TV3 BANGLA
আন্তর্জাতিক

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অর্থায়ন হারাচ্ছে ইসরাইলঃ চলতি বছরের শেষেই বন্ধ হচ্ছে সহায়তা

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইসরাইলকে বছরে প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলারের সামরিক সহায়তা দেওয়া বন্ধ করতে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে তার সমঝোতা হয়েছে। চলতি ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ এই অর্থায়ন বন্ধ করবে ওয়াশিংটন। তবে ইসরাইলের কাছে অস্ত্র বিক্রি অব্যাহত থাকবে এবং দেশটির প্রয়োজন হলে যুক্তরাষ্ট্র সহযোগিতা করবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোটগ্রহণ চলাকালে ফক্স নিউজের ‘ফক্স অ্যান্ড ফ্রেন্ডস’ অনুষ্ঠানে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প এ ঘোষণা দেন। তবে কোন তহবিলের অর্থায়ন বন্ধ করা হবে এবং কী প্রক্রিয়ায় বছরের শেষ নাগাদ তা কার্যকর হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি তিনি।

ট্রাম্পের দাবি, কয়েক মাস আগেই নেতানিয়াহুর সঙ্গে এ বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমরা ইসরাইলকে বছরে ৪ বিলিয়ন ডলার দিই। কয়েক মাস আগে আমরা একমত হয়েছি যে এই অর্থ দেওয়া বন্ধ করব। চলতি বছরের শেষ নাগাদ আমরা ইসরাইলকে অর্থ দেওয়া বন্ধ করব। তবে ইসরাইলের প্রয়োজন হলে আমরা তাদের সহায়তা করব।’

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের মধ্যে বিদ্যমান সামরিক সহায়তা চুক্তি অনুযায়ী, ২০১৯ থেকে ২০২৮ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ইসরাইলকে মোট ৩৮ বিলিয়ন ডলারের সামরিক সহায়তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি রয়েছে ওয়াশিংটনের। এর আওতায় প্রতিবছর ৩ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার সহায়তা দেওয়ার কথা। ফলে চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই ট্রাম্পের অর্থায়ন বন্ধের ঘোষণা কীভাবে কার্যকর হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

২০২০ সালে মার্কিন কংগ্রেস ইসরাইলের জন্য অর্থায়নের অনুমোদন দিয়ে আইন পাস করে। তবে অর্থ ছাড় ও বিতরণের জন্য সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদকে প্রতিবছর বরাদ্দ বিল পাস করতে হয়। অন্যদিকে ২০২৮ সালের সেপ্টেম্বরে বর্তমান সমঝোতা স্মারকের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর ইসরাইলকে সামরিক সহায়তা কীভাবে দেওয়া হবে, তা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চলছে।

গাজা যুদ্ধ শুরুর পর ইসরাইলকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তা দেওয়ার বিষয়ে মার্কিন জনগণের মধ্যে বিরোধিতা বেড়েছে। বিশেষ করে ডেমোক্র্যাট ভোটারদের মধ্যে এই মনোভাব আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

জুনে কুইনিপিয়াক বিশ্ববিদ্যালয়ের এক জরিপে দেখা যায়, ৪৮ শতাংশ মার্কিন ভোটার মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্র ইসরাইলকে অতিরিক্ত সহায়তা দিচ্ছে। ডেমোক্র্যাট ভোটারদের মধ্যে এই হার ৬৬ শতাংশ। ২০১৭ সালে একই প্রশ্ন করা হলে সামগ্রিক ভোটারদের মধ্যে মাত্র ১৬ শতাংশ এবং ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে ২০ শতাংশ এমন মত দিয়েছিলেন।

ইসরাইলের প্রতি সমর্থন কমে যাওয়ার প্রভাব মার্কিন নির্বাচনী রাজনীতিতেও পড়ছে। দেশটির সমালোচক হিসেবে পরিচিত প্রার্থীরা ডেমোক্র্যাটদের প্রাথমিক নির্বাচনে জয় পাচ্ছেন। এমনকি মধ্যপন্থি আইনপ্রণেতারাও ইসরাইলকে কয়েক দশক ধরে দেওয়া মার্কিন সামরিক সহায়তার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন।

মিশিগান থেকে সিনেট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আবদুল এল-সায়েদ। নির্বাচিত হলে তিনি হবেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম মুসলিম সিনেটর। ইসরাইলকে শর্তহীন সামরিক সহায়তা দেওয়ার বিরোধিতা করে তিনি বলেছেন, মার্কিন অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে আগে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের প্রয়োজনকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত।

এল-সায়েদের সমালোচনা করে ট্রাম্প বলেন, কিছু বামপন্থি রাজনীতিক ইসরাইলকে অর্থায়নের বিষয়টি ব্যবহার করে তার রিপাবলিকান সহকর্মীদের রাজনৈতিকভাবে আক্রমণ করছেন। ইসরাইলের এই অর্থের প্রয়োজন নেই বলে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়ন বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

ট্রাম্পের ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ বা মাগা আন্দোলনের কিছু সমর্থকের মধ্যেও ইসরাইলের প্রতি সমালোচনা বাড়ছে। তাদের অভিযোগ, ইসরাইল মার্কিন প্রেসিডেন্টকে বিভ্রান্ত করেছে। ২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারে বিদেশে সামরিক হস্তক্ষেপ এড়িয়ে চলার প্রতিশ্রুতি দেওয়া ট্রাম্পকে ইসরাইল বিশ্বাস করিয়েছিল, ইরানকে সহজেই যুদ্ধে পরাজিত করা সম্ভব।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তার ভবিষ্যৎ নিয়ে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুও সতর্ক অবস্থানের কথা জানিয়েছেন। অক্টোবরে ইসরাইলের একটি টেলিভিশন চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, কয়েক দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে পাওয়া বিপুল সামরিক সহায়তা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে, এমনটি ধরে নেওয়া ঠিক হবে না।

নেতানিয়াহু বলেন, ‘আপনারা যদি মনে করেন, আমেরিকার কাছ থেকে পাওয়া কয়েক দশক বিলিয়ন ডলারের সহায়তা আমরা পেতে থাকব, তাহলে প্রস্তুত হন এবং এই বাস্তবতায় অভ্যস্ত হয়ে যান যে এটি আর ঘটবে না, কারণ আমেরিকা বদলে গেছে।’

অন্যদিকে ২৭ অক্টোবরের নির্বাচনের পর ইসরাইলের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতেও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। নির্বাচনে নেতানিয়াহুর দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারালেও বিরোধীরা তাকে ক্ষমতাচ্যুত করার সুস্পষ্ট পথ তৈরি করতে পারেনি। ফলে নতুন সরকার গঠন নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ট্রাম্পের ঘোষণার বিষয়ে রয়টার্স হোয়াইট হাউস ও নেতানিয়াহুর কার্যালয়ের কাছে মন্তব্য জানতে চাইলেও কোনো পক্ষই তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া দেয়নি। তবে বিদ্যমান সামরিক চুক্তির মেয়াদ, মার্কিন কংগ্রেসের অনুমোদন এবং ভবিষ্যতে অস্ত্র সরবরাহের বিষয়গুলো কীভাবে সমন্বয় করা হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

সূত্রঃ রয়টার্স \ এপি

এমকে

আরো পড়ুন

মুইজ্জুকে নিয়ে ভারতের ভয়ংকর ষড়যন্ত্রের তথ্য ফাঁস করল ওয়াশিংটন পোস্ট

বারমুডা কেন এখনো ডুবে যায়নি? কোটি বছরের রহস্য উন্মোচন করলেন বিজ্ঞানীরা

কাবা শরিফে ইফতার নিয়ে বিশেষ নির্দেশনা