লেবার এমপিদের আহ্বান

১৬ বছরের নিচে শিশুদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা আরোপের জন্য প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন লেবার পার্টির ৬০ জনেরও বেশি সংসদ সদস্য।

 

রোববার পাঠানো এক খোলা চিঠিতে ৬১ জন এমপি অভিযোগ করেন, ধারাবাহিক সরকারগুলো অনিয়ন্ত্রিত ও আসক্তিকর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে তরুণদের সুরক্ষায় পর্যাপ্ত পদক্ষেপ নেয়নি।

চিঠিতে এমপিরা অস্ট্রেলিয়ার উদাহরণ অনুসরণের আহ্বান জানান, যেখানে গত ডিসেম্বরে ১৬ বছরের নিচে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হয়েছে। তারা উল্লেখ করেন, ডেনমার্ক, ফ্রান্স, নরওয়ে, নিউজিল্যান্ড ও গ্রিসও একই ধরনের আইন প্রণয়নের পথে রয়েছে। এ অবস্থায় যুক্তরাজ্য এই ইস্যুতে পিছিয়ে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে বলে তারা সতর্ক করেন।

প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমার এখনো সরাসরি নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি নাকচ করেননি। তিনি বলেছেন, “সব বিকল্পই টেবিলে রয়েছে।” এরই মধ্যে আগামী সপ্তাহে হাউস অব লর্ডসে লিবারেল ডেমোক্র্যাটদের একটি প্রস্তাবের ওপর ভোট হওয়ার কথা রয়েছে, যেখানে চলচ্চিত্রের মতো বয়সভিত্তিক রেটিংয়ের মাধ্যমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ আরোপের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

চিঠিতে বলা হয়, এমপিরা তাদের নির্বাচনী এলাকাগুলোতে একই ধরনের উদ্বেগ শুনছেন। অনেক অভিভাবক ও নাগরিক জানিয়েছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অতিরিক্ত প্রভাবের কারণে শিশুরা উদ্বিগ্ন ও অসন্তুষ্ট হয়ে পড়ছে, পড়াশোনায় মনোযোগ হারাচ্ছে এবং সুস্থভাবে বেড়ে ওঠার জন্য প্রয়োজনীয় সামাজিক দক্ষতা অর্জন করতে পারছে না।

এই চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন শিক্ষা বিষয়ক সিলেক্ট কমিটির চেয়ারম্যান হেলেন হেইস, সাবেক হুইপ ভিকি ফক্সক্রফট, সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ক্যাথরিন ম্যাককিনেল এবং সাবেক শ্যাডো ক্যাবিনেট মন্ত্রী রিচার্ড বারগনসহ বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী লেবার নেতা। চিঠিটির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে প্লাইমাউথ মুর ভিউয়ের এমপি ফ্রেড থমাসের নেতৃত্বে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষেধাজ্ঞা নিয়ে রাজনৈতিক চাপ ক্রমেই বাড়ছে। গত সপ্তাহে কনজারভেটিভ পার্টির নেতা কেমি ব্যাডেনক ঘোষণা দেন, তার দল আগামী সাধারণ নির্বাচনে জয়ী হলে ১৬ বছরের নিচে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধ করা হবে।

অন্যদিকে, লিবারেল ডেমোক্র্যাটদের প্রস্তাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মগুলোকে বয়সভিত্তিক রেটিংয়ের আওতায় আনার কথা বলা হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, আসক্তিকর অ্যালগরিদমিক ফিড ব্যবহার করে বা অনুপযুক্ত কনটেন্ট হোস্ট করে—এমন প্ল্যাটফর্মগুলো কেবল ১৬ বছরের বেশি বয়সীদের জন্য সীমিত থাকবে। আর যেসব সাইটে চরম সহিংসতা বা পর্নোগ্রাফিক কনটেন্ট রয়েছে, সেগুলো কেবল প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য নির্ধারিত হবে।

তবে ১৬ বছরের নিচে সবার জন্য একযোগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধ করার প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছে বেশ কয়েকটি শিশু কল্যাণ ও অনলাইন নিরাপত্তা সংস্থা। এনএসপিসিসি, চাইল্ডনেট এবং মলি রোজ ফাউন্ডেশনসহ ৪২টি সংস্থা ও ব্যক্তি যৌথ বিবৃতিতে বলেন, এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা ভুল সমাধান হতে পারে এবং এতে মিথ্যা নিরাপত্তাবোধ তৈরি হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

তাদের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধ করলে শিশুরা ও সংশ্লিষ্ট ঝুঁকিগুলো অনলাইনের অন্য প্ল্যাটফর্মে সরে যেতে পারে। তারা জোর দিয়ে বলেন, বিদ্যমান আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ করা এবং বয়সভেদে ঝুঁকিপূর্ণ ফিচারগুলোর ওপর কার্যকর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করাই শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার সঠিক পথ।

২০১৭ সালে অনলাইনে ক্ষতিকর কনটেন্ট দেখার পর মারা যাওয়া কিশোরী মলি রাসেলের বাবা ইয়ান রাসেলও নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন। তিনি বলেছেন, নতুন করে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের বদলে সরকারের উচিত বিদ্যমান আইন কার্যকর করা, কারণ হঠাৎ আরোপিত নিষেধাজ্ঞা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিণতি ডেকে আনতে পারে।

সূত্রঃ বিবিসি

এম.কে

আরো পড়ুন

যুক্তরাজ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় তৈরি রিপোর্টে কঠোর সতর্কবার্তা বিচারকের

যুক্তরাজ্য প্রবাসীদের এনআইডি আবেদন ৫ জুনের মধ্যে নিষ্পত্তির নির্দেশ

শিক্ষার্থীর অভাবে বন্ধের পথে যুক্তরাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো!