19.2 C
London
August 28, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

রাশিয়ার হুমকির মুখে ব্রিটিশ পরমাণু প্রতিরোধে অর্থ দিতে পারে জার্মানি

ইউরোপের নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলেছে। রাশিয়ার সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কা এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইউরোপে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি কমানোর হুমকির মধ্যে ব্রিটেনের ট্রাইডেন্ট পরমাণু প্রতিরোধ কর্মসূচিতে অর্থ সহায়তা দেওয়ার বিষয়ে জার্মানি আলোচনা করছে বলে খবর প্রকাশ হয়েছে। একই সঙ্গে ইউরোপের বিদ্যমান ব্রিটিশ ও ফরাসি পরমাণু সক্ষমতার সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত হওয়ার বিষয়টিও বিবেচনা করছে বার্লিন।

বিষয়টি সামনে এসেছে এমন এক সময়ে, যখন ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা ছাতার ওপর দীর্ঘদিনের নির্ভরতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাশিয়া ন্যাটোর কোনো একটি সদস্যদেশের ওপর হামলা চালিয়ে জোটটির প্রতিক্রিয়া যাচাই করতে পারে—এমন আশঙ্কা মার্কিন গোয়েন্দা মহলেও তৈরি হয়েছে।

জার্মানির সম্ভাব্য পরিকল্পনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো নিজস্ব পরমাণু অস্ত্র তৈরি না করে ব্রিটেন ও ফ্রান্সের বিদ্যমান পরমাণু প্রতিরোধ ব্যবস্থার সঙ্গে সমন্বয় বাড়ানো। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর ভাষ্য অনুযায়ী, ইউরোপের বিদ্যমান পরমাণু শক্তিগুলো যেন নিজেদের সক্ষমতা আরও বাড়াতে পারে, সেটিই বার্লিনের প্রধান আগ্রহ।

এই সহযোগিতা শুধু অর্থায়নের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নাও থাকতে পারে। জার্মানি ব্রিটিশ পরমাণু প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে প্রচলিত সামরিক সক্ষমতার মাধ্যমেও সহায়তা করতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এমনকি ব্রিটিশ পরমাণু ঘাঁটি ও গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা সুরক্ষায় জার্মানির প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েনের সম্ভাবনাও আলোচনায় রয়েছে।

স্কটল্যান্ডের ফাসলেন নৌঘাঁটি এ ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। ব্রিটিশ নৌবাহিনীর পরমাণু অস্ত্রবাহী সাবমেরিন বহরের প্রধান ঘাঁটি এটি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জার্মান পরিচালিত প্যাট্রিয়ট ব্যবস্থা সেখানে মোতায়েন করা হলে ব্রিটিশ পরমাণু প্রতিরোধ সক্ষমতার গুরুত্বপূর্ণ একটি স্থাপনা অতিরিক্ত আকাশ প্রতিরক্ষা সুরক্ষা পেতে পারে।

জার্মানির এই অবস্থানের পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ ভূমিকা নিয়ে অনিশ্চয়তা বড় কারণ হিসেবে উঠে এসেছে। ট্রাম্প ইউরোপের নিরাপত্তায় মার্কিন অবদানের বিনিময়ে ইউরোপীয় দেশগুলোর আরও বেশি দায়িত্ব নেওয়ার কথা বলেছেন এবং ইউরোপে মার্কিন সেনা উপস্থিতি কমানোর হুমকিও দিয়েছেন। ফলে ইউরোপীয় নীতিনির্ধারকদের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা পরিকল্পনা নিয়ে নতুন করে ভাবনা শুরু হয়েছে।

এক জার্মান কূটনৈতিক সূত্রের বক্তব্য অনুযায়ী, ইউরোপীয় নীতিনির্ধারকদের মধ্যে এখন প্রশ্ন উঠছে—আগামী দিনে যুক্তরাষ্ট্র ঠিক কী করবে। আগে ইউরোপের নিরাপত্তা পরিকল্পনায় যুক্তরাষ্ট্র প্রয়োজনে তার পরমাণু সক্ষমতা দিয়ে সহযোগিতা করবে—এমন ধারণা গুরুত্বপূর্ণ ছিল। বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই নিশ্চয়তা আর আগের মতো নেই বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এরই মধ্যে ব্রিটেনের ট্রাইডেন্ট ব্যবস্থাকে ইউরোপের বৃহত্তর নিরাপত্তা কাঠামোর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখার আলোচনা জোরদার হয়েছে। নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, ইউরোপের প্রতিরক্ষায় বিদ্যমান পরমাণু সক্ষমতাগুলো ভবিষ্যতে আরও বড় ভূমিকা পালন করতে পারে এবং ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে এ বিষয়ে সহযোগিতা বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে।

বিষয়টির সঙ্গে রাশিয়াকে ঘিরে সাম্প্রতিক গোয়েন্দা তৎপরতাও যুক্ত হয়েছে। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার পরিচালক জন র‍্যাটক্লিফ সম্প্রতি মস্কো সফর করেছেন। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ন্যাটোর কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য রুশ হামলা ঠেকানো এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখাই ওই আলোচনার অন্যতম বিষয় ছিল। ২০২১ সালের পর এই প্রথম কোনো সিআইএ পরিচালক রাশিয়া সফর করলেন।

তবে জার্মানির সম্ভাব্য অংশগ্রহণকে সরাসরি জার্মান পরমাণু অস্ত্র কর্মসূচি হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ঐতিহাসিক অভিজ্ঞতা, দেশের শক্তিশালী পরমাণু অস্ত্রবিরোধী আন্দোলন এবং পরমাণু অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তির সদস্য হওয়াসহ বিভিন্ন কারণে জার্মানি ঐতিহাসিকভাবে নিজস্ব পরমাণু অস্ত্র তৈরির পথে যায়নি। বর্তমান আলোচনার লক্ষ্য বরং ব্রিটেন ও ফ্রান্সের বিদ্যমান সক্ষমতার সঙ্গে জার্মানির নিরাপত্তা সহযোগিতা বাড়ানো।

ফ্রান্সের সঙ্গেও জার্মানির একই ধরনের আলোচনা চলছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এর ফলে ব্রিটেন, ফ্রান্স ও জার্মানিকে ঘিরে ইউরোপের প্রতিরক্ষা সহযোগিতার একটি নতুন কাঠামো গড়ে ওঠার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এতে ইউরোপের নিরাপত্তায় যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নিজেদের কৌশলগত সক্ষমতা বাড়ানোর চেষ্টা আরও স্পষ্ট হতে পারে।

তবে ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় স্পষ্ট করেছে, দেশটির পরমাণু প্রতিরোধ ব্যবস্থা জাতীয় নিরাপত্তার অন্যতম ভিত্তি এবং এটি প্রতিনিয়ত যুক্তরাজ্য ও ন্যাটো মিত্রদের সুরক্ষায় ভূমিকা রাখে। মন্ত্রণালয়ের বক্তব্য অনুযায়ী, ব্রিটেনই ইউরোপের একমাত্র ন্যাটো মিত্র, যে নিজের পরমাণু প্রতিরোধ সক্ষমতাকে ন্যাটোর প্রতিরক্ষায় ব্যবহারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

সব মিলিয়ে, জার্মানির ট্রাইডেন্টে সম্ভাব্য অর্থায়ন শুধু একটি প্রতিরক্ষা প্রকল্পে আর্থিক অংশগ্রহণের বিষয় নয়; এটি ইউরোপের নিরাপত্তা কৌশলে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিতও দিতে পারে। রাশিয়ার সামরিক হুমকি, যুক্তরাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ ভূমিকা নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং ইউরোপের নিজস্ব প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানোর প্রয়োজন—এই তিনটি বিষয় একসঙ্গে ব্রিটেন, ফ্রান্স ও জার্মানির মধ্যে কৌশলগত সহযোগিতাকে নতুন মাত্রায় নিয়ে যেতে পারে।

সূত্রঃ দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট

এম.কে

আরো পড়ুন

বেশি ‘প্রাণনাশক’ করোনার নতুন ধরন

নিউজ ডেস্ক

করোনার তৃতীয় ঢেউয়ের আশঙ্কার কথা জানালেন ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক

ব্রিটেন ভ্রমণে ‘ট্রাফিক লাইট’ পদ্ধতি বাতিল হচ্ছে অক্টোবরে

অনলাইন ডেস্ক