TV3 BANGLA
আন্তর্জাতিক

রিপাবলিকানদের পক্ষে ৫০ কোটি ডলার ঢেলে এখন তদন্তের মুখে এলন মাস্কের সাম্রাজ্য

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থীদের জেতাতে বিপুল অর্থ ব্যয় করেও শেষ পর্যন্ত রাজনৈতিকভাবে বড় ধাক্কা খেলেন বিশ্বের শীর্ষ ধনকুবের ইলন মাস্ক। নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের ঐতিহাসিক বিজয়ের পর এবার মাস্কের ব্যবসায়িক সাম্রাজ্য ও সরকারি চুক্তি নিয়ে তদন্তের প্রস্তুতি নিচ্ছেন কংগ্রেসের ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতারা। পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে মাস্ক হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, তার সঙ্গে যারা বিরোধে জড়াবেন, তাদের পরিণতি ভোগ করতে হবে।

২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের পক্ষে মাস্কের ব্যয় করা অর্থের পরিমাণ প্রায় ৫০ কোটি ডলারের কাছাকাছি বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। এনডিটিভির প্রতিবেদনে তার ব্যয়ের পরিমাণ প্রায় ৫০ কোটি ডলার উল্লেখ করা হলেও রয়টার্স ও অন্যান্য সংবাদমাধ্যমের হিসাব অনুযায়ী, নির্বাচনের বিভিন্ন পর্যায়ে তার ব্যয়ের পরিমাণ ৩৬ কোটি ৬৬ লাখ থেকে ৪৭ কোটি ৪০ লাখ ডলারের মধ্যে ছিল। এর ফলে এবারের নির্বাচনে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বৃহৎ ব্যক্তিগত রাজনৈতিক অর্থদাতায় পরিণত হন।

২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বিজয়ী করতেও ২৫ কোটি ডলারের বেশি অর্থ ব্যয় করেছিলেন মাস্ক। ট্রাম্পের সঙ্গে রাজনৈতিক জোটের ধারাবাহিকতায় এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনেও রিপাবলিকান প্রার্থীদের সমর্থনে বিপুল অর্থ ঢালেন তিনি। বিশেষ করে টেক্সাসে রিপাবলিকানদের অবস্থান ধরে রাখতে বড় অঙ্কের অর্থ বিনিয়োগ করেন মাস্ক। অঙ্গরাজ্যটিতে তার ব্যক্তিগত বাসস্থান এবং টেসলা ও স্পেসএক্সের গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম রয়েছে।

৩ নভেম্বর ভোট গ্রহণের আগে এক্সে অনুসারীদের রিপাবলিকান প্রার্থীদের পক্ষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান মাস্ক। কিন্তু ফলাফল তার প্রত্যাশার বিপরীত হয়। প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট—কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ পায় ডেমোক্র্যাটরা। টেক্সাসেও তিন দশকের বেশি সময় পর রিপাবলিকানদের গভর্নর পদ হারানোর ঘটনা ঘটে। ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জিনা হিনোজোসার কাছে পরাজিত হন গ্রেগ অ্যাবট।

নির্বাচনের পর মাস্কের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্ভাব্য তদন্ত নিয়ে আলোচনা জোরালো হয়। এক্সে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনের প্রতিক্রিয়ায় মাস্ক লেখেন, ‘তলোয়ার দিয়ে যে বাঁচে, তলোয়ারেই তার মৃত্যু হয়।’ এরপর তিনি হুঁশিয়ারি দেন, যারা তার সঙ্গে বিরোধে জড়াবেন, তাদের পেছনে কারা কলকাঠি নাড়ছেন, তা তিনি খুঁজে বের করবেন। শুধু তাদের অনুসারীদের নয়, বরং নেপথ্যে থাকা মূল ব্যক্তিদেরও মোকাবিলা করবেন বলে জানান তিনি।

মাস্কের মালিকানাধীন বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টেসলা এবং মহাকাশ গবেষণা ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স এখন নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় চাপে পড়তে পারে। নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর প্রাক্‌-বাজার লেনদেনে স্পেসএক্সের শেয়ারের দাম ৩ দশমিক ৮ শতাংশ এবং টেসলার শেয়ারের দাম ৩ দশমিক ৬ শতাংশ কমে যায়। বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সরকারি অনুমোদন, চুক্তি ও ব্যবসায়িক কার্যক্রম নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ডেটা সেন্টার নির্মাণের অনুমোদন প্রক্রিয়া ধীর হয়ে গেলে মাস্কের ব্যবসায়িক পরিকল্পনা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। বিশেষ করে স্পেসএক্সের সম্ভাব্য প্রাথমিক গণপ্রস্তাব বা আইপিওর আগে বিনিয়োগকারীদের সামনে তুলে ধরা বিশাল বাজার সম্ভাবনা বাস্তবায়নে বাধা সৃষ্টি হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির সম্প্রসারণ এবং মহাকাশভিত্তিক ডেটা সেন্টার নির্মাণের পরিকল্পনাও রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল।

ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতারা এর আগেও মাস্কের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করেছেন। ইউক্রেনের সামরিক বাহিনীর স্যাটেলাইট যোগাযোগসেবা ব্যবহারে সীমাবদ্ধতা আরোপ, ট্রাম্প প্রশাসনের সরকারি দক্ষতা বিভাগে দায়িত্ব পালনকালে ব্যাপক কর্মী ছাঁটাই এবং তার প্রতিষ্ঠানগুলোর সরকারি চুক্তি ও ভর্তুকি পাওয়ার বিষয়গুলো নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তারা। মাস্ক সরকারি দায়িত্বে থাকার সময় নিজের ব্যবসায়িক স্বার্থকে প্রভাবিত করেছেন কি না, সেটিও তদন্তের সম্ভাব্য বিষয়।

নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের জয়ের পর প্রতিনিধি পরিষদের ওভারসাইট কমিটির সম্ভাব্য চেয়ারম্যান রবার্ট গার্সিয়া ট্রাম্প, তার পরিবার ও প্রশাসনের উদ্দেশে সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তিনি তাদের আইনজীবী নিয়োগের পরামর্শ দেন। সরকারি কর্মকাণ্ডের জবাবদিহি নিশ্চিত করার দায়িত্বে থাকা এই কমিটির সাক্ষীদের তলব, সরকারি নথি চাওয়া এবং সমন জারির মাধ্যমে তথ্য ও সহযোগিতা আদায়ের ক্ষমতা রয়েছে।

নতুন কংগ্রেস দায়িত্ব নেওয়ার পর মাস্কের সরকারি চুক্তি, ভর্তুকি, ব্যবসায়িক স্বার্থ এবং ট্রাম্প প্রশাসনে তার ভূমিকা নিয়ে তদন্ত আরও বিস্তৃত হতে পারে। ফলে রিপাবলিকানদের নির্বাচনী প্রচারে বিপুল অর্থ ব্যয় করেও রাজনৈতিকভাবে সুবিধা আদায় করতে না পারা মাস্কের জন্য এখন নতুন এক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সূত্রঃ রয়টার্স

এমকে

আরো পড়ুন

ভারত-পাকিস্তান সংঘাতে বাজিমাত করল তুর্কি ড্রোন

জাপানের পর্যটন খাতে ২০ শতাংশ কর্মী সংকট

ট্রাম্পের আক্রমণের জবাবে সাদিক খানঃ আমি ওনার মাথার ভেতর ভাড়া ছাড়াই থাকি

নিউজ ডেস্ক